লার্নিং ডিসেবিলিটি

লার্নিং ডিসেবিলিটি কী?

লার্নিং ডিসেবিলিটি বা শিক্ষাগ্রহণ সংক্রান্ত বিকার এক ধরনের স্নায়বিক ব্যাধি যা মস্তিষ্কের তথ্য সঞ্চালন এবং তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত শিশুর পড়তে, লিখতে, কথা বলতে, বলা কথা শুনে তার মানে বুঝতে, গণিতের সমীকরণ বুঝতে অসুবিধে হয় এবং এই ধরনের শিশু বোধশক্তি সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগে। লার্নিং ডিসেবিলিটি অনেক ধরনের হতে পারে যেমন ডিসলেক্সিয়া, ডিসপ্রেক্সিয়া, ডিসক্যাল্কুলিয়া এবং ডিসগ্রাফিয়া। একই শিশুর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা একসাথে হতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: লার্নিং ডিসেবিলিটি অন্যান্য শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা, আর্থিক কারণ বা সামাজিক পটভূমির জন্য ঘটে না এবং এগুলো শিশুর দুর্বলতা বা অলস প্রকৃতির নিদর্শন নয়।

লার্নিং ডিসেবিলিটির সংজ্ঞা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার অনুমোদিত জাতীয় আইন সংখ্যা ৯৪-১৪২, যা ভারতেও গ্রহণ করা হয়েছে, এর সার্বিকভাবে স্বীকৃত ব্যাখ্যা অনুযায়ী  লার্নিং ডিসেবিলিটির সংজ্ঞা হল –

“নির্দিষ্ট লার্নিং ডিসএবিলিটি বলতে ভাষার বোধ এবং ভাষার লিখিত বা মৌখিক ব্যবহারের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকারী এক বা একের বেশি ধরনের বুনিয়াদী মনস্তত্ত্ব-সম্বন্ধীয় প্রক্রিয়ার বিকারকে বোঝায় যার অভিব্যক্তি কথা বুঝতে না পারা, কথা বলতে না পারা, লিখিত শব্দ পড়তে না পারা, বানান বলতে বা বুঝতে না পারা বা অঙ্ক করতে না পারার মত উপসর্গের মাধ্যমে ঘটে।

এই সংজ্ঞার মধ্যে ইন্দ্রিয় সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা, মস্তিষ্কের আঘাত, মস্তিষ্কের লঘুতর অকার্যকারিতা, ডিসলেক্সিয়া এবং ডেভেলাপমেন্টাল এফেসিয়া (মস্তিষ্কের আঘাত নিমিত্ত বাক্‌রুদ্ধতা) পড়ে।

এই সংজ্ঞার মধ্যে সেই শিশুদের ধরা হয়না যাদের শিক্ষাগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যার উৎস দৃষ্টিহীনতা, শ্রবণহীনতা, শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা, মানসিক উৎপীড়ন বা পারিপার্শ্বিক আর্থসামাজিক বৈষম্যতা।”

সৌজন্য: (ফেডারেল রেজিস্টার, ১৯৭৭, পৃষ্ট – ৬৫০৮৩) (কারান্থ, ২০০২)

কোন ধরনের সমস্যা লার্নিং ডিসেবিলিটি নয়?

কিছু শিশুর মধ্যে গোড়ার দিকে, পড়াশুনা শুরু হওয়ার সময়, সমস্যা দেখা দিলেও কালক্রমে তাঁরা পড়াশুনা এবং অন্যান্য ক্রীড়ায় সক্রিয়তা অর্জন করে নেয়। কিছু শিশুর কোনও বিশেষ বিষয়ের প্রতি উৎসাহ না থাকতে পারে (নতুন কোনও ভাষা, ক্রিয়া বা কৌশল, বা পড়াশুনা সংক্রান্ত বিষয় শেখা), বা খেলা-ধূলায় অথবা বাইরের কাজ শেখার প্রতি উৎসাহ না দেখাতে পারে। এগুলো শিশুর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ইঙ্গিত। এগুলো লার্নিং ডিসেবিলিটির উপসর্গ নয়।

“কলঙ্ক, কৃতিত্বের অভাব এবং লার্নিং ডিসেবিলিটি সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারনা বাবা-মা এবং শিশুদের এগিয়ে যাওয়ার পথে এখনো সব থেকে বড় প্রতিরোধক হয়ে রয়েছে। যদি লার্নিং ডিসেবিলিটির সমস্যা নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা করা না হয়, তাহলে কোটি কোটি মানুষ হিন্য মানসিকতার বোঝার চাপে আর প্রত্যাশার অভাবে পিছিয়ে পড়ে থাকবেন, যার ফলে তাঁদের নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাবে।” – জেমস এইচ ওয়েনডোর্‌ফ, একজেক্যুটিভ ডিরেক্টর, নেশন্যাল সেন্টার ফোর লার্নিং ডিসেবিলিটি

লার্নিং ডিসেবিলিটি হওয়ার কারণ কি?

