মাতৃত্ব

গর্ভাবস্থা: কীভাবে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায়

হোয়াইট সোয়ান ফাউন্ডেশন

প্রত্যেকটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মানসিক সুস্থতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যখন একজন মহিলা গর্ভধারণ করে তখন তার শরীরে ধীরে ধীরে আরেকটি মানুষ  বেড়ে উঠতে থাকে। সেক্ষেত্রে ওই মহিলার মানসিক সুস্থতা আরও বেশি করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেকের কাছেই গর্ভাবস্থা অত্যন্ত আনন্দের, উপভোগ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। কিন্তু গর্ভাবস্থার সময়ে আমাদের শরীরে যে নানারকম হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে শরীর ও মনের ওঠা-পড়া বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়, সেই বিষয়টাকে আমরা অনেকসময়ে গুরুত্ব দিয়ে বিচার করি না। এছাড়াও  একজন সন্তানসম্ভবা মহিলাকে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক বদলের সঙ্গে প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয়।

একজন মহিলা, যে প্রথমবার সন্তানের জন্ম দিতে যাচ্ছে তার কাছে গর্ভাবস্থার সময়টি কিছু ক্ষেত্রে চাপের সৃষ্টি করতে পারে। একটি নির্দিষ্ট বয়সের উপরে থাকা মহিলারা তাদের সদ্যোজাত সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ঠ উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত থাকে। এর ফলে তাদের মনে নানারকম ভয় জেগে ওঠে।

গর্ভাবস্থার আগের সময়

এইসময়ে ডাক্তার বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে নিজের শরীর-স্বাস্থ্য সম্পর্কে খবরাখবর জানা একজন মহিলার ক্ষেত্রে একান্ত জরুরি। তাদের নিজের মনের  যেকোনও প্রশ্ন ও তার উত্তর সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। এসব তথ্যগুলো একজন মহিলাকে গর্ভবস্থাকালীন সময়ে নানাভাবে সাহায্য করে।

গর্ভাবস্থাকালীন সময়:

কীভাবে আমি আমার শারীরিক পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেব?

গর্ভবস্থা এমন একটা সময় যখন মানুষের জীবন বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়ে থাকে। শরীর-স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এইসময়ে নানারকম বাধা বা বদলের মুখোমুখি হতে হয় এবং সেগুলোর সঙ্গে অভিযোজন করেই বেঁচে থাকতে হয়। গর্ভাবস্থার সময়ে নিজের শরীর ও মনের সুরক্ষার দিকে নজর রাখা একজন মানুষের ক্ষেত্রে একান্ত আবশ্যক। গর্ভাবস্থাকালীন পরিবর্তনগুলোকে স্বাস্থ্যকর উপায়ে মোকাবিলা করার জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে-

  • মা, বোন বা বন্ধু, যারা কোনও না কোনও সময় মা হয়েছে তাদের সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করা যায়। অথবা বই পড়েও বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে

  • যখন পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয় তখন বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্য বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথপোকথন করা যায়

  • হরমোনের বদলের জন্য মানসিক উদ্বেগ ও মেজাজ-মর্জির ওঠা-পড়া প্রায়শই ঘটতে পারে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে এইসময়ে কোনটা স্বাভাবিক তা বুঝতে হয় এবং কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্যের প্রয়োজন তা-ও জেনে নেওয়া জরুরি।

কীভাবে আমি আমার মানসিক সুস্থতা বাড়াতে পারব?

  • যতক্ষণ না ডাক্তার প্রাত্যহিক রুটিন বদলের জন্য সুপারিশ করছেন ততক্ষণ নিজের দৈনন্দিন কাজকর্ম বজায় রাখা প্রয়োজন। গৃহস্থালীর কাজকর্মও এইসময়ে করা যায়।

  • নিজের শরীরের কথা ভেবে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি

  • নিয়মিত শরীরচর্চা করা অর্থাৎ যোগব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটির মতো হালকা শারীরিক কসরত শরীরকে সবল রাখতে সাহায্য করে

  • গর্ভস্থ ভ্রূণের যখন বিকাশ শুরু হয় তখন একজন হবু মায়ের উচিত তার সঙ্গে কথা বলা বা তার বেড়ে ওঠার লক্ষণগুলোকে অনুভব করা। এর ফলে বাচ্চার জন্মের আগেই মা ও শিশুর বন্ধন দৃঢ় হতে শুরু করে

  • নিজের আবেগানুভূতি ও চিন্তাভাবনা পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া জরুরি

  • নিজেকে বই পড়তে, গান শুনতে বা সিনেমা দেখতে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন

  • পুষ্টিকর খাবারদাবার খাওয়া দরকার; এক্ষেত্রে মুখরোচক খাবারদাবার খিদে বাড়াতে সাহায্য করে। তবে এইসময় একান্তভাবে জরুরি সুষম আহার। সেই সঙ্গে নিজের খাওয়ার ইচ্ছাকেও বাড়ানো দরকার।

  • হালকা, রঙিন এবং মানানসই জামাকাপড় পরা দরকার, যা পরে আরাম পাওয়া যায়। এর মধ্য দিয়ে দৈহিক আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে

  • সন্তানজনিত নানারকম পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে নিজের স্বামী বা সঙ্গীকেও যুক্ত করা দরকার। প্রসব-পূর্ববর্তী সময়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের স্বামী বা সঙ্গীকে সঙ্গে রাখা একান্ত আবশ্যক

  • নিজের চাহিদাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে নিজের যত্ন ও প্রয়োজনীয়তার কথা অন্যদের পরিষ্কার করে বলে বা জানিয়ে দেওয়া উচিত

  • গর্ভাবস্থা সম্পর্কে অতিরিক্ত পড়াশোনা যদি মানসিক উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকে তাহলে তা এড়িয়ে যাওয়া বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে কয়েকটি ওয়েবসাইটের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে, যা একজন সন্তানসম্ভবা মহিলাকে সঠিক দিশা দেখাতে পারে।

  • নিজের মনের সন্দেহ বা চিন্তাভাবনার কথা ডাক্তারের কাছে খুলে বলার ক্ষেত্রে কোনওরকম দ্বিধা না করাই ভাল।