বর্ণনাঃ বাবা-মায়ের ঝগড়ার কারণে পরিবারে প্রচণ্ড অশান্তি হত

চিকিৎসা, ভালোবাসা, যত্ন ও মানসিক সহায়তায় অবসাদ কাটিয়ে ওঠা যায়।

আমুদে এবং উৎসাহী ছেলে ছিল অভয়। ভাল নম্বর নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ কোরে সে নিজের পছন্দের কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্যে ভর্তি হয়। এর ফলে খুবই খুশী ছিল। প্রথম মাস তিন-চারেক সব ঠিক-ঠাক গেলেও ক্রমশ অভয় আর পড়াশুনার চাপ সামলাতে পারছিল না। মনোযোগ হারিয়ে ফেলার ফলে সে কলেজ কামাই করা শুরু করে দিল। আলসেমি এবং জেদ মনে করে বাবা-মা তাঁকে জোর করে কলেজে পাঠাত। কিন্তু অভয় কলেজ না গিয়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়িয়ে সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরত। তাঁর এখন কোন কিছুই ভাল লাগত না। নিজেরও যত্ন নিত না। সারাদিন নিজের ঘরে ঘুমত, কারও সাথে কথাও বলত না। তাঁর মা এই পরিস্থিতিতে চিন্তিত হয়ে অভয়কে নিয়ে একজন মনোবিদের কাছে যান। মনোবিদ সব কিছু শুনে বলে অভয় ডিপ্রেশনে বা অবসাদে ভুগছে এবং সেই অনুযায়ী তাঁকে অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্টস দেন। কিন্তু এতেও কোনও লাভ হয় না।

বাবার ঘ্যান ঘ্যান সহ্য করতে না পেরে একদিন অভয় বাড়ি থেকে পালায়, এবং নিজের পিসির বাড়ি গিয়ে ওঠে। তিনি অভয়কে অত্যন্ত ভালবাসতেন। সব কিছু অভয়ের কাছ থেকে শুনে তিনি আসল সমস্যা বুঝতে পারলেন। বাড়িতে বাবা-মায়ের ঝগড়া, তাঁকে নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ক্রমাগত সমালোচনার ফলে অভয় মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। নিজেকে কুলাঙ্গার এবং অপদার্থ মনে করে সে। অভয়ের পিসি এই অবস্থায় মানসিক ভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ান।

মাস ছয়েকের মধ্যেয় অভয় আগের চেয়ে অনেকটা ভাল হয়ে যায়। আবার পড়াশুনাও শুরু করে। তাঁর বাবা-মাও নিজের ভুল বুঝতে পারেন। অভয় এখন বড় হয়েছে।। তাঁকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন।

এই কাহিনীতে অভয় নিজের পিসির ভালোবাসা, যত্ন ও মানসিক সহায়তার কারণে সেরে ওঠে যা কোনও চিকিৎসার চেয়ে কম কিছু না। ব্যক্তি-বিশেষের ওপর নির্ভর করে অবসাদের আলাদা আলাদা চিকিৎসা হয়। এবং এই চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের লোকজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিভিন্ন রোগীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এই কাল্পনিক বর্ণনাটি বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানোর জন্যে তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনও ব্যক্তি বিশেষের অভিজ্ঞতা নয়।

 


আরও পড়ুন