বর্ণনাঃ নিম্ন মানের বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতা স্কুল জীবনেই ধরা পড়ে

প্রথম থেকেই শিশুর বিকাশের মাপ দন্ডের দিকে নজর রেখে বাবা-মায়ের উচিৎ বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতার লক্ষণের প্রতি সজাগ থাকা এবং যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি সাহায্য চাওয়া।

স্কুলে ঠিকমতো পড়াশুনা করতে না পারার জন্য তাঁর শিক্ষকের পরামর্শ অনুযায়ী ৯ বছরের রাজেশকে তাঁর বাবা মা মনোবিদের কাছে নিয়ে যান। রাজেশের মায়ের প্রসবকালীন জটিলতা হয়েছিল এবং জন্মানোর বেশ কিছুক্ষণ পরে শিশু রাজেশ কেঁদেছিল। ওর বয়েস যখন ২ বছর তখন ও হাঁটতে শুরু করে এবং ৩ বছর বয়েসে প্রথম কথা বলতে আরম্ভ করে। ওর বাবা-মা ওর বিকাশের দেরী দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং স্থানীয় এক ডাক্তারের কাছে ওকে নিয়ে যান। ডাক্তার ওদেরকে আশ্বস্ত করেন যে রাজেশ ভালো হয়ে যাবে। ৬ বছর বয়সে যখন ও নিজের মল এবং মূত্র ত্যাগের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ অর্জন করে, তখন ওকে স্থানীয় এক সরকারি স্কুলে ভর্তি করা হয়। রাজেশের শিক্ষকরা লক্ষ্য করেন যে সহপাঠীদের তুলনায় ওর বিকাশের গতি অনেকটা মন্থর এবং এই কথাটা তাঁরা রাজেশের বাবা-মাকে বারবার জানান। এর পরেই রাজেশকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের শিশু মনোরোগ বিভাগে পরামর্শের জন্যও নিয়ে যাওয়া হয়।

পরীক্ষা করে দেখা যায় যে রাজেশের আই কিউ (বুদ্ধিবৃত্তি পরিমাপ) ৫৫ এবং ও নিম্ন মানের বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতা বা ইন্টেলেকচুয়াল ডিসএবিলিটি-তে ভুগছে। রাজেশের বাবা-মা ডাক্তারদের কাছে এই আশা নিয়ে গিয়েছিলেন যে রাজেশের মস্তিষ্কের সূক্ষ্মরূপে পরীক্ষা করে তাঁরা কোন অস্বাভাবিকতা খুঁজে পেয়ে ওষুধের সাহায্যে সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে সক্ষম হবেন, যার পরে রাজেশ স্কুলে নিজের সহপাঠীদের মতই ভালো ফল করতে পারবে।

সরকারি হাসপাতালের মনোবিদরা রাজেশের বাবা-মাকে বিকাশে বাধা সৃষ্টিকারী বিকার সম্পর্কে বিষদে জানান এবং তাঁদেরকে এই বিকার থেকে উৎপন্ন পড়াশুনার ক্ষেত্রে সমস্যার ব্যাপারে বোঝান। মনোবিদরা তাঁদেরকে জানান যে রাজেশকে পড়াশুনার সাথে-সাথে ঘরোয়া কাজ আর সামাজিক আচার ব্যবহার শেখাতে হবে, এবং আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য তাঁকে কি ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। তাঁর শিক্ষক কে একটা চিঠি লিখে তাঁর সমস্যার কথা জানানো হল এবং এও বলা হল যে সবাইকে ওর সাথে সহযোগিতা করে ওর উৎসাহ বাড়াতে হবে যাতে ও পড়াশুনার করার পদ্ধতি যতটা সম্ভব শিখতে পারে। ওর বাবা-মা কে মডেলিং, শেপিং, চেইনিং আর রিওয়ারডিং-এর মতো ঘরোয়া প্রশিক্ষণ প্রণালি শেখানো হল। তাঁদেরকে বলা হল যে বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় এক বেসরকারি সংস্থান-র সাথে যোগাযোগ করতে।

নিম্ন মানের বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতা বা ইন্টেলেকচুয়াল ডিসেবিলিটি বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ধরা পরে যখন শিশুটি স্কুলে যেতে আরম্ভ করে। কিন্তু অধিকাংশ বাবা-মায়েরা এই অক্ষমতার ধরন সম্বন্ধে অজ্ঞ হওয়ার ফলে বুঝতে পারেন না যে কি ভাবে সমস্যাটার সাথে মোকাবিলা করতে হবে। প্রথম থেকেই শিশুর বিকাশের মাপ দন্ডের দিকে নজর রেখে বাবা-মায়ের উচিৎ বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতার লক্ষণের প্রতি সজাগ থাকা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। যত তাড়াতাড়ি সমস্যা ধরা পড়বে, তত বেশি ভালো করে শিশুটি জীবনযাপন করতে শিখবে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিভিন্ন রোগীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এই কাল্পনিক বর্ণনাটি বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানোর জন্যে তৈরি করা হয়েছেএটি কোনও ব্যক্তি বিশেষের অভিজ্ঞতা নয়।

 


আরও পড়ুন