We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

বর্ণনাঃ এত কষ্ট আর যন্ত্রণা সহ্য করার কোন মানে হয়না

সঠিক চিকিৎসা আর থেরাপির সাহায্যে অবসাদের নিরাময় সম্ভব।

১৬ বছরের পরিশ্রমী আর বুদ্ধিমান ছেলে নিতিন বেঙ্গালুরুতে ওর বাবা মায়ের সঙ্গে থাকে। নিতিন খুব ভালো ক্রিকেট খেলে এবং বিভিন্ন আন্তঃ-স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নিজের স্কুলের হয়ে খেলেছে। দশম শ্রেণী তে পড়ার সময় নিতিনের ডিপ্রেশন ধরা পড়ে। ওর সমস্যার বিবরণ –

এইসব শুরু হয় যখন আমি কিশোর অবস্থায়। বাড়িতে বা স্কুলে কোন চাপ না থাকা সত্যেও পড়াশুনায় আমার মন বসছিল না। মনোযোগ একেবারেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং সারাক্ষণ ক্লান্ত আর দুর্বল লাগত। সমস্যা এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছিল যে আমি ৭ মাস স্কুল যাইনি, যার ফলে স্কুলে আমি এক বছর পিছিয়ে যাই। তা সত্যেও কঠিন পরিশ্রম আর দৃঢ়তার জোরে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে পরীক্ষায় ভালো ফল করি।

চিকিৎসক নির্ধারণ করলেন যে আমি রেকার‍্যন্ট ডিপ্রেসিভ ডিস্‌অর্ডারে (পুনরা-বর্তক অবসাদ ব্যাধিতে) ভুগছি। রোগ নির্ধারণের পরেও আমি যে ভুলটা করেই চলেছিলাম সেটা হল কিছুদিন ওষুধ খেয়ে একটু সুস্থ বোধ করলেই আমি ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিতাম। একবারের গুরুতর ঘটনা আমার জীবন পালটে দেওয়ার পরে আমি বুঝতে পারলাম এন্টিডিপ্রেস্যন্ট ওষুধ ছাড়া আমি কখনই ভালো থাকতে পারব না এবং তার পর থেকে মানসিক রোগের প্রতি অন্যদের নেতিবাচক মনোভাব আমাকে আর প্রভাবিত করতে পারেনি।

প্রত্যেকবার আমার সমস্যা আকস্মিকভাবে আরম্ভ হতো। ৭-১০ দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির দ্রুত গতিতে অবনতি ঘটে যেতো। ওই সময় চারিপাশে আর মনের ভেতরে সব কিছুই অস্পষ্ট লাগতো, যেন ঘন কুয়াশায় ঘেরা। আমি হাসতে পারতাম না, আনন্দ করতে পারতাম না। কখনই মেজাজ ভার-মুক্ত থাকত না। খেতে ইচ্ছে করত না, সারারাত জেগে থাকতাম, ১৫ দিনে ৪-৬ কিলো ওজন কমে যেতো, কাজের গতি মন্থর হয়ে যেত আর জীবনে সব কিছু অর্থহীন মনে হতো। এই ধরনের ঘটনা চক্রের মধ্যাহ্ন বর্তি সময় বাদে আমার যা যা করতে ভালো লাগত, বিষণ্ণতার ঘোরে সেই বিনোদনকারী কাজগুলোও এড়িয়ে যেতাম। ভবিষ্যতের দিকে তাকালে কোন আশার আলো দেখতে পেতাম না। তখন মনে হতো বেঁচে থাকা বৃথা।

মনোবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী আক্রান্ত অবস্থায় ইলেক্ট্রো কনভালসিভ থেরাপি (ই সি টি – বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে উপশমিত চিকিৎসা প্রক্রিয়া) শুরু হল যার ফলে চিকিৎসা পদ্ধতির পর কিছু সময়ের জন্য আমার স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যেত। কিন্তু খুব দ্রুত আবার স্মৃতিশক্তি ফিরে পেয়ে যেতাম যার ফলে কেউ আমার স্মৃতিশক্তি বা বুদ্ধিতে কোন ঘাটটি লক্ষ্য করেনি।

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি যে চিকিৎসা প্রক্রিয়া এড়িয়ে এত কষ্ট আর যন্ত্রণা সহ্য করার কোন মানে হয়না। চিকিৎসা পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলানোর উপায় আমি খুঁজে পেয়েছি। অবসাদে আচ্ছন্ন হয়ে থাকার চেয়ে সামান্য ব্যথা সহ্য করা সহজ। পুরোপুরি সুস্থ না হয়ে ওঠা অবধি আমি আর কখনই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করব না।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিভিন্ন রোগীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এই কাল্পনিক বর্ণনাটি বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানোর জন্যে তৈরি করা হয়েছেএটি কোনও ব্যক্তি বিশেষের অভিজ্ঞতা নয়।