We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

স্লিপ প্যারালিসিস বলতে কী বোঝায়

স্লিপ প্যারালিসিস বলতে কী বোঝায়?

ঘুমের সময় মানুষ প্রায়শই স্বপ্ন দেখে, কিন্তু ঘুমের সময় কিছু মানুষের মনে হয় যেন বাস্তবে কেউ তাদের আক্রমণ করছে বা গলা টিপে ধরছে এবং তারা অসহায় ভাবে পড়ে রয়েছে। এই সমস্যাকে স্লিপ প্যারালিসিস বলা হয়। এর ফলে মাঝপথে ঘুম ভেঙে গেলে মানুষ কথা বলতে পারে না বা নড়াচড়া করতে পারে না। এর সঙ্গে অনেকসময়ে মানুষ এমন ঘটনা উপলব্ধি করে যা বাস্তবে ঘটছে না। একে হ্যালুসিনেশন বলা হয়।

স্লিপ প্যারালিসিস এবং দুঃস্বপ্ন কিন্তু এক ঘটনা নয়। মানুষ গভীর ঘুমে অনেক সময় এমন স্বপ্ন দেখে যা তার জন্য ভয়ের। একেই দুঃস্বপ্ন দেখা বলে। মানুষ যখন দুঃস্বপ্ন দেখে তখন সে খুব অধীর হয়ে ওঠে, কিন্তু তার শরীরের কোনও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অসাড়তা দেখা দেয় না।

স্লিপ প্যারালিসিস মানুষকে বিচলিত করে তোলে এবং প্রায়শই এই সমস্যাকে মানুষ মানসিক অসুস্থতা বা “ভূতে ধরেছে” বলে ভুল করে। এটিকে ঘুমের সমস্যা হিসেবেও বিবেচনা করা যায় না এবং এর ফলে মানুষের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার কোনও ঝুঁকি থাকে না। এটি ঘুমের সময়ে ঘটা একটি ঘটনা এবং সাধারণত এই ঘটনাটি কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়।

স্লিপ প্যারালিসিসের সময় কী ঘটে?

একজন মানুষের ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। ঘুমের পর্যায়ের দুটো ভাগ রয়েছে - র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম), যা সাধারণত দু'ঘণ্টা স্থায়ী হয়, এবং নন-র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (এনআরইএম) স্লিপ। আরইএম ঘুমের সময়ে মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের ভলান্টারি মাসল্‌ বা ঐচ্ছিক পেশীগুলোকে অসাড় করে দেয় (তখন শরীরের ইনভলান্টারি বা অনৈচ্ছিক পেশীগুলো কাজ করে)যাতে স্বপ্নে দেখা পরিস্থিতির শারীরিক প্রতিক্রিয়া না ঘটে। সেই সঙ্গে এইসময়ে মানুষের শরীর একেবারে শিথিল হয়ে যায় এবং নিজের মেরামত করে।  

স্লিপ প্যারালিসিস-এর সময়ে মানুষের মস্তিষ্ক জেগে থাকে কিন্তু শরীর ঘুমিয়ে পড়ে। অর্থাৎ, এইসময়ে মানুষের চোখ দুটি খোলা থাকলেও তার শরীরের ঐচ্ছিক পেশীগুলো অসাড় থাকে। মানুষ তার দুঃস্বপ্নগুলোকে ভুলে যায় কিন্তু ঘুম থেকে জেগে ওঠার পরে সেই পরিস্থিতির কথা মনে থাকে। স্লিপ প্যারালিসিস-এর অন্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে হ্যালুসিনেশন বা অলীক বস্তু বা ঘটনার প্রতি বিশ্বাস। এটি ঠিক ঘুম আসার সময়ে বা ঘুম ভাঙার আগে ঘটে।

স্লিপ প্যারালিসিস যতক্ষণ ঘটে বা স্থায়ী হয় ততক্ষণ মানুষ খুব অসহায় বোধ করে, ভীত হয়ে পড়ে এবং অধীর হয়ে ওঠে। তারা নিজেদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো চালনা করতে চেষ্টা করে, যার ফলে তাদের পেশীতে টান বা যন্ত্রণা অনুভূত হয় এবং মাথা ব্যথা হয়।

কী কারণে স্লিপ প্যারালিসিস ঘটে?

অনিয়মিত ঘুমের চক্র, আগে থেকে থাকা মানসিক অসুস্থতা যেমন- অবসাদ বা উদ্বেগ, নারকোলেপ্সি এবং অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধূমপানের কারণে মানুষের মধ্যে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, উদ্বেগ এবং আতঙ্কের সমস্যায় (প্যানিক ডিসঅর্ডার) আক্রান্ত মানুষের মধ্যে স্লিপ প্যারালিসিসের ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বেশি থাকে।

চিকিৎসা

অবসাদ, উদ্বেগ বা অন্যান্য মানসিক অসুখে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে যদি মাঝে মাঝেই স্লিপ প্যারালিসিস-এর সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তাদের উচিত নিজেদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করা। যদি স্লিপ প্যারালিসিস একনাগাড়ে ঘটে এবং এর ফলে মানসিক বিপর্যয় দেখা দেয় তাহলে ঘুম সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া একান্ত জরুরি। ঘুমজনিত সমস্যার সমাধানের জন্য সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা হল মানুষের জীবনযাত্রার বদল ঘটানো।

 

এই প্রবন্ধটি লেখার জন্য ব্যাঙ্গালোরের নিউরোসাইকিয়াট্রিস্ট এবং ঘুমজনিত সমস্যার বিশেষজ্ঞ ডঃ সতীশ রামাইয়া-র সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

সূত্র:

'Rates of isolated sleep paralysis in outpatients with anxiety', by Michael W. Otto, Naomi M. Simon, Mark Powers, Devon Hinton, Alyson K. Zalta, Mark

H.https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/16099138, last accessed on 10th May 2019.