We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

স্কিৎজোফ্রেনিয়ার সাথে বাঁচা

স্কিৎজোফ্রেনিয়ার ধরা পড়লে যেন আপনার জীবন শেষ না হয়ে যায়।

ডাঃ সাবিনা রাও

স্কিৎজোফ্রেনিয়া কোনও সাধারণ অসুখ নয়। এটা রোগী এবং তাঁর পরিবার উভয়ের পক্ষেই এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার সমান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক ওষুধপত্রের সাথে এই রোগ সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। যদিও ক্ষেত্রবিশেষে ওষুধপত্রেও বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়না। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চূড়ান্ত ক্ষতগ্রস্থ হয়। পরিবারের লোকজন মনে করেন এতদিনের চেনামানুষটি আজ অজানা হয়ে গেল।

প্রত্যেকের পক্ষেই এই রোগের শিকার হওয়া মানে সমাজের কাছে মুখ দেখাতে না পারার সমান। এই সঙ্কোচ গভীর মানসিক আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

একজন স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীর মস্তিষ্ক স্বাভাবিক মস্তিষ্কের মত দ্রুত কাজ নাও করতে পারে। অন্তত ওষুধ সেবন করার আগে পর্যন্ত শরীরের ওপরেও আর আগের মত নিয়ন্ত্রণ থাকেনা।

সুখবর হল এখন আগের তুলনায় অনেক ভাল চিকিৎসা সম্ভবপর। এবং এতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাল ফল পাওয়া যায়। যদিও রোজ মনে করে ওষুধ খাওয়ানোটা খুবই জরুরি। নিজেকে পাগল মনে করবেন না। মনে রাখবেন স্কিৎজোফ্রেনিয়া শুধু আপনার একটা অংশ,আপনি নন। অসুখ ধরা পরার আগে জীবনটা চালিয়ে যেতে পারাটাই আসল। যদি মনে হয় যে অসুখের জন্যে আপনি ঠিকভাবে চলতে পারছেন না,তবে ওষুধের কাজ করা অবধি অপেক্ষা করুন। কারণ সঠিক ওষুধের সাহায্যে আপনি ঠাণ্ডা মাথায় স্পষ্ট চিন্তা করতে সক্ষম হবেন। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে আপনি মোটা হয়ে যেতে পারেন। সুতরাং সেইক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাটা খুবই গুরুত্বপুর্ন। নিয়মিত ব্যয়াম করুন,দেখবেন অনেকটা ভাল লাগছে। রোজ সকালে উঠে মনে করবেন যে আপনি সুস্থ।

একটা রুটিন করে নেবেন। তাহলে দেখবেন জীবনে চলাটা অনেক সোজা হবে। সময় মতো ঘুম থেকে ওঠা, খাওয়া, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা এই পর্যায় খুব জরুরি। এমনকি ডাক্তারের অনুমতি পেলে পরে স্বাভাবিক লোকের মত কাজেও যোগদান দিতে পারেন।

বাস্তব এবং কল্পনার মধ্যে গুলিয়ে যাচ্ছে মনে হলে নিজের পরিবারের বিশ্বাসযোগ্য কাউকে আপনার সমস্যার কথা বলুন। তাঁদের কথা মত নিয়ম করে ওষুধ খান।

অনেক সময় আপনার পুরনো চাকরিতে ফিরতে অসুবিধা হতে পারে। সেই কাজের চাপ সহ্য না করতে পেরে চাকরি ছাড়তে হলে মন খারাপ করবেন না। অন্য কোথাও চেষ্টা করুন। রাতের বেলা কোনও কাজ করবেন না। মনে রাখবেন এই অবস্থায় আপনার ঘুম খুব জরুরি।

আপনার আশেপাশের প্রচুর লোক আপনার অবস্থা সম্পর্কে অকারণ উৎসাহ দেখাবে। তাঁদের বলা না বলা সম্পুর্ন আপনার সিদ্ধান্ত। কেউ কেউ আপনাকে বাস্তবিকই ভালবেসে জানতে চাইতে পারে। তবুও অসুখের ব্যপারে কাউকে জানানোর অন্তিম সিদ্ধান্ত আপনি নেবেন।

ডাক্তারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। অন্যান্য অসুখের মতই এখানেও নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি।

হয়ত এই রোগকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু সামান্য কিছু পদক্ষেপের সাহায্যে আপনি নিজের ধারনার বাইরে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন।

ডাঃ সাবিনা রাও নিমহ্যান্সের মনোরোগ বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ।