We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

পরিচর্যা করার পরিচয়পর্ব

পরিচর্যাকারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সাহায্য করে।

যখন কোনও ব্যক্তি সাময়িক বা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার কারণে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না, তখন তাকে কাছের মানুষের উপর নির্ভর করতে হয়। এই সময় শুভাকাঙ্ক্ষীদের দায়িত্ব এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয় যে তা একজন রোগীকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে চিকিৎসার পর যখন রোগী বাড়িতে ফিরে আসেন, তখন এহেন হিতাকাঙ্ক্ষীদের পরিচর্যাই হয় একমাত্র ভরসা।

মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় আক্রান্ত একজন ব্যক্তির পক্ষে একা স্বাধীন ভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব হয় না। অসুস্থতার কারণে কারও না কারও সাহায্য নিয়ে তাকে দিন গুজরান করতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীর বাড়ির লোকেরাই এই দায়িত্ব পালন করে থাকে। এরাই বাড়িতে বিনামূল্যে মানসিক রোগগ্রস্তের দেখভাল করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

পরিচর্যাকারীরা সাধারণত বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী বা বন্ধু স্থানীয় হন। সহায়তাদানের ক্ষেত্রে ভারতে পেশাদারিত্ব এখনও তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় আক্রান্তদের যত্ন নেওয়ার প্রশ্নে পরিবারের সদস্যরাই মুখ্য ভূমিকা নেন। সহায়তা দানের গতি এবং চরিত্র নির্ভর করে একজন ব্যক্তির মানসিক সমস্যার উপর। রোগীর মানসিক এবং শারীরিক চাহিদা ধৈর্য সহকারে শুনে পরিচর্যাকারীরা কাজ করেন। এই ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা তাদের দায়িত্ব ভাগ করে নেন। কেউ রোগীর শারীরিক যত্নের দিকে নজর দেন। কেউ আবার অর্থনৈতিক দিক থেকে সাহায্য করেন। অন্যদিকে পরিবারের আরেক সদস্য রোগীকে মানসিক ভাবে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন। অনেক সময় পরিচর্যাকারীরা কাজে দক্ষতা অর্জন এবং প্রিয়জনের প্রতি ভালভাবে নজর দেওয়ার জন্য উপযুক্ত শিক্ষাও গ্রহণ করেন।

শুভাকাঙ্ক্ষীদের দায়িত্ব শুধু রোগীর সমস্যা লাঘব করা নয়, বরং তার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে নিশ্চিত করাও এদের অন্যতম ভূমিকা।

সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে চলাটাও হিতাকাঙ্ক্ষীদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সব মিলিয়ে তাদের অবদানও খুব তাৎপর্যপূর্ণ।

যাঁরা রোগীর দেখভালের কাজে নিযুক্ত থাকেন, তাঁদের জীবন চ্যালেঞ্জ এবং সংগ্রামে পূর্ণ। এই কাজে দক্ষ হয়ে ওঠার জন্য পরিচর্যাকারীদের শারীরিক এবং মানসিক ভাবে সক্ষম হয়ে উঠতে হয়। এঁরা অধিকাংশ সময়েই সমাজের কাছ থেকে তেমনভাবে সহায়তা পান না।

শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও চিকিৎসা, মানসিক এবং শারীরিক অসুস্থতা নিরাময়ের জন্য আশপাশের সাহায্য দরকার হয়। এটি শুধু রোগীর যত্ন নেওয়া নয়, তাদের নিজেদেরও উচ্চমানের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।

অধিকাংশের জীবনেই কোনও না কোনও সময় পরিচর্যাকারীর দায়িত্ব পালন করার সুযোগ আসে। এই অধ্যায়ে পরিচর্যাকারীদের অভিজ্ঞতা, তাদের কাজের জগৎ সম্পর্কে গভীরভাবে ধারণা করার চেষ্টা করা হবে। হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে কোনও ব্যক্তির বিষয়ে জ্ঞান এবং তথ্য সংগ্রহ করাই নয়, অন্যের অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করে শুভাকাঙ্ক্ষীরা সমাজে যে অবদান রেখে যান, তা-ও এই পর্ব থেকে জানা যাবে।