কীভাবে আপনি আত্মহত্যা করা থেকে আপনার প্রিয়জনকে বাঁচাবেন?

এমন অনেক সময়ে দেখা যায় যে আপনার কোনও বন্ধু মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং নিজেকে অন্যান্যদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। ক্রমশ বন্ধুটি হতাশাগ্রস্ত ও অসহায় হয়ে পড়ছে। এমনকী, আত্মহত্যা করার কথাও চিন্তা করছে। এই পরিস্থিতিতে আপনার সামনে ওই বন্ধুর সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু কীভাবে এই বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা যায় সে রাস্তা হয়তো আপনার জানা নেই। যদি আপনি ওর সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং সে যদি আপনার কথার উত্তর না দেয়? সাহায্য করার পরিবর্তে যদি আপনি তাকে আঘাত করে বসেন? বা আপনি যদি বন্ধুকে বিপর্যয়ের দিকে আরও ঠেলে দেন?

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা প্রায়শই বলে থাকেন যে, ইতিবাচক আলোচনা ও সহানুভূতি সহকারে মানুষের সমস্যার কথা শোনা একজন মানুষকে আত্মহত্যা করা থেকে রক্ষা করতে পারে। একজন দ্বাররক্ষী এটাই বিশ্বাস করে যে সমাজে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা যায় এবং কেন আত্মহত্যা ঘটল তা জানার জন্য স্বেচ্ছায় সময় ও শক্তি ব্যয় করা যায়। দ্বাররক্ষী যে কেউ হতে পারেন। যেমন- শিক্ষক, অভিভাবক, প্রতিবেশী, হোস্টেলের তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তি, পুলিশ বা কাউন্সেলর প্রমুখ। একজন দ্বাররক্ষী যদি কারোর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতার কথা বুঝতে পারেন তাহলে সে বিষয়ে তাকে আগেভাগেই সতর্ক হতে হবে। এছাড়াও প্রাথমিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষকে মানসিকভাবে সাহায্য করা এবং তাকে একজন মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া একান্ত জরুরি।

নিমহ্যান্সের সেন্টার ফর ওয়েলবিং (এনসিডব্লিউবি)-এর পক্ষ থেকে একদল মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোরোগের চিকিৎসায় নিযুক্ত নার্স এবং মনোরোগ সংক্রান্ত সামাজিক কর্মীদের নিয়ে একদিনের একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। এই কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল দ্বাররক্ষীদের কিছু বিষয়ে যথাযথ শিক্ষা দেওয়া। যেমন-

  • আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষকে চিহ্নিত করা
  • আত্মহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সঠিক ধারণা করা
  • আত্মহত্যা প্রতিরোধ করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করা
  • আত্মহত্যার লক্ষণ বিষয়ে সতর্ক হওয়া ও সঠিক তথ্যের আদান-প্রদান করা

এই কর্মশালাটি আয়োজিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ২৪ জুন। কর্মশালাটি দু'টি পর্বে বিভক্ত ছিল: প্রথম অংশে ছিল আত্মহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সঠিক ধারণা করা এবং দ্বিতীয় অংশে ছিল আত্মহত্যা প্রতিরোধে হস্তক্ষেপের বিষয়টি। কর্মশালাটি শুরু হয়েছিল পুরুষ ও মহিলাদের নিজস্ব জীবনকাহিনি শোনা ও তাদের মানসিক শক্তি চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে। এই কাজের তত্ত্বাবধান করেছিলেন নিমহ্যান্সের সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ সেন্থিল রেড্ডি। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের জোড়ায়-জোড়ায় বিভক্ত করা হয়েছিল এবং তাঁদের বলা হয়েছিল অপর একজন ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করার জন্য। একে অপরের সঙ্গে কথাবার্তা বলার জন্য পাঁচ মিনিট করে সময় পেয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা, নিজেদের শক্তি নির্ধারণ ও অপরের উপরে সেই শক্তির প্রতিফলন কীরূপ, তা চিহ্নিত করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এহেন একটি কর্মশালা আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল, যে সব মানুষ  আত্মঘাতী হওয়ার কথা চিন্তা করে তাদের হতাশা, অসহায়তা এবং লক্ষ্যহীন জীবনের সূত্র খোঁজার চেষ্টা করা। এর সঙ্গে ছিল ওই সব মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়ে তুলে তাদের মধ্যে কিছুটা আশা ও আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেওয়ার প্রচেষ্টা করা।

ওই কর্মশালায় রাগেশ, নিমহ্যান্সের একজন জুনিয়র বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করেছিলেন যে এমন একজন মানুষ যে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা চিন্তা করছেন তাকে কীভাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। কর্মশালার আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে ছিল- আত্মহত্যা এবং নিজের ক্ষতি করার মধ্যে পার্থক্য, আত্মহত্যার আগাম সতর্কচিহ্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান প্রভৃতি। এর পরে এনসিডব্লিউবি-এর ভারপ্রাপ্ত নার্স পদ্মাভথী ডি আত্মহত্যার ঝুঁকির দিকগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন।

নিমহ্যান্সের সাইকিয়াট্রি বিভাগের আরেক অধ্যাপক ডঃ প্রভা এস চন্দ্র একটি ভিডিও-র মাধ্যমে একজন অল্পবয়সি মহিলার, যার সঙ্গে তার কাছের মানুষের সম্পর্ক ভাঙার পর তার মধ্যে যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, তা তুলে ধরেন। এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা শিখেছিল কীভাবে আত্মহত্যার বিপদ থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য সাহায্য করতে হয় এবং একজন বিশেষজ্ঞের সহায়তায় কীভাবে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব করা যায়।

নিমহ্যান্সের সহকারী অধ্যাপক ডঃ কৃষ্ণপ্রসাদ এম আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানুষের সক্রিয় হস্তক্ষেপের বিষয়টি অভিনয়ের মধ্য দিয়ে আয়োজন করেছিলেন।

একদিনের এই কর্মশালাটি শুধুমাত্র কাউন্সেলর এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞদের জন্যই আয়োজন করা হয়নি। এর সাহায্যে একজন দ্বাররক্ষী, যে তার সহকর্মী, প্রতিবেশী, বন্ধু বা পরিবারের সদস্যকে আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সদাসতর্ক এবং ইচ্ছুক, তার ক্ষেত্রেও এই কর্মশালা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং কার্যকরী ছিল।

 

এই কর্মশালার বিষয়ে বিশদে জানতে এই ঠিকানায় যোগাযোগ করুন-

NIMHANS Centre for Wellbeing
 #1/B, 9thmain, 1st stage, 1st phase,
BTM layout, Bangalore- 5600076.
ফোন নম্বর: 080 26685948/9480829670 

বা

 http://nimhans.ac.in/nimhans/nimhans-centre-well-being.

   

Was this helpful for you?