বিশেষজ্ঞদের মতে লার্নিং ডিসেবিলিটি হওয়ার কোনও এক সুস্পষ্ট বা বিশিষ্ট কারণ নেই। কিছু কারণ যার জন্য লার্নিং ডিসেবিলিটি হতে পারে তা হল–

  • বংশগত কারণ– দেখা গিয়েছে যে সেই শিশুদের মধ্যে লার্নিং ডিসেবিলিটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশী যাদের বাবা বা মায়ের এই ধরনের বিকার রয়েছে।
  • জন্মের সময় বা জন্মের পরে অসুস্থতা– জন্মের সময় বা জন্মের পরে কোনও ধরনের রোগ বা আঘাতের থেকে লার্নিং ডিসেবিলিটি হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মাদক জাতীয় দ্রব্য বা মদের সেবন, শারীরিক আঘাত, জরায়ুতে ভ্রূণ ঠিক মতো বাড়তে না পারা, জন্মকালে খুব কম ওজন হওয়া এবং সময়ের আগে প্রসব বা দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রসব লার্নিং ডিসেবিলিটি হওয়ার অন্যান্য কারণ।
  • শিশুকালে ব্যাধি– জন্মের পরে কোনও গুরুত্বর ব্যাধি, যেমন প্রচণ্ড জ্বর, মাথায় আঘাত লাগা বা অপুষ্টির জন্য লার্নিং ডিসেবিলিটি হতে পারে।
  • পারিপার্শ্বিক কারণ– দীর্ঘ সময় ধরে বিষাক্ত পদার্থ (যেমন রঙ, সেরামিক, খেলনা ইত্যাদি–র সংস্পর্শে থাকলে লার্নিং ডিসেবিলিটি হতে পারে।
  • অন্যান্য কারণে রুগ্নতা - লার্নিং ডিসেবিলিটিতে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অন্য শিশুদের তুলনায় বেশী সম্ভাবনা থাকে ধ্বংসাত্মক ব্যবহার বা মনোযোগ সংক্রান্ত বিকারে ভোগার। পড়াশুনা সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা শিশুদের মধ্যে গড়ে ২৫% শিশু এ ডি এইচ ডি-তে ভোগে। আবার উলটো দিক দিয়ে দেখলে এ ডি এইচ ডি–তে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ১৫% থেকে ৩০% শিশু শিক্ষা সংক্রান্ত বিকারে ভোগে।

লার্নিং ডিসেবিলিটির লক্ষণ কি কি?

 

বয়েস বাড়ার সাথে সাথে ইন্দ্রিয়ের দ্বারা অনুভব করে বিভিন্ন জিনিষ আলাদা ভাবে চেনার ক্ষমতা (কগ্নিশন স্কিল্‌স) এবং হাত, পা, আঙ্গুল ইত্যাদির যথাযথ ব্যবহার ক্ষমতা (মোটর স্কিল্‌স) শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশের অঙ্গ। এই ক্ষমতাগুলোর বিকাশে অস্বাভাবিক দেরী বা বাঁধা লার্নিং ডিসেবিলিটির লক্ষণ হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই রোগ নির্ধারণ করা সম্ভব।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: স্কুল যাওয়ার বয়েসের শিশুদের মধ্যে ৫% শিশু লার্নিং ডিসেবিলিটিতে আক্রান্ত। এই সব শিশুদের এ ডি এইচ ডি হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

লার্নিং ডিসেবিলিটির লক্ষণ শিশুকালের প্রত্যেক স্তরে আলাদা –

স্কুল যাওয়া শুরু করার আগে: শিশুটির মধ্যে নিম্নলিখিত কিছু সমস্যা দেখা যেতে পারে -

