We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

কীভাবে কর্মক্ষেত্রগুলিতে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়

কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য এমন একটা বিষয় যাকে হয় একেবারে অবহেলা করা হয় অথবা গোপন করা হয় বা এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনাই করা হয় না। আসলে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার সঙ্গে সামাজিক কলঙ্কের বোধ এমনভাবে জড়িয়ে থাকে যার ফলে ভয় বা দ্বিধামুক্ত হয়ে মানুষ এই বিষয়টা নিয়ে প্রকাশ্যে আলাপ-আলোচনা করতে পারে না। কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মধ্যে সামাজিক কলঙ্কের কারণে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা বাইরে প্রকাশ পায় না এবং তা সমাধান করার জন্য অন্যদের কাছ থেকে তাদের যে সমানুভূতি ও সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে, তা থেকে তারা বঞ্চিত হয়।

কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম বা কর্মসূচি (ডি অ্যান্ড আই প্রোগ্রাম)

এক্ষেত্রে একটি কর্মক্ষেত্রে তিন শ্রেণির মানুষ এবিষয়ে সমান সুযোগ পায়। এই তিন শ্রেণি হল- মহিলা, এলজিবিটিকিউআইএপি+, এবং পিপ্‌ল উইথ ডিসএবিলিটিস্‌ বা পিডব্লিউডি। যদিও অনেক কর্মক্ষেত্রে এই তিনটি শ্রেণির মধ্য দিয়ে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম চালু থাকলেও মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাটি কদাচিৎ আলোচিত হয় বা তার অন্তর্ভুক্তি ঘটে।

এই কর্মসূচিটি যতই সরল মনে হোক না কেন, তা বাস্তবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সংগঠনগুলির অনেক বাধার সম্মুখীন হয়। কোম্পানিগুলোকে প্রায়শই এবিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, যেমন-

  • এদের কি কাজে রাখা উচিত?
  • যে কাজ তাদের করতে বলা হবে সেইগুলি কি তারা করতে পারবে?
  • কর্মীদের উৎপাদনশীলতার উপর কি এর প্রতিফলন ঘটবে?
  • এর ফলে কি কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
  • এর ফলে কি একটি প্রতিষ্ঠানের সুস্থ পরিবেশ নষ্ট হবে?
  • এর ফলে কি ব্যক্তি পিছু কোম্পানির খরচ বেড়ে যাবে?

একটি কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টির অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হল মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে সংবেদনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করার চেষ্টা করা, বিষয়টি সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করা এবং সর্বস্তরের কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা। এগুলিই মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে সাহায্যদায়ক হয়ে ওঠে এবং কর্মক্ষেত্রে একটা মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।

কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের অন্তর্ভুক্তির জন্য সেরা উপায়গুলো হল-

এবিষয়ে আমরা অনেক কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগের কর্মীদের (এইচআর) সঙ্গে কথা বলেছিলাম যাঁরা কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ডি অ্যান্ড আই কার্যক্রমের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এখানে সেই সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় আলোচনা করা হল:

সচেতনতা

  • মানসিক স্বাস্থ্য ও মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে কর্মীদের মধ্যে সংবেদনশীলতা গড়ে তোলা
  • সমস্যার লক্ষণগুলোকে চিহ্নিত করার জন্য কোম্পানির ম্যানেজার ও কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা
  • প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসিক স্বাস্থের সমস্যার জন্য গেটকিপার নিয়োগ করা

নেতৃত্ব

  • প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় এবং সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য সুযোগ করে দেওয়া
  • নেতা ও দলের সদস্যদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা
  • নেতৃত্বদানের দৃষ্টান্ত গড়ে তোলা, যা একটি প্রতিষ্ঠানকে অনন্য হয়ে উঠতে
    সাহায্য করে

সুস্থতা

  • কর্মীদের মধ্যে সমানুভূতি এবং মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা
  • কর্মীদের অবসরের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর উদ্যোগ নেওয়া
  • কাজের এমন রুটিন গড়ে তোলা যেখানে কাজের সময়গত নমনীয়তা
    বজায় থাকে
  • দৈনন্দিন ওয়ার্কশপ, অনুশীলন এবং ধ্যানের মাধ্যমে সুস্থ থাকার
    উদ্যোগ নেওয়া
  • ওয়ার্কশপের মধ্য দিয়ে মানসিক স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করা

নীতি

  • মানসিক স্বাস্থ্য-সহায়ক নীতি গড়ে তোলা
  • সব ধরনের ব্যক্তিদের কাজের সুযোগ করে দেওয়া
  • কর্মীদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া এবং তাদের কাছে কাউন্সেলর/থেরাপিস্ট/হেল্পলাইনের সাহায্য পৌঁছে দেওয়া
  • মানসিক অসুখ সহ বিভিন্ন অসুখের জন্য বিমার ব্যবস্থা চালু করা

এসব ব্যবস্থাগুলির সাহায্যে একটি কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মানসিক অসুস্থতাজনিত সমস্যার সমাধান এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অন্তর্ভুক্তি সম্ভব।

 

এই প্রবন্ধটি লেখার জন্য ওয়ার্কপ্লেস অপশনস্‌-এর ডিরেক্টর মল্লিকা শর্মা, সিজিপি ইন্ডিয়ার প্রোগ্রাম ডিরেক্টর লিনেট নাজারেথ এবং বিয়ন্ড ট্রাভেল-এর ম্যানেজার ভারত মোরোর সাহায্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির ম্যানেজার, ডি অ্যান্ড আই এবং মানবসম্পদ বিভাগের কর্মীদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের অনুরোধে তাঁদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।