যখন আপনার কাছের মানুষ আত্মহত্যার কথা ভাবছে

“আমি আমার পরিবারের ওপর বোঝা”, বা, “আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে”, এধরণের কথাগুলোকে আত্মহত্যার সংকেত হিসেবে দেখুন। সমবেদনার সাথে কথা শুনলে নিরাশ ব্যাক্তি নিজের বিষয়ে কম নিরাশা অনুভব করবেন।
যখন আপনার কাছের মানুষ আত্মহত্যার কথা ভাবছে
 
আপনার প্রিয়জন আত্মহত্যার কথা ভাবছে এই ভাবনাটা খুবই কষ্টকর, কিন্তু কিছু পদ্ধতির সাহায্যে আপনি তাকে এই ভাবনার থেকে দূরে সরিয়ে আনতে পারবেন।
 
ওনার সাথে একান্তে কথা বলুন এবং হাল্কা ভাবে আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলুন। আত্মহত্যার বিষয়ে কথা শুরু করে আপনি ওনাকে আলোচনা করার জন্য খোলামেলা পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছেন।
আত্মহত্যার বিষয়ে কথা বলার আগে এইধরনের প্রশ্ন আপনি করতে পারেন – “আমার মনে হচ্ছে যেন তুমি কিছু সময় ধরে অন্যমনস্ক হয়ে রয়েছ। কোনও কিছু কি তোমাকে বিরক্ত করছে?” যদি তার উত্তরে উনি বলেন যে “আমার নিস্তেজ লাগছে”, বা, “আমি আমার পরিবারের ওপর বোঝা”, বা, “আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে”, তাহলে এগুলোকে আত্মহত্যার সংকেত হিসেবে দেখুন।
 
ওর পরিস্থিতিতে যে কষ্টকর সেটা স্বীকার করুন। পরিস্থিতির বিষয়ে পুরোপুরি না জেনে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করবেন না।
“আমাদের সবার জীবনেই সমস্যা রয়েছে”, বা “এটা নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার জন্য উচিৎ যুক্তি না” – এইধরনের কথা বলবেন না। এইসব বলে ভালোর বদলে আপনি ওনার আরও ক্ষতি করবেন। এই পরিবর্তে বলুন – “এই পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করা তোমার পক্ষে নিশ্চয়ই খুব কষ্টকর।” ওর কষ্টকে স্বীকৃতি দিয়ে সমবেদনার সাথে ওর কথা শুনলে উনি নিজের বিষয়ে কম নিরাশা অনুভব করবেন।
 
নিঃস্বার্থ ভাবে আর বিচার না করে সহযোগিতার আশ্বাস দিন –
ওনাকে উপযুক্ত সময় দিন যাতে উনি আপনার সাথে সহজভাবে কথা বলতে পারেন। মন দিয়ে ওনার কথা শুনুন কিন্তু কোনও উপদেশ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। ওনার মানসিক অবস্থা এমনিতেই দুর্বল তাই “তোমার বাড়ির লোক জানতে পারলে কি ভাববে” এই ধরনের কথা বলবেন না। ওনাকে আশ্বস্ত করুন যে উনি একা নয়, আপনি ওনার পাশে রয়েছেন।
 
যদি কথা বলে আপনার মনে হয় যে উনি আত্মহত্যা করার বিষয়ে বদ্ধপরিকর, তাহলে ওনার সাথে চুক্তি করার চেষ্টা করুন। বলুন “আমাকে কথা দাও যে আমি তোমার জন্য সাহায্য না খুঁজে পাওয়া অবধি তুমি নিজের কোনোভাবে ক্ষতি করবে না?”, বা “এই ধরনের চিন্তা মাথা এলেই তুমি আমাকে জানাবে?” এতে কিছু সময়ের জন্য উনি কোনও মারাত্মক পদক্ষেপ নেবেন না এবং আপনি মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করার সময় পাবেন।
 
ওনাকে সাহায্য করুন সেইসব কারণগুলোর কথা মনে করতে যার জন্য ওনার বেঁচে থাকা উচিৎ। উনাকে ওনার জীবনের সাফল্য আর কৃতিত্বের কথা মনে করান। ওনার জীবনের ইতিবাচক ঘটনা আর ওনার ক্ষমতার কথা মনে করালে ওনার চিন্তা আত্মহত্যার থেকে সরে যাবে।
 
মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করার পরামর্শ দিন –
সাহায্য চাইবার বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন এবং ওনার জন্য মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের খোঁজ করুন। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ যেমন কাউন্সেলার, সাইকোলোজিস্ট বা সাইকিয়াট্রিস্ট, এঁরা আত্মহত্যার প্রবণতা থাকা ব্যক্তিদের চিন্তাধারা নিয়ম অনুযায়ী বদলাতে সাহায্য করেন। আপনি ওনাকে জানাতে পারেন যে এমন চিন্তা মাথায় এলে উনি সুইসাইড হেল্পলাইনে ফোন করে কথা বলতে পারেন।

আরও পড়ুন