We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

লেখাপড়ার জগতে সমকক্ষ মানুষের পরামর্শ

ছাত্র হিসেবে একজন ছেলে বা মেয়ে কাকে প্রথম তার সমস্যা বা চিন্তাভাবনার কথা মন খুলে বলবে? একজন বন্ধুকে নাকি কোনও বিশ্বাসভাজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে? এক্ষেত্রে উত্তরটা বন্ধু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ অভিভাবক বা শিক্ষকদের চাইতে বন্ধুরাই বন্ধুদের সমস্যার কথা ভালোভাবে বুঝতে পারে।

বয়ঃসন্ধি বা অল্পবয়সি ছেলে-মেয়েরা বড়দের তুলনায় তাদের সমবয়সিদের কাছেই নিজের সমস্যার কথা সহজভাবে বলতে পারে। এই কারণে সমকক্ষ বা সমতুল্যদের পরামর্শ অথবা মতামত খুবই কার্যকরী হয়। বিশেষ করে এর সাহায্যে বয়ঃসন্ধিরা প্রাথমিকভাবে তাদের সমস্যার বিষয়ে ওয়াকিবহাল হতে পারে।

সমকক্ষ বা সমতুল্যদের পরামর্শ বা মতামত বলতে কী বোঝায়?

এই ব্যবস্থায় দুটো মানুষ মুখোমুখি বসে কথাবার্তা বলতে পারে বা একটা দলের সব  সদস্য মিলে আলাপ-আলোচনা চালাতে পারে। এদের মধ্যে অনেক বিষয়েই মিল  থাকে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে এরকম সাহায্য সাধারণত বন্ধুদের মধ্যেই দেখা যায়। এভাবে বন্ধুরা একে অপরের সঙ্গে সুন্দর যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারে ও নিজেদের মনের ভাব বিনিময় করতে পারে। এর উদ্দেশ্য হল বন্ধুরা নিজেদের চিন্তাভাবনা, উপলব্ধি, সমস্যা প্রভৃতি নিজেদের মধ্যে আদানপ্রদান করে একে অপরকে ভালোভাবে বুঝতে চেষ্টা করে ও সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারে।

কীভাবে সমকক্ষদের পরামর্শ বা মতামত ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্য করে?

ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে অনেকরকম মানসিক চাপ থাকতে পারে। এর কোনও সীমা-পরিসীমা থাকে না। যেমন- লেখাপড়ার ক্ষেত্রে চাপ, কেরিয়ায় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চাপ, পারিপার্শ্বিক চাপ, সম্পর্কজনিত সমস্যা, দেহগত বা শারীরিক গঠন সংক্রান্ত সমস্যা, মাদকাসক্ত হয়ে পড়া প্রভৃতি। সবার পক্ষে একজন পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। এর পিছনে নানারকম কারণ থাকতে পারে, যেমন- সহজলভ্যতার অভাব, কলঙ্কের ভয় ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে সমকক্ষ বা সমতুল্য মানুষজনের পরামর্শ একটা ছাত্র-ছাত্রী বা তাদের বন্ধুবান্ধবদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারে। যেমন-

  • অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটাতে
  • আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতা গড়ে তুলতে
  • পড়াশোনাজনিত জটিলতা ও পরীক্ষার চাপ দূর করতে
  • শিক্ষক ও অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সমস্যার সমাধানে
  • হোস্টেলের জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা দূর করতে
  • র‍্যাগিং, অন্যদের মারধর করা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে।

সমকক্ষ বা সমতুল্য মানুষের মতামত বা পরামর্শের সাহায্য অনেক সমস্যারই কার্যকরী সমাধান সম্ভব। কারণ এরা অন্যদের সমস্যার সঙ্গে নিজেদের সঠিকভাবে যুক্ত করতে পারে। যদি এরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয় তাহলে শুধু পরামর্শ না দিয়ে এরা অন্যান্য ছাত্রদের সমস্যা মন দিয়ে শুনতে পারবে, সমস্যার সমাধানে সাহায্য করতে পারবে এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পরামর্শদাতা