  • কথা বলার ক্ষমতার বিকাশ যা সাধারণ অবস্থায় ১৫ থেকে ১৮ মাস বয়েসে ঘটে।
  • সহজ শব্দ উচ্চারণ করতে পারা।
  • অক্ষর এবং শব্দ চিনতে পারা।
  • সংখ্যা, ছড়া বা গান শেখা।
  • কোনও কাজ মনোযোগ দিয়ে করা।
  • নিয়ম এবং নির্দেশ বুঝে তা মেনে চলা।
  • সূক্ষ্ম বা স্থূল অঙ্গ সঞ্চালন ক্ষমতা ব্যবহার করে কাজ করতে পারা।

প্রাথমিক স্কুল যাওয়ার বয়েসে: শিশুর নিম্নলিখিত সমস্যা হতে পারে –

  • অক্ষর এবং শব্দের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা।
  • একই ধরনের শুনতে বা একই ছন্দের বিভিন্ন শব্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারা।
  • নিখুঁত ভাবে পড়তে, লিখতে বা বানান করতে পারা।
  • ডান এবং বা দিকের মধ্যে তফাত বুঝতে পারা, যেমন ২৫ কে ৫২-র সাথে গুলিয়ে ফেলা, ইংরেজি অক্ষর “b” আর  “d”–র মধ্যে পার্থক্য বুঝতে না পারা।
  • বর্ণমালার অক্ষর চিনতে পারা।
  • অঙ্ক করার সময় গুন, ভাগ, যোগ, বিয়োগের সঠিক চিহ্ন ব্যবহার করতে পারা।
  • সংখ্যা বা তথ্য মনে রাখতে পারা।
  • নতুন কাজে দক্ষতা অর্জন করা। কিছু শিশু নিজের বয়েসি অন্য শিশুদের তুলনায় দেরিতে শিখতে পারে।
  • কবিতা বা প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করা।
  • সময়ের গতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা।
  • চোখ এবং হাতের মধ্যে সহযোজনের অভাবে দূরত্ব বা গতি না বুঝতে পেরে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলা।
  • সূক্ষ্ম অঙ্গ সঞ্চালন ক্ষমতা দ্বারা করা কাজ যেমন পেন্সিল ধরা, জুতোর ফিতে বাঁধা, জামার বোতাম লাগানো ইত্যাদি।
  • নিজের জিনিস যেমন পেন্সিল, রাবার, খাতা ইত্যাদি কে সঠিক জায়গায় রাখা। 

মাধ্যমিক পর্যায়ে: শিশুর নিম্নলিখিত সমস্যা হতে পারে –

  • একই ধরনের শুনতে শব্দের বানান করতে পারা। যেমন “দ্বার” এবং “ধার”। উপপদ বা প্রত্যয় -এর ব্যবহার।
  • জোরে জোরে পড়া, লেখার কাজ, শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত অঙ্ক করা (শিশু এইসব এড়িয়ে যেতে চাইতে পারে)।
  • হাতের লেখা অভ্যাস করা (শিশু খুব জোরে চেপে পেন্সিল ধরতে পারে)।
  • তথ্য মনে রাখা বা মন থেকে বলা।
  • শারীরিক ভঙ্গিমা (বডি ল্যাঙ্গুয়েজ) বা মুখের অভিব্যক্তি (ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন) বোঝা।
  • শিক্ষামূলক পরিবেশে যথাযথ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা (শিশু খুবই উত্তেজিত বা অসহযোগী হয়ে পড়তে পারে এবং নাটকীয় ব্যবহার করতে পারে)।

উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে: শিশুর নিম্নলিখিত সমস্যা হতে পারে –

  • শব্দের সঠিক বানান লেখা (একই রচনার মধ্যে একটি শব্দের বিভিন্ন ধরনের বানান লেখা)।
  • পড়া বা লেখার কাজ।
  • সংক্ষিপ্ত সার লেখা বা শব্দান্তরের মাধ্যমে রচনার মুল অর্থ প্রকাশ করা, অঙ্কের নিয়মাবলী মেনে বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া।
  • দুর্বল স্মৃতিশক্তি।
  • নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া।
  • জটিল ধারণা বা বিষয় বুঝতে পারা।
  • সব বিষয়ে সমানভাবে মনোনিবেশ করতে পারা। কিছু শিশু এক বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ মনোনিবেশ করতে পারে আবার অন্য কিছু বিষয়ে তাঁর একেবারেই মনোযোগ থাকে না।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: লার্নিং ডিসেবিলিটিতে আক্রান্ত শিশুদের যেমন পড়াশুনার কিছু বিষয়ে সমস্যা হতে পারে, তেমনই নিজের পছন্দের বিষয়ে তাঁরা অত্যন্ত দক্ষ এবং প্রতিভাশালী হয়। বেশিরভাগ সময় আমরা শিশুর প্রাথমিক সমস্যা নিয়ে এত বেশী ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে তাঁর গুন বা প্রতিভাকে উপেক্ষা করি। বাবা-মা এবং শিক্ষকদের উচিৎ শিশুর সুপ্ত প্রতিভাকে চিহ্নিত করে তাঁকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা।

লার্নিং ডিসেবিলিটি কি করে নির্ধারিত করা হয়?

