নিজের মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে আমার চাকরিদাতার কাছে আমি সৎ

২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে আমার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ধরা পড়ে। সেই সময়ে আমার মধ্যে যে গুরুতর উদ্বেগের সমস্যা দেখা গিয়েছিল, যার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অবসেসিভ কম্পালসিভ বিহেভিয়রের সূত্রপাত হয়।

অধিকাংশ সময়ে আমি এক ভয়ংকর অপরাধ বোধে (কোনও কোনও সময়ে যতটা সৃষ্টিশীল আমি হতে চাইতাম ততটা হতে পারতাম না) ভুগতাম। আমি এখন যে  কাজে যুক্ত হয়েছি সেখানকার কর্তৃপক্ষের কাছে আমি সৎ আছি। তাদের আমি পরিষ্কার করে বলে দিয়েছি যে কোন কাজটা আমি পারব আর কোনটা পারব না। এই সততাই সাহায্য করেছে আমাকে নিজের সম্পর্কে একপ্রকার মুক্ত ধারণা গড়ে তুলতে। সৌভাগ্যবশত আমি যে সংস্থায় কাজ করি সেখানকার কর্তৃপক্ষ কখনো  আমার বিচার করতে চায় না। বরং আমার সমস্যাটাকে স্বীকার করতে চায়। সেজন্য কিছু বিষয় তাদের থেকে আমি অনেক ভালভাবে সামলাতে পারি।

আমার এখনকার কাজের দল খুব ছোট এবং আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমার অবস্থাটা অত্যন্ত ভালভাবে বোঝে। যদি তাঁর চোখে কোনও গরমিল ধরা পড়ে তাহলে তিনি আমার কাছে জানতে চান যে সবকিছু ঠিক আছে কিনা? বা আমার ছুটির দরকার আছে কিনা? অথবা জানতে চান কীভাবে তিনি আমাকে সাহায্য করতে পারেন? কিংবা যে কাজটা আমি করছি সেটা আমার কাছে চাপের হয়ে দাঁড়াচ্ছে কিনা এবং তাই যদি হয় তাহলে আরেকজন কেউ সেই কাজ কি আমার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে পারে?

সাহায্য করার বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ সবসময়ে চায় এমন একজন কেউ তার পাশে থাকুক, যার সঙ্গে সে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিতে পারে এবং মানুষ নিজের মূল্যায়ন বা বিচার করা হোক, তা চায় না। কাজের জায়গায় যে সবসময়ে একজন থেরাপিস্টেরই প্রয়োজন পড়ে তা নয়। কিন্তু এমন একজন কেউ থাকা জরুরি যে অন্যজনের অত্যন্ত প্রিয়জন হবে এবং যে তার পাশেরজনের প্রতি  যত্নশীল থাকাটাকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করবে।

লেখিকা অ্যালিশিয়া সৌজা একজন চিত্রশিল্পী এবং উদ্যোগপতি।

এই পর্বের লেখাগুলিতে মানসিক অসুস্থতা কাটিয়ে কাজের জগতে ফিরে আসা  মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা লিপিবদ্ধ হয়েছে।

(লেখাটি ইংরাজি থেকে অনুবাদ করা হয়েছে)

Was this helpful for you?