We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

শিক্ষকের দায়িত্বের শেষ কোথায়?

একটি ছাত্রের ভালো-মন্দের প্রতি খেয়াল রাখা একজন শিক্ষকের গুরুদায়িত্বের মধ্যে পড়লেও, তাঁকে একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না যে, কোনও ছাত্র-ছাত্রীর ব্যাপারে শিক্ষকের অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়া কখনোই ঠিক নয়। ছাত্রদের মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে কখন, কীভাবে নিজেকে পরিস্থিতি থেকে দূরে সরিয়ে একজন মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞের হাতে পড়ুয়াদের ভালো থাকার দায়িত্ব তুলে দিতে হয়, তা একজন শিক্ষকের পক্ষে শেখা ও জানা জরুরি।

ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পর্কে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনাঃ যদি একজন শিক্ষক তাঁর ক্লাসের কোনও ছাত্র বা ছাত্রীর আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন এবং এহেন পরিস্থিতিকে ভালো করে যাচাই করতে চান, তাহলে তিনি ওই ক্লাসেরই অন্য আরেকজন শিক্ষকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। খুব সতর্ক হয়ে এই কাজটি করতে হবে এবং যে সহকর্মীর সঙ্গে একজন শিক্ষক এই বিষয়ে আলোচনা করতে চাইছেন, তাঁকে পুরো বিষয়টি গোপন রাখতে হবে। তবে একজন শিক্ষককে একটি ছাত্র যখন তার জীবনের সমস্যার কথা খুলে বলে, তখন সেই শিক্ষকের প্রতি ওই ছাত্রের অগাধ বিশ্বাস থাকে। এই ক্ষেত্রে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে  সেই বিষয়টি আলোচনা করা একজন শিক্ষকের কখনোই উচিত নয়। যদি ছাত্রটির সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে শিক্ষকের কোনও অসুবিধা হয়, তাহলে কলেজের কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া জরুরি।

শিক্ষক এবং পড়ুয়া যদি বিপরীত লিঙ্গের হয়, তাহলে কীভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভবঃ কলেজের মধ্যে একজন শিক্ষক, তিনি পুরুষ বা মহিলা যাই হন না কেন, তাঁর প্রধান ভূমিকা হল যে, তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে একজন অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণত দেখা যায় যে, একজন মহিলা শিক্ষকের কাছে একটি ছাত্র তার সমস্যার বিষয়ে নানারকম আলাপ-আলোচনা করে থাকে। কিন্তু অপরদিকে একজন ছাত্রীকে পুরুষ শিক্ষকের কাছে তার সমস্যা সমাধানের জন্য সাহায্য চাইতে খুব কম দেখা যায়। তবে এটি আদৌ কোনও চিন্তার বিষয় নয়। সম্পর্কের দিক থেকে কে, কার কাছে, কতটা সহজ হবে, সেটা মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এবং সেই অনুযায়ী একটি সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদান চলে। কিন্তু পারস্পরিক কথাবার্তার সময়ে একজন শিক্ষককে তাঁর বিপরীত লিঙ্গের পড়ুয়ার সঙ্গে কলেজের ঠিক করে দেওয়া নিয়মকানুন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটালে চলবে না।

কীভাবে একজন শিক্ষক বুঝতে পারবেন যে, তিনি কোনও পড়ুয়ার জন্য অত্যন্ত বেশি পরিমাণে চিন্তাভাবনা করছেনঃ ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষকের সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে কোনও ভেদাভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়। কোনও একজন ছাত্র বা ছাত্রীর প্রতি শিক্ষকের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে যাওয়া কখনোই সঠিক কাজ নয়। এমনটা হতেই পারে যে, কোনও একটি বিশেষ ছাত্র বা ছাত্রী একজন শিক্ষকের কাছে সহজ হয়ে, তাঁকে বিশ্বাস করে সব সমস্যা খুলে বলতে ইচ্ছুক। এই ক্ষেত্রে সেই শিক্ষকের প্রতি ওই পড়ুয়ার নির্ভরশীলতাও অনেক বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রকে সাহায্য করার জন্য শিক্ষকের উচিত আত্মসচেতন হয়ে নিজের ভাবাবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা। এইক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের করণীয় বিষয়গুলি হল—

  • শিক্ষককে অবশ্যই ছাত্রের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলতে হবে। তবে এই ক্ষেত্রে শিক্ষকের সময়মতো ছাত্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা জরুরি।
  • এমন পরিস্থিতি হতেই পারে যে, পড়ুয়াদের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে শিক্ষকের যথাযথ পদ্ধতি জানা নেই। সেখানে কাউন্সেলরের সঙ্গে যোগাযোগ করা একান্তভাবে দরকার।
  • ছাত্র-শিক্ষকের কথাবার্তার মধ্যে স্থিরতা এবং কথা ও কাজের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। যেমন—শিক্ষক যদি ছাত্রের সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট সময় কথা বলার জন্য ধার্য করেন, তাহলে সেই কথা অনুসারে কাজ করা শিক্ষকের অন্যতম দায়িত্ব।
  • যদি শিক্ষক বুঝতে পারেন যে, কোনও ছাত্র বা ছাত্রী তাঁর সময় এবং শক্তি অযথা নষ্ট করতে চাইছে, অথচ শিক্ষকের সাহায্য ছাড়াই ছাত্র বা ছাত্রী তাদের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম, তাহলে শিক্ষককে আত্মনিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। আর সেই সঙ্গে ওই ছাত্র বা ছাত্রীকে বোঝাতে হবে যে, তাদের সত্যিকারের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে শিক্ষক অবশ্যই সাহায্য করবেন। কিন্তু প্রয়োজন না হলে শিক্ষক অযথা সময় নষ্ট করতে আগ্রহী নন।

যাইহোক, শিক্ষকরা একজন কাউন্সেলরের মতো মানসিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তত দক্ষ ব্যক্তি নন। এতদসত্ত্বেও ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তাদেরকে চেনা, জানা ও বোঝার জন্য একজন প্রকৃত শিক্ষকের উপস্থিতি একান্তই জরুরি।