সমকক্ষ পরামর্শদাতাদের নানাভাবে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। যেমন- যোগাযোগগত, শোনার দক্ষতাগত, ইতিবাচক মানসিকতা, পরামর্শ দানের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, সমস্যার গোপনীয়তা বজায় রাখা, অন্যদের সাহায্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা মেনে চলা এবং পরামর্শ বা উপদেশ দেওয়ার প্রাথমিক দক্ষতা। এই ধরনের মানুষজনের মধ্যে কখন একজন মানুষকে পেশাদারি পরামর্শ গ্রহণের জন্য বাধ্য করতে হবে, সেই প্রশিক্ষণও থাকে। প্রশিক্ষণ পেলেও এদের কাছে কোনওরকম শংসাপত্র থাকে না। আসলে এই ধরনের পরামর্শদাতারা একজন ছাত্র এবং পেশাদার পরামর্শদাতার মধ্যে সেতু হিসেবে ভূমিকা পালন করে। স্কুল বা কলেজে যদি পেশাদার পরামর্শদাতারা না থাকে তাহলে সমকক্ষ পরামর্শদাতারা ছাত্রছাত্রীদের মানসিক ও আচরণগত সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে থাকে। অনেকসময়ে নিজেদের এলাকায় এরা একজন পেশাদার পরামর্শদাতা হিসেবেই পরিচিত হয়।

প্রশিক্ষিতদের মতো একজন ছাত্র বা ছাত্রীর মধ্যে যদি নীচের গুণাবলীগুলো থাকে তাহলে তারাও সমকক্ষ পরামর্শদাতা হিসেবে দায়িত্বপালন করতে পারবে-

  • কোনওরকম মতামত না দিয়ে মনোযোগ সহকারে শোনার দক্ষতা
  • সহানুভূতিশীলতা ও সংবেদনশীলতা
  • ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখা। সেগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে আলাপ-আলোচনা না করা
  • উন্নত যোগাযোগ ক্ষমতা এবং ছাত্রছাত্রীদের মনের গভীরে প্রবেশ
    করার দক্ষতা
  • মিশুকে স্বভাব

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল অন্যকে সাহায্য করার জন্য আন্তরিকভাবে আগ্রহী হওয়া।

এই ধরনের পরামর্শদাতারা নিজেদের স্কুল ও কলেজে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা দূর করার জন্য সচেতনতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে, কলঙ্ক ও বৈষম্য দূরীকরণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, মানসিক অসুস্থতাজনিত ভ্রান্ত ধারণাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করতে উদ্যোগী হয়। সমকক্ষ পরামর্শদাতারাও এই ব্যবস্থায় উপকৃত হয়।

শুধু একজন ছাত্র বা ছাত্রীই নয়, প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে একজন সমকক্ষ পরামর্শদাতা নানাভাবে উপকৃত হয়ে থাকে।

  • অনেক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে এরা স্বেচ্ছাসেবক বা সামাজিক কর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পায়। ছাত্র-ছাত্রীরাও ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজে যোগদান করতে পারে।
  • আত্মনির্ভরতা বাড়ে ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • নেতৃত্বদানের দক্ষতা গড়ে ওঠে।
  • সহানুভূতিশীল হয়ে উঠতে, অন্যকে সম্মান করা এবং অন্যান্য গুণাবলীও গড়ে ওঠে।

কয়েকটি কলেজের এহেন পরামর্শদাতা দলের নাম হল-

সানসাইন- আইআইটি, হায়দ্রাবাদ

কাউন্সেলিং সেন্টার, আইআইটি গান্ধীনগর, এখানে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সংযোগ রাখা হয় ও তাদের সঠিক পথে চালনা করা হয়

'ইওর দোস্ত': অ্যান ইমোশনাল সাপোর্ট সিস্টেম', আইআইটি গুয়াহাটির কাউন্সেলিং সেন্টার। এখানে ছাত্রছাত্রীদের যে নামে সঠিক দিশা দেখানো হয় তার নাম সাথী।

বিশ্বাস (vishwas) সেন্টার ফর কাউন্সেলিং, জৈন বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাঙ্গালোর। (অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আগ্রহী ছাত্রছাত্রীরা সমকক্ষ পরামর্শদাতার প্রশিক্ষণের জন্য এই সংস্থায় আবেদন করতে পারে)।