আপনি মা হতে চলেছেন

img

সুস্থ থাকুন

দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য একজন ব্যক্তির মানসিক সুস্থতা খুবই প্রয়োজন।  গর্ভাবস্থায় যেহেতু আপনি আরও একটি প্রাণকে নিজের ভেতরে নিয়ে ঘোরেন, তাই আপনার মানসিক সুস্থতা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা অনেকেই এই সময়টাকে খুব আনন্দের বলে কল্পনা করি। কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে এই সময়ে একজন মহিলাকে নানা রকম শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় যা খুবই ক্লান্তিকর।

ফলে প্রথমবার যিনি মা হতে চলেছেন তাঁর এই সময়টা খুবই কঠিন বলে মনে হতে পারে।  অনেক সময় যারা দেরি করে মাতৃত্বের সুখ বেছে নেন, তাঁদের ক্ষেত্রে শিশুর স্বাস্থ্য নিয়েও দুশ্চিন্তার কারণ থেকে যায়।

মা হওয়ার আগে:

ভাল করে চিকিৎসকের সাথে এই নিয়ে আলোচনা করুন। আপনার যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর তিনি দেবেন। দেখবেন তাহলে আপনি অনেকটাই হালকা বোধ করবেন।

গর্ভাবস্থায় নিজের শারীরিক পরিবর্তনের সাথে কিভাবে মানিয়ে নেবেন?

মাতৃত্ব আপনার জীবন বদলে দেয়। ফলে এই সময় আপনাকে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে হয়। সেই জন্য আপনার মানসিক ও শারীরিক, উভয় দিক থেকেই সুস্থতার প্রয়োজন। আপনি নিম্নলিখিত পরামর্শগুলি মেনে দেখতে পারেন:

  • নিজের মা, বড় দিদি, বা বন্ধুদের সাথে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করুন। আপনি এই বিষয়ে বই পড়েও দেখতে পারেন।
  • একজন বন্ধু বা পরিবারের সদস্যকে বেছে নিন যার সাথে মন খুলে কথা বলতে পারবেন।
  • বিভিন্ন হরমোনের জন্য এই সময় আপনার অ্যাংজাইটি ও মুড সুইং হতে পারে। এই বিষয়ে আরও জানতে আপনি নিজের চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।

আমি কীভাবে নিজের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখব?

  • চিকিৎসক নিজে থেকে কিছু না বললে ঘরের কাজকর্ম করা বন্ধ করবেন না। এটি একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক অভ্যাস।
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। আপনি রোজ যোগব্যায়াম, হাল্কা দৌড়-ঝাঁপ করতে পারেন।
  • আপনার বাচ্চা নড়াচড়া শুরু করলে, আপনি তাঁর সাথে কথা বলা বা গান শোনানো শুরু করতে পারেন। এতে তাঁর সাথে আপনার এক সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
  • নিজেকে ব্যাস্ত রাখুন, বই পড়ুন, গান শুনুন বা সিনেমা দেখুন।
  • পুষ্টিকর খাবার খান: রংচঙে খাবারে আপনার খিদে বাড়তে পারে। সুষম খাদ্যগ্রহনের পাশাপাশি নিজের পছন্দ অনুযায়ী খাবার খাওয়াও প্রয়োজন।
  • হাল্কা রঙের ঢিলে ঢালা পোশাক পরুন। এতে আপনার নিজেরই ভাল লাগবে।
  • আপনার স্বামীকেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সামিল করুন। চেক-আপ করানোর সময় তাঁকে সঙ্গে নিয়ে যান।
  • নিজের যত্ন নিন, আর সবার সাথে সুন্দর ভাবে কথা বলুন।
  • অযথা এই বিষয়ে পড়াশুনা করে দুশ্চিন্তায় ভুগবেন না। বেশ কিছু ওয়েবসাইটে এই বিষয়ক ভাল পরামর্শ দেওয়া থাকে। সেগুলি দেখতে পারেন।
  • কোনও রকম অসুবিধার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সাথে কথা বলতে পিছপা হবেন না।