We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.
ডঃ নন্দিনী মুরলী

অর্ধবিরাম

সুইসাইড বিরিভমেন্ট সাপোর্ট গ্রুপ- বাঁচার আশা দেখায় - ডঃ নন্দিনী মুরলী

একজন মানুষের জীবনে শোকের সময়ে চারপাশে থাকা অন্যান্য মানুষের আন্তরিক সাহায্য বা সমর্থন শোক কাটিয়ে উঠার ক্ষেত্রে এক বড় ভূমিকা পালন করে। এই কাজটি কোনও মানুষ একা করতে পারে না বা তা চেষ্টা করাও উচিত নয়। বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনের দেওয়া সাহস ও তাদের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে দুঃখ দূর করার চেষ্টা কোনও দুর্বলতা নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জীবনে এটা একান্তই প্রয়োজনীয় বিষয়।

– অ্যালান উলফেট, আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইওর গ্রিফ।   

আত্মহত্যাজনিত দুঃখ হল বঞ্চিত হওয়ার দুঃখ। এর অর্থ হল এই দুঃখকে খোলা মনে স্বীকার করা হয় না, প্রকাশ্যে শোকজ্ঞাপন করা হয় না, সামাজিকভাবে সমর্থন ও তার যথার্থতা যাচাই করে দেখা হয় না। আমাদের সমাজে আত্মহত্যা এখনও একটা  নিষিদ্ধ কাজ বলে বিবেচিত হয়, তাই আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুকে সামাজিকভাবে মেনে নেওয়া হয় না। এর কারণ হল আত্মহত্যাকে ঘিরে থাকা চারটি বিষয়- কলঙ্ক, লজ্জা, গোপনীয়তা এবং নীরবতা। আত্মহত্যায় প্রিয়জন হারানো মানুষ সমাজে একা হয়ে যায় এবং তাদের প্রতি সমাজ অসংবেদনশীল মনোভাব দেখায়।

আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর পর আত্মহত্যার জটিলতা ক্রমশ দুঃখের জটিলতায় পরিণত হয়। আমার জীবনে একটা আত্মহত্যার ঘটনার পর শোক-পর্বের একেবারে শুরুতে   আমার মনে হয়েছিল কেউই আমার জীবনের দুর্ভাগ্য বা বিপজ্জনক অবস্থাটিকে বুঝতে পারছে না। তাই স্বভাবতই তারা কীভাবে আমার পাশে থাকবে? আসলে আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুকে আদর্শ মৃত্যুর ধরন বলে মনে করা হয় না; তাই প্রথাগত  চিন্তাভাবনার দিক থেকে আত্মহত্যাজনিত শোক এবং দুঃখ যে প্রত্যেকটি মানুষের মনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা স্বাভাবিকভাবে রেখাপাত করে তা নয়। যখন মানুষ একটি আত্মহত্যা ঘটার পিছনের রহস্যকে পুরোপুরি বুঝতে পারে তখন তার কাছে আত্মহত্যার উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়। আমার মনে হয়েছিল আমার ক্ষেত্রে চারপাশের মানুষজন এই বিষয়টি বুঝতে পারেনি। এটা খুবই খারাপ লাগে আর এক্ষেত্রে আমার উপলব্ধি হল অধিকাংশ মানুষ সমানুভূতি প্রকাশ করতে পারে না, তারা এমন ঘটনায় একেবারে হতভম্ব হয়ে পড়ে, কারণ এমন কোনও নজির বা দৃষ্টান্ত তাদের নিজেদের জীবনে নেই।

