We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

ডিসপ্রেক্সিয়া

ডিসপ্রেক্সিয়া কি?

ডিসপ্রেক্সিয়া শিশুদের সূক্ষ্ম অথবা স্থূল কার্যবিষয়ক অঙ্গ সঞ্চালন সহযোজন ব্যবস্থার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। ডিসপ্রেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের দাঁত মাজতে, জুতোর ফিতে বাঁধতে, হাতে কোন বস্তু ধরে থাকতে, কোন জিনিষ সরাতে অথবা গোছাতে বা একই ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকতে অসুবিধে হয়। ডিসপ্রেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশুর এমন সব সূক্ষ্ম বা স্থূল কাজ করতে অসুবিধে হয় যাতে হাতের বা পায়ের মাংসপেশির দক্ষ সহযোজন অনিবার্য।

বেশীরভাগ ডিসপ্রেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ডিসলেক্সিয়া, ডিসক্যাল্কুলিয়া বা এট্যানশন ডেফিসিট হাইপারএক্টিভিটি ডিস্‌অর্ডারের উপসর্গ-ও থাকে।

ডিসপ্রেক্সিয়ার লক্ষণ কি কি?

ডিসপ্রেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের নিম্নলিখিত অসুবিধে হতে পারে –

স্থূল কার্যবিষয়ক অঙ্গ সঞ্চালন ক্ষমতা (গ্রস মোটর স্কিল্স)

  • কোন বস্তুকে হাতে ধরে থাকা, মাটিতে পড়তে না দেওয়া
  • খেলাধুলো বা ব্যায়াম করার সময় শারীরিক সহযোজন বজায় রাখা
  • হাঁটা, লাফানো, বল ছোঁড়া বা ধরা, সাইকেল চালানো
  • হাঁটা চলা করার সময় বারবার জিনিষে হোঁচট না খাওয়া বা এমনভাবে বারবার ধাক্কা না খাওয়া যাতে জিনিসগুলো উলটে পড়ে যায়
  • চোখ আর হাতের ভালো সহযোজন দরকার এমন খেলায় বা কাজে অংশগ্রহণ করা

সূক্ষ্ম কার্যবিষয়ক অঙ্গ সঞ্চালন ক্ষমতা (ফাইন মোটর স্কিল্স)

  • বোতাম লাগানো, আঙুল দিয়ে পেন্সিল ধরা বা কাঁচি দিয়ে কিছু কাটার মতন এমন সব কাজ যার জন্য উন্নত মানের সূক্ষ্ম কার্যবিষয়ক অঙ্গ সঞ্চালন ক্ষমতা প্রয়োজন
  • ছোট বস্তু, যেমন খেলনা ঘর বানানোর টুকরো বা ধাঁধার ছোট ছোট অংশ, নিয়ে কাজ করা

বাকশক্তি

  • কণ্ঠের স্বর, আওয়াজের উচ্চতা বা নিম্নতা, কথা বলার গতি, ইত্যাদির পরিবর্তন
  • স্পষ্ট উচ্চারণ করে স্বাভাবিক গতিতে কথা বলা। খুব ধীর গতিতে কথা না বলা

আর্থসামাজিক

  • কাজকর্মে দক্ষতা, খেলাধুলো করা বা কথাবার্তা বলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস
  • দল ভিত্তিক ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ করা
  • শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে মেলামেশা করা

স্মৃতিশক্তি এবং একাগ্রতা

  • স্কুলে এবং বাড়িতে বিভিন্ন কাজের সংযোজনায়ের ধারা মনে রাখা এবং সঠিক ভাবে করা। যেমন স্কুলের বইপত্র গুছিয়ে ব্যাগে রাখা, গৃহকার্য সম্পূর্ণ করা, টিফিন নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি

শূন্যস্থানের আপেক্ষিকতা সম্পর্কে ধারনা

  • সঠিকভাবে জিনিষকে শূন্যস্থানে রাখা বা জিনিষকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরানো

ডিসপ্রেক্সিয়া কেন হয়?

ডিসপ্রেক্সিয়া হওয়ার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। পর্যবেক্ষণ করে দেখা গিয়েছে যে স্নায়ুকোষের কোন অজ্ঞাত সমস্যার জন্যও মস্তিষ্ক মাংসপেশিগুলোকে সহযোজন সম্বন্ধিত সঠিক সংকেত পাঠাতে পারে না।

ডিসপ্রেক্সিয়া কি করে নির্ধারণ করা হয়?

কোন রোগ নির্ধারণ করার পরীক্ষার মাধ্যমে ডিসপ্রেক্সিয়া হয়েছে কি না বলা সম্ভব না। অকুপেশনাল থেরাপিস্টের মতো কোন বিশেষজ্ঞ পরিস্থিতির মূল্যায়ন করে নির্ধারণ করতে পারেন যে ডিসপ্রেক্সিয়া হয়েছে কি না।

বিশেষজ্ঞ নিম্নলিখিত সংকেতগুলোর ভিত্তিতে রোগ নির্ধারণ করেন –

  • কার্যবিষয়ক অঙ্গ সঞ্চালন ক্ষমতার বিকাশে বিলম্ব
  • কার্যবিষয়ক অঙ্গ সঞ্চালন ক্ষমতার দুর্বলতা, যা সেরিব্রাল পলসির মতো অন্য কোন স্নায়বিক ব্যাধির কারণে নয়

ডিসপ্রেক্সিয়ার চিকিৎসা

ডিসপ্রেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মা অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পীচ থেরাপিস্ট, মানসিক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষা বিশেষজ্ঞ বা শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করে তাঁদের পরামর্শ নিতে পারেন।

ডিসপ্রেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের পরিচর্যা

ডিসপ্রেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশুর নিজের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি বা সমস্যা ব্যক্ত করতে অসুবিধে হতে পারে। তাই আপনার উচিৎ তাঁকে আলোচনার মাধ্যমে নিজের সমস্যা ব্যক্ত করার জন্য উৎসাহিত করা। আপনি শিশুটিকে সহজ কাজকর্মের মাধ্যমে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার জন্য উৎসাহিত করুন যাতে তাঁর সহযোজন ক্ষমতা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে।