আত্মহত্যার বিষয়ে কিভাবে কথা বলবেন

আত্মহত্যা অনেকগুলো কারনের ফল হতে পারে। আত্মহত্যার কারন নিয়ে জল্পনাকল্পনা করা বিবেচনাহীন ব্যবহার, এবং ঘটনাটির গুরুত্বকে খেলো করে দেয়।।
আত্মহত্যার বিষয়ে কিভাবে কথা বলবেন
 
আত্মহত্যা এমন একটা বিষয় যেটা নিয়ে সমাজ আলোচনা করতে নারাজ। এমন ব্যক্তি যাদের পরিবার বা পরিচিত মহলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, তাদের অধিকাংশ সময় মনে হয় যেন তারা অসহায় আর সাধারণ সমাজ থেকে তাদের বহিষ্কৃত করা হয়েছে। তাদের মনে এই ভয়ও থাকে যে সমাজ তাদের বিচার করছে। তাই, একদিকে যেমন কুসংস্কার দূর করার জন্য আত্মহত্যার বিষয়ে আলোচনা করা খুবই জরুরী, অন্য দিকে এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে আলোচনা করার সময় মনে রাখা দরকার যে এটা একটা রোগ এবং তাই সংবেদনশীলতা থাকাটা প্রয়োজন।
আজকাল যে হারে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে চলেছে, হতেই পারে যে আমাদের চারপাশে, বা পরিচিত মহলে, এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এর গভীর প্রভাব পরিবার, বন্ধুবান্ধব আর পরিচিতদের মধ্যে পড়তে পারে, এবং তারা সাংঘাতিক মানসিক আঘাত আর দুঃখ অনুভব করতে পারেন। আত্মহত্যা নিয়ে আলচনার করার সময় নিচে লেখা কথাগুলো মনে রাখা উচিৎ।
  • আত্মহত্যার কারন সম্পর্কে জল্পনাকল্পনা করবেন না – আত্মহত্যা অনেকগুলো কারনের ফল হতে পারে, যা একসাথে ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দিচ্ছিল। আত্মহত্যার কারন নিয়ে জল্পনাকল্পনা করা বিবেচনাহীন ব্যবহার, এবং ঘটনাটির গুরুত্বকে খেলো করে দেয়। তাই আমাদের উচিৎ প্রয়াত মানুষটির ব্যক্তিগত বিষয়গুলির প্রতি সম্মান দেখানো।
  • পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবেন না – প্রয়াত ব্যক্তি ঠিক ভাবে আত্মহত্যা করেছেন সেই বিষয়ে আলোচনা করাও ওনার ব্যক্তিগত সত্বার অবমাননা করার সমান। তার সাথে, এতে তারাও প্রভাবিত হন যাদের নিজেদের মধ্যে এই প্রবণতা রয়েছে, এবং তাদের মাথায় পদ্ধতি নিয়ে নতুন ভাবে চিন্তাভাবনা শুরু হয়।
  • যাদের পরিবারের সদস্য আত্মহত্যা করেছেন, তাদের প্রয়োজন আপনার সহযোগিতার। যতক্ষণ না তারা এই বিষয়ে নিজে থেকে কথা বলছেন, আত্মহত্যা নিয়ে কথা বলবেন না – আত্মহত্যায় আঘাত পাওয়া ব্যক্তিরা একাকিত্ব অনুভব করেন আর এর সাথে জড়িত কলঙ্ক ওদের পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তোলে। এমন একজনকে সমবেদনা জানান কঠিন মনে হতেই পারে যার পরিবারের সদস্য বা বন্ধু আত্মহত্যা করেছে, কারন আপনি বুঝতে পারছেন না যে তার সাথে কি ভাবে কথা বলবেনএটা মনে রাখা দরকার যে এই সাংঘাতিক দুঃখের পরিস্থিতিতে তারা শুধু চাইছেন যে আপনি তাদের পাশে থাকুন।
  • “ও এটা কি করে করতে পারলো?” বা “একবারও নিজের পরিবারের কথা ভাবল না?” এই ধরনের কথা বলবেন না – এটা তৃতীয় আলোচ্য বিষয়ের সাথে জড়িত – বিচার করার চেষ্টা করবেন না, এবং ধরে নেবেন না যে আপনি বুঝতে পারছেন যে ও সেই সময় কোন পরিস্থিতির মধ্যে ছিল।
কেন “আত্মঘাতী”র মতো শব্দ ব্যবহার করা উচিৎ নয়।
 
আত্মহত্যার সাথে জড়িত কলঙ্ক নিঃশেষ করার জন্য দরকার আমরা যখন আত্মহত্যার বিষয়ে কথা বলি তখন সঠিক বাক্য ব্যবহার করার। “আত্মঘাতী” শব্দটি সেই যুগে ব্যবহার করা হতো যখন আত্মহত্যা করা অপরাধ ছিল। বর্তমান সময়ে এই নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে যে আত্মহত্যা করার খেয়াল কেন ব্যক্তির মাথায় আসে, এবং এই ঘটনা সম্পর্কে আমরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশী জানি। এই উন্নতির সাথে সাথে এটাও জরুরী যে আমরা যেন এই বিষয় সম্পর্কে সংবেদনশীল ভাবে আলোচনা করি, এবং আত্মহত্যার দরুন আঘাত পাওয়া কোনও ব্যক্তিকে অপমান না করি। তাই আত্মঘাতী বলার পরিবর্তে নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছে বলাটাই সমীচীন।

আরও পড়ুন