আমি আচমকা একটি অনলাইন সুইসাইড বিরিভমেন্ট সাপোর্ট গ্রুপ (এসবিএসজি)আবিষ্কার করেছিলাম – গ্রিফ রিলিফ ফর সার্ভাইবার্‌জ অফ সুইসাইড লস। এই গ্রুপ প্রিয়জনের আত্মহত্যার পরে যারা জীবিত থাকে তাদের দুঃখ মোচনের জন্য সবসময়ে সচেষ্ট থাকে। আমার ঠিক যা প্রয়োজন ছিল। এদের মূল নীতিগুলি প্রশংসনীয়। যেমন এই দলটি ক্লোস্‌ড গ্রুপ (সবাই সদস্য হতে পারে না) এবং নিজেদের জীবনে আত্মহত্যাজনিত ক্ষতির অভিজ্ঞতার উপরে ভিত্তি করে এই দলের সদস্য নিয়োগ করা হয়। আমিও এই দলে শামিল হয়েছিলাম। সমকক্ষ ব্যক্তিদের (পিয়ার-লেড)এই উদ্যোগটির সঞ্চালনা করেন লিন্ডা মার্শাল লেরুক্স। ইনি নিজেও আত্মহত্যার কারণে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন।  

এই প্রথমবার আমার মনে হয়েছিল যে আমি আর একা নই। এখানে আত্মহত্যাজনিত কারণে প্রিয়জন হারানো শোকগ্রস্ত মানুষ একে-অপরের সঙ্গে মেলামেশা করে এবং তারাই আমায় শক্তি জুগিয়েছিল ও আশা দিয়েছিল যাতে অপূরণীয় ক্ষতির পরেও আমি নিজের জীবনে এগিয়ে যেতে পারি। যদিও দুঃখ বা শোক কাটানোর কোনও নির্দিষ্ট একটা পন্থা নেই যা সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হতে পারে, অন্যের দুঃখকে বুঝতে শুরু করার পর আমি অনুপ্রেরিত এবং নম্র বোধ করতে শুরু করি। আমি যতটা পেয়েছি, ততটাই দিয়েছি।

এই ঘটনার স্বপক্ষে অনেক উদাহরণও রয়েছে। যেমন- এই দলের একজন সদস্য তার সঙ্গীর প্রথম আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুবার্ষিকীতে নিজের শোক আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিল। এর উত্তরে আমি আমার জীবনে আট মাসে আগে ঘটা আত্মহত্যাজনিত শোকের প্রতি নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম। আমি লিখেছিলাম, ''এমন যন্ত্রণাদায়ক সত্য এবং বাস্তব তুলে ধরার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমার স্বামীর আত্মহত্যার পর থেকে প্রতিদিন আমায় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে...এভাবেই আমার দিন-ক্ষণ-সময় কেটেছে। প্রথম বছরটা নাকি অবিশ্বাস্য চ্যালেঞ্জিং বলে মনে হয়। আমাকে বলা হয়েছে যে আত্মহত্যার ফলে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়, সেই ক্ষত মেনে নিতে তিনবছর সময় লাগে। এরই মাঝে আমরা লেগে থাকি... এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি...দুঃখকে দূরে সরিয়ে না দিয়ে দুঃখের সাগরে ভাসতে ভাসতে এগিয়ে যেতে থাকি...''

আরেকটি দৃষ্টান্তও তুলে ধরতে চাই। এক দম্পতি তাদের অল্পবয়সি ছেলের আত্মহত্যার পরে স্পিক (আত্মহত্যা প্রতিরোধের উদ্যোগ যার স্থাপনা আমি গত বছর করেছি) এর মাধ্যমে আমার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। সুইসাইড বিরিভমেন্ট সাপোর্ট গ্রুপ হিসেবে স্পিক-এর সেটাই ছিল সুত্রপাত। এসবিজিএস-এর অর্থ হল এটা এমন একটা সংস্থা বা মঞ্চ যেখানে পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী বা মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞরা আত্মহত্যার দ্বারা তাদের প্রিয়জনদের হারানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

এখানে সেইসব মানুষই মূল আলোচ্য বিষয় হয় যারা তাদের জীবনের কোনও না কোনও সময়ে প্রিয়জনের আত্মহত্যাজনিত শোকের মুখোমুখি হয়েছে; কিন্তু যে আত্মহত্যা করেছে সে এই মঞ্চে আলোচনার বিষয়বস্তু হয় না। এই দলের সদস্যরা একসঙ্গে হয়ে নিরাপদভাবে, সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এবং নিজেদের মতামত অন্যদের উপরে চাপিয়ে না দিয়ে জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান করতে সচেষ্ট হয়। এভাবেই সদস্যরা তাদের মানসিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় বা গড়ে তোলে। সদস্যরা দুঃখের এই প্রক্রিয়াটিকে মনোযোগ সহকারে খতিয়ে দেখে এবং তার মোকাবিলার কৌশল সন্ধান করে। এভাবেই তারা দুঃখের মধ্য দিয়ে নিজেদের জীবনকে নতুন করে গড়ে তোলে এবং জীবনের রূপান্তর ঘটায়।

সুইসাইড বিরিভমেন্ট সাপোর্ট গ্রুপ কী কাজ করে?

এই ধরনের গ্রুপ অনলাইন বা অফলাইন দু'রকম মাধ্যমেই কাজ করে। এমন দল পিয়ার-লেড অর্থাৎ সমকক্ষ মানুষের নেতৃত্বে অথবা বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে (সাধারণত মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞ) পরিচালিত হয়। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে সমকক্ষ মানুষের নেতৃত্বে পরিচালিত দলগুলো অনেক বেশি কার্যকরী হয়। জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্রে এদের বিকল্প নেই। প্রত্যেকটি আত্মহত্যার ঘটনা একে-অপরের থেকে আলাদা এবং আত্মহত্যাজনিত দুঃখের প্রভাব প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এই ধরনের দল জীবনের এরকম আতঙ্কিত দুঃখগুলোকে এক সুতোয় গাঁথার কাজ করে।

আত্মহত্যার দ্বারা প্রিয়জন হারানো মানুষগুলোর মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন খুব দৃঢ় হয়। যদিও আমাদের প্রত্যেকের জীবনে প্রিয়জনদের আত্মহত্যার পেক্ষাপট বা পরিস্থিতি আলাদা হয়, তবু আমাদের অনুভূতি, চিন্তাভাবনা, প্রশ্ন এবং দুঃখের পর্যায়গুলোর মধ্যে এক অদ্ভুত মিল দেখা যায়। এসবিএসজি সেইসব মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ও আলাপ-আলোচনা করার সুযোগ করে দেয় যারা প্রত্যেকে এমন গভীর শোক অনুভব করেছেন।

এসবিএসজি-র বিভিন্ন উপকারিতাগুলির মধ্যে এগুলো রয়েছেঃ সমাজ-বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধতা করে একটি নিরাপদ, পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলে, বিশ্বাসের বাতাবরণ স্থাপন করে, এই দলের মধ্যে অনুপ্রেরণাগত আদর্শ চরিত্রের মানুষের উপস্থিতি থাকে (সমকক্ষ মানুষরা আত্মহত্যার মতো দুঃখজনক ঘটনাকে অর্থবহ করে তোলে), এরা প্রিয়জন হারানো মানুষের মধ্যে নতুন করে আশা জাগাতে  সাহায্য করে। এসবিএসজি-র মধ্যে কোনও মানুষেরই একক প্রাধান্য থাকে না। দলের প্রত্যেক সদস্যের অভিজ্ঞতা সমানভাবে মূল্য পায় এবং প্রতিটি সদস্যের কথা  সমানভাবে শোনা হয়, দেখা হয় ও স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এসবিএসজি-র তিনটি মূল কাজ হল সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়া (কষ্টকে স্বীকার করা এবং মানবিক দুর্বলতাকে হেয় না করা), উৎসাহ জোগানো (মানুষের জীবনকে স্বাভাবিক ও ইতিবাচক করে তোলা), এবং তাদের সঠিক শিক্ষাদান করা (সমস্যার স্বাস্থ্যকর মোকাবিলার জন্য দক্ষতা ও কৌশলের সন্ধান করা)।

এধরনের সাপোর্ট গ্রুপের উপকারিতা আর থেরাপি কি একইরকম ভাবে কাজ করে?

এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এসবিএসজি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে বা দলগতভাবে থেরাপি বা কাউন্সেলিং করে না। এই সাপোর্ট গ্রুপ আত্মহত্যার পরে একজন প্রিয়জন হারানো মানুষকে শোক-দুঃখ কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। এই দলের প্রধান লক্ষ্য হল প্রিয়জনের আত্মহত্যার ঘটনার পর মানুষকে আবার নতুন করে বাঁচতে শেখানো এবং তাদের জীবনের অধরা ছন্দ নতুনভাবে গড়ে তোলা। দলের মডারেটর সদস্যদের জীবনের লড়াই এবং দুঃখকে পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য উৎসাহ দেয়, বিরূপ পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য কৌশলের সন্ধান করে এবং সদস্যদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের জীবনে দলগত চিন্তাভাবনার, সহযোগিতা এবং উৎসাহ দানের পরিবেশ গড়ে তোলে। আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর কারণগুলিকে সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরা দলের মডারেটরের অন্যতম দায়িত্ব। কারণ এর ফলে অন্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করার সম্ভাবনা থাকে। এসব ক্ষেত্রে যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে আলাদা করে আলোচনা করার জন্য উৎসাহিত করা হয়, এবং প্রয়োজন মতো একজন কাউন্সেলর বা ট্রমা থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলার জন্য রেফার করা যেতে পারে।  

এসবিএসজি-র মিটিং-এ যেসব সমস্যা নিয়ে সাধারণভাবে আলোচনা করা হয় সেগুলো হল- আত্মহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্তি ও ভুল ধারণার বিষয়ে, প্রিয়জন হারানো মানুষের দুঃখ বা শোকের বহিঃপ্রকাশ ঠিক কেমন হতে পারে, অবসাদ এবং উদ্বেগের মোকাবিলা, লজ্জা এবং অপরাধ বোধ, বাচ্চাদের দুঃখ, দুঃখ বা শোক মোকাবিলার দক্ষতা এবং কৌশল, বিশেষজ্ঞদের সাহায্য, মানুষকে নতুন করে বাঁচতে শেখানো এবং মানসিক স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলা।

মানুষের শোকের ঠিক কোন পর্যায়ে সে এইধরনের সমর্থনকারী দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে তা নিয়ে কোনও বাধা-ধরা নিয়মকানুন নেই। সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গী হল শোকের পর অন্তত একমাস নিজের অবস্থা বোঝার জন্য মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়। অবশ্য এক্ষেত্রে সাপোর্ট গ্রুপের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত মানুষের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের উপরেই নির্ভর করে। পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুরা এইধরনের গ্রুপের বিষয়ে তাদের জানাতে পারে।

এরকম বিভিন্ন উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও, সুইসাইড বিরিভমেন্ট সাপোর্ট গ্রুপের (অনলাইন এবং অফলাইন) গড়ে ওঠা ও তার অস্বিত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হয়। আত্মহত্যা নিয়ে মানুষের মনে যে কলঙ্কের বোধ জেগে ওঠে, তার ফলে প্রিয়জন হারানো মানুষের মধ্যে এই ধরনের সাপোর্ট গ্রুপের কাছে সাহায্য চাওয়া বাস্তবে খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। যতদিন না আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে  সমাজের মূলস্রোতে গভীর আলাপ-আলোচনা শুরু হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত সাপোর্ট গ্রুপের উপকারিতা সমগ্র সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয়ে কেবল মুষ্টিমেয় মানুষের কাছেই সীমাবদ্ধ হয়ে থাকবে।

ডাঃ নন্দিনী মুরলী পেশাদারী ভাবে যোগাযোগ,লিঙ্গ এবং বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করেন সম্প্রতি নিজের প্রিয়জনকে আত্মহত্যায় হারানোর পর তিনি এম এস চেল্লামুথু ট্রাস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সাথে হাত মিলিয়ে স্পিক নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেন,যার মূল উদ্দেশ্য হল আত্মহত্যা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা