We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

বর্ণনাঃ বিমানে চড়ার কথা ভাবতেও ভয় পেতেন...

আতঙ্কিত জীবন কাটাবেন না, ফোবিয়ার চিকিৎসা সম্ভব।

শেষ মুহূর্তে রাজস্থান বেড়াতে যাবার পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার পর শান্তা হেগড়ে বাধ্য হলেন নিজের পিসতুতো বোনের সাথে মনোবিদের কাছে আসতে। বেড়াতে না যাবার কারণ ছিল শান্তাদেবী কিছুতেই বিমানে চড়ার আতঙ্কে বিমানবন্দরে যেতে চাননি।

লজ্জায়, অপ্রস্তুত ভাবে তিনি চিকিৎসকের সামনে বসে ছিলেন। নিজের দোষে বেড়ানো ভেস্তে যাবার জন্যে তখন তিনি ক্ষমা চাইছিলেন। তিনি আরও জানালেন যে আমেরিকায় বিমান হানা এবং গত এক দশকে বিভিন্ন বিমান দুর্ঘটনাই তাঁর ভয়ের মূল কারণ। তিনি স্বীকার করলেন যে এর আগেও বহু ছুতোয় তিনি বিমানে চড়া এড়িয়ে গেছেন। এবং সবচেয়ে বড় কথা উনি এই আতঙ্কের কথা কাউকে বলতেন না।

এসমস্ত বাদ দিলে তাঁর জীবন একদম স্বাভাবিক ছিল। ছেলে মেয়ে ভাল চাকরি করছিল, তাঁর স্বামীও আরামে অবসরপ্রাপ্ত জীবন কাটাচ্ছিলেন।

অবসরের পর স্বামী-স্ত্রী মিলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াবেন ঠিক করেছিলেন। কিন্তু এই বিমানে চরার ভয়ে, তিনি তা পারেননি। এই কথা মাথায় এলেই আতঙ্কে ঘামে শরীর ভিজে যেত।

আরও খানিকক্ষণ আলোচনার পর মনোবিদ জানালেন যে শান্তাদেবীর এই আতঙ্ক কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

বেশ কয়েক সপ্তাহ তারপর শান্তাদেবীর কাউন্সেলিং চলল। কয়েক মাসের মধ্যেই শান্তা দেবীর এই ভয় অনেকটা কমে গেল। এরপর তাঁর স্বামীর সাথে তিনি বিমানে চড়ে দিল্লী বেড়াতে গেলেন। কিছুটা ভয় যে ছিল না তা নয়, কিন্তু প্রথমবারটা মিটে যাবার পর আস্তে আস্তে তাঁর ভয় আরও কেটে গেল।

মাস ছয়েকের মাথায় একদিন শান্তাদেবী চিকিৎসককে ফোনে জানান যে এখন তিনি দিব্যি বিমানে চড়ে গোটা ভারতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিভিন্ন রোগীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এই কাল্পনিক বর্ণনাটি বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানোর জন্যে তৈরি করা হয়েছেএটি কোনও ব্যক্তি বিশেষের অভিজ্ঞতা নয়।