লার্নিং ডিসেবিলিটি নির্ধারণ করা এক জটিল প্রক্রিয়া। সমস্যা নির্ধারণের প্রথম ধাপে দৃষ্টি, শ্রবণ এবং অন্যান্য বিকাশ সংক্রান্ত বিকার আছে কি না তা চিহ্নিত করা হয়, কারণ অনেক সময় এই ধরনের সমস্যার প্রভাবে লার্নিং ডিসেবিলিটির উপসর্গ চাপা পড়ে যায়। এইসব সমস্যার পরীক্ষা সম্পূর্ণ হলে, লার্নিং ডিসেবিলিটি নির্ধারণ করার জন্য শিক্ষা সংক্রান্ত মনোবিকার নির্ণয় করার বিশেষ ধরনের পরীক্ষা করা হয় যার মধ্যে শিক্ষাগত কৃতিত্বের পরীক্ষা এবং বুদ্ধিমত্তার যাচাই করা হয়। 

লার্নিং ডিসেবিলিটির চিকিৎসা পদ্ধতি

লার্নিং ডিসেবিলিটির চিকিৎসা সম্ভব। কোনও শিশুর যদি পড়তে, লিখতে বা শিখতে অসুবিধে হয়, তাহলে সবার আগে তা বাবা-মা এবং শিক্ষকদের নজরে পড়ে। আপনার যদি মনে হয় যে আপনার শিশুর পড়াশুনা করতে কোনও ধরনের বিশেষ অসুবিধে হচ্ছে, তাহলে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করে মধ্যস্থতা বা থেরাপির ব্যবস্থা করুন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সমস্যা যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে চিকিৎসা আরম্ভ হবে, শিশু তত ভালভাবে সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে।

আপনার সন্তানের যদি লার্নিং ডিসেবিলিটি থাকে, তাহলে তাঁর ডাক্তার বা শিক্ষকরা নিম্নলিখিত পরামর্শ দিতে পারেন –

  • বাড়তি সহযোগিতা– রিডিং স্পেশালিষ্ট (যিনি পড়ার পদ্ধতি শিখতে সাহায্য করেন) বা অন্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কর্মী আপনার শিশুকে নানান পদ্ধতি শেখাতে পারেন যার সাহায্যে তাঁর পাঠ্য ক্ষমতা উন্নতি করবে। ঘরোয়া শিক্ষকের সাথে নিত্য অভ্যাসে শিশুটির সংগঠন ক্ষমতা এবং পড়াশুনা করার ক্ষমতা ভাল হবে।
  • একক শিক্ষা ব্যবস্থা– আপনার সন্তানের স্কুল বা তাঁর বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক তাঁর জন্য একক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন যাতে সে ভাল করে বিষয়গুলো বুঝতে পারে।
  • থেরাপি– যদিও এই পদ্ধতি লার্নিং ডিসেবিলিটির ধরনের ওপর নির্ভর করে, অনেক শিশুর থেরাপিতে উপকার হয়। যেমন ভাষা সংক্রান্ত বিকারে আক্রান্ত শিশুদের জন্য “স্পীচ থেরাপি” উপকারী। “অকুপেশনাল থেরাপি” অঙ্গ সঞ্চালনে উন্নতি ঘটায় যা শিশুর লেখনী সংক্রান্ত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
  • বৈকল্পিক থেরাপি– গবেষণা করে দেখা গিয়েছে যে গান, নাচ বা ছবি আঁকার মতো বৈকল্পিক থেরাপি লার্নিং ডিসেবিলিটিতে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষভাবে উপকার করে।

চিকিৎসা চলাকালীন বাবা-মা এবং বিশেষজ্ঞদের শিশুটির জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিৎ এবং নিয়মিতভাবে নজর রাখা উচিৎ যে চিকিৎসার যথাযথ ফল পাওয়া যাচ্ছে কি না। যদি দেখা যায় যে উপযুক্ত ফল পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে অন্য চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিৎ।

লার্নিং ডিসেবিলিটির বিশেষজ্ঞ

বিশেষজ্ঞদের দল বিভিন্ন ধরনের বিশেষ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তবেই লার্নিং ডিসেবিলিটি নির্ধারণ করেন। এই বিশেষজ্ঞরা হলেন –

শিশুদের স্নায়বিক বিশেষজ্ঞ – উনি শিশুর পূর্ববর্তী রোগের ইতিহাস জেনে বিস্তারিত শারীরিক পরীক্ষা করেন যাতে হাইপোথাইরোয়ডিস্ম, শরীরে সিসা ঘটিত বিষক্রিয়া, সেরিব্রাল পলসির মতো স্নায়বিক রোগ, ওয়িলসন্স ডিসিস, এ ডি এইচ ডি–র মতো রোগ আছে কি না নির্ধারণ করেন। বাড়িতে এবং স্কুলে শিশুর ব্যবহার বিশ্লেষণ করেন।

ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট - বিশেষ ধরণের বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত পরীক্ষা (যেমন ওয়েস্লার ইন্টেলিজেন্স স্কেল ফোর চিলড্রেন টেস্ট) করে নির্ধারণ করেন যে শিশুটির বুদ্ধি-সম্পন্নতা স্বাভাবিক কি না। এতে পড়াশুনার ক্ষেত্রে যেইসব রোগের জন্য অসুবিধা হতে পারে, যেমন প্রান্তিক বুদ্ধিমত্তা এবং লঘুতর মানসিক প্রতিবন্ধকতার মতো সমস্যা বাদ দেওয়া যায়।

কাউন্সেলর - শিশুর ব্যবহার এবং ব্যবহারে সমস্যা বুঝতে সাহায্য করেন। উনি শিশুর বাড়ি আর স্কুলের পরিবেশ যাচাই করে দেখেন যে সেইখানে এমন কোনও কারণ আছে কি না যার প্রভাব শিশুর ব্যবহার এবং পড়াশুনার উপর পড়ছে।

বিশেষ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ - শিশুর শিক্ষাগত কৃতিত্ব যাচাই করেন বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে (ওয়াইড রেঞ্জ এচিভমেন্ট টেস্ট, পি-বডি ইন্ডিভিজুয়াল এচিভমেন্ট টেস্ট, উডকোক – জন্সন টেস্ট্‌স অফ এচিভমেন্ট, শোঁণনেল এটেইনমেন্ট টেস্ট, কারিক্যুলাম বেস্‌ড টেস্ট) যাতে পড়তে পারা, বানান, লিখিত ভাষা এবং অঙ্কের বিষয়ে শিশুর দক্ষতা নির্ধারণ করা যায়। নিজের বয়েস বা শ্রেণীর তুলনায় দু বছর কম দক্ষতা লার্নিং ডিসেবিলিটির লক্ষণ।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ - লার্নিং ডিসেবিলিটি চিহ্নিত করতে পারেন সব থেকে আগে। ওনার উচিৎ স্কুলে শিশুর শিক্ষাগত ফলাফলের খবর রাখা এবং যদি ওনার সন্দেহ হয় যে শিশুটি লার্নিং ডিসেবিলিটিতে আক্রান্ত, তাহলে বাবা-মায়ের সাহায্যে সংশয় দূর করার জন্য শিশুটির শিক্ষাগত এবং মানসিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শিশুটির বাবা-মা এবং শিক্ষকদের উপকারমূলক শিক্ষা পদ্ধতির বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে বোঝাতে সক্ষম।

শিশু মনোরোগ চিকিৎসক - পরীক্ষা করে দেখেন যে এ ডি এইচ ডি –র কোন উপসর্গ শিশুর মধ্যে দেখা যাচ্ছে কি না কারণ লার্নিং ডিসেবিলিটির সাথে এ ডি এইচ ডি হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। মনোরোগ চিকিৎসক খারাপ পড়াশুনার অন্যান্য কারণ ও খতিয়ে দেখেন।

অকুপেশনাল থেরাপিস্ট - ভঙ্গিমা, হাঁটা-চলা, চোখ এবং হাতের সহযোজন, হাতের লেখা ইত্যাদি সংক্রান্ত সমস্যার সাথে মোকাবিলা করতে সাহায্য করেন।  


অনুসন্ধান করুন

সম্পর্কিত
আরও পড়ুন