নতুন মাতৃত্ব: অতিরিক্ত চিন্তার মতো সত্যি কি কোন বিষয় রয়েছে?

একটি শিশুকে পৃথিবীর আলো দেখানোর জন্য একজন মাকে ভোগ করতে হয়  নানারকম মানসিক চিন্তা ও চাপ। সময়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত থাকে এই দুটো বিষয়। বাচ্চার জন্ম দেওয়ার পর যদি একজন মা দিনের পর দিন লাগাতার গভীর চিন্তা ও ভাবনার মধ্যে দিন কাটায় তাহলে বুঝতে হবে যে সে প্রসব-পরবর্তী উদ্বেগের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে। যে কোনও নতুন মায়ের মনে তার সদ্যোজাত সন্তানের শরীর-স্বাস্থ্য এবং খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে প্রভূত চিন্তা দেখা দেয়। যদি মনের সেইসব গভীর ভাবনা থেকে একপ্রকার ভয় ও দুশ্চিন্তা ক্রমশ একজন মানুষকে বিপর্যস্ত করে তোলে তাহলে তার উচিত একজন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া।

প্রসব-পরবর্তী উদ্বেগের সঙ্গে সন্তানসম্ভবাকালীন সময়ের উদ্বেগের মিল রয়েছে। এই সমস্যার লক্ষণগুলো হল-

  • সবসময়ে অশান্ত ও খিটখিটে ভাব বোধ করা
  • অনবরত গভীর চিন্তা করার ফলে মানুষের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়
  • রাতে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়
  • অনবরত দুশ্চিন্তার ফলে বারবার বাচ্চাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার
    ঝোঁক জন্মায়
  • চিন্তার ফলে নিজের থেকে বাচ্চাকে এক মুহূর্তও চোখের আড়াল না করা

যদি এই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় তাহলে অবিলম্বে মায়েদের উচিত একজন ডাক্তার বা ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা, যিনি নতুন মাকে একজন মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার জন্য সুপারিশ করতে পারেন।

প্রসব-পরবর্তী ওসিডি

অনেকসময়ে নতুন মায়েরা বারবার এমন কিছু দৃশ্য মনে মনে কল্পনা করে, যা বেশ ভয়ংকর। এর ফলে বাচ্চার সাংঘাতিক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে এই ভয়ে তারা সাবধানতার জন্য চরম ব্যবস্থা নেয়। এধরনের প্রসব-পরবর্তী ওসিডি-র কয়েকটি লক্ষণ হল-

  • বাচ্চার সঙ্গে সম্পর্কিত গভীর চিন্তা ও ভয়াবহ দৃশ্য কল্পনা করা।
  • বাধ্যতামূলক আচরণ করা। অর্থাৎ যেখানে একজন নতুন মা নিজের মনের  ভয় অতিক্রম করার জন্য বারবার এক কাজ করতে থাকে। যেমন- যদি তার মনে ভয় হয় যে বাচ্চার সংক্রমণ হতে পারে তাহলে সে বারবার বাড়ি-ঘর পরিষ্কার করা শুরু করে; অথবা বাচ্চা যখন ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে তখন তাকে  বারবার দেখভাল করার প্রবণতা জন্মায়।
  • বাচ্চাকে একা রাখার ভয় প্রবলভাবে মনে চেপে বসে
  • চালচলন বা হাবভাবে এতটাই চরম সতর্কতা থাকে যার ফলে সামান্য বিশ্রাম করার অবকাশটুকুও পাওয়া যায় না

চিকিৎসা

প্রসব-পূর্ববর্তী উদ্বেগের মতোই প্রসব-পরবর্তী উদ্বেগের চিকিৎসা মূলত সমস্যার লক্ষণগুলোর গুরুত্বের উপর নির্ভরশীল। যদি সমস্যার লক্ষণগুলো তেমন গুরুতর না  হয় তাহলে মানসিক সহায়তা ও থেরাপির সাহায্যেই একজন নতুন মা তার মানসিক উদ্বেগের মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। কিন্তু লক্ষণগুলো যদি গুরুতর হয় তাহলে সাইকোথেরাপির সঙ্গে প্রয়োজন পড়ে নির্দিষ্ট ওষুধেরও। থেরাপির মধ্যে কগনিটিভ বিহেভায়রল থেরাপি (সিবিটি) অথবা ইন্টারপার্সোনাল থেরাপি (আইপিটি) এক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এইধরনের থেরাপির মূল উদ্দেশ্য হল নতুন মায়েদের গভীর দুশ্চিন্তার আসল কারণ খুঁজে বের করা এবং তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর
পদক্ষেপ করা।    

        

 

 

Was this helpful for you?