ডাঃ এডওয়ার্ড হফ্‌ম্যান

ইতিবাচক জীবনযাপন

পরার্থপরতার মনোবিজ্ঞান - ডাঃ এডওয়ার্ড হফ্‌ম্যান

এমন একটি পৃথিবীতে, যেখানে রোজই অসংখ্য ছোট বড় সংঘাতের ঘটনা ঘটছে, আমাদের পরার্থপরতার ক্ষমতার গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আশ্চর্য হওয়ার কথা নয় যে আজকাল মনোবিজ্ঞানীরা এই বিশেষ পরিচর্যার ঘটনাকে বোঝার জন্য উৎসাহী হয়ে পড়েছেন, অবশ্যই এই আশার সঙ্গে যে এমন জ্ঞান মানুষের মধ্যে সংহতি বাড়িয়ে তুলবে। ইতিবাচক মনোবিজ্ঞানের দ্রুত বৃদ্ধির ফলে মানবিক আচরণের প্রতি কৌতূহল বাড়ছে। কিন্তু এই কৌতূহল কোনও নতুন ঘটনা নয়। ষাট বছর আগে মনোবিজ্ঞানী আব্রাহাম মাস্‌লো মানুষের স্বভাবের সন্দর্ভে অসুস্থতা এবং বিকারতত্বের উপর ঝোঁকের নিন্দা করে বলেছিলেন “সহৃদয়তা, উদারতা, দয়াশীলতা এবং দানশীলতা খুবই সামান্য স্থান পেয়েছে সামাজিক মনোবিজ্ঞান পাঠ্যবই-এ।” সামাজিক জীবনের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে মনোবিজ্ঞানের ঝোঁক নিয়ে উনি কটাক্ষ করেন, “নিঃস্বার্থপরতার উপর গবেষণাগুলো কোথায়?”

মাস্‌লোর চ্যালেঞ্জ আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এখনো সামাজিকভাবে সহানুভূতিশীল আচরণ সম্পর্কে খুবই সামান্য প্রামাণিক জ্ঞান রয়েছে, বিশেষ করে তার প্রাপকদের দৃষ্টিকোণ থেকে। এই কারণেই আমি আন্তর্জাতিক গবেষণাবিদদের একটি দলের সঞ্চালন করছি মাস্‌লোর সাহসী দৃষ্টির উপর ভিত্তি করে। আমাদের সাম্প্রতিক ফলাফল নিয়ে আলোচনা করার আগে, আসুন শুরুর থেকে ক্ষেত্রটির কীভাবে অগ্রগতি হয়েছে তা পরীক্ষা করে দেখি।

পরার্থপরতাঃ বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

পরার্থপরতা যাকে ইংরেজিতে ‘অল্ট্রুইস্ম’ বলা হয়, ল্যাটিন শব্দ “অল্টার” (“অপর”) থেকে এসেছে, যার আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় “অপর-বাদিতা”। ১৯ শতকের মধ্যভাগে ফরাসি দার্শনিক-সমাজবিজ্ঞানী আগস্টে কম্ট স্বার্থপরতার বিপরীতার্থক ধারণা হিসেবে সমাজবিজ্ঞানে এই ধারণাটি আনেন; এই শব্দের প্রথম ব্যবহার ১৮৫৩ সালে করা হয়েছিল বলে অক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান জানিয়েছে। সেই সময় থেকে এই ধারণাটি আন্তর্জাতিক সামাজিক এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অভিধানে জায়গা করে নিয়েছে। কম্টের অতন্ত প্রভাবশালী মত অনুযায়ী মানুষের জীবনে দুটি স্বতন্ত্র উদ্দেশ্য আছেঃ অহংবোধ এবং পরার্থপরতা। যদিও কম্টের মতে বেশিরভাগ মানবিক ব্যবহার নিজেকে ঘিরে, উনি অন্যদের সাহায্য করার নিঃস্বার্থ ইচ্ছেকে অনুপ্রাণিত করার মাধ্যম রূপে দেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ফ্রেঞ্চ সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডারখিম অনুরূপ ধারণাগুলি উন্নত করেছিলেন দা ডিভিশান অফ লেবার ইন সোসাইটি-তে। ১৮৯৩ সালের এই লেখনীতে উনি তর্ক করেছিলেন যে পরার্থপরতা এবং অহংবোধ মানুষের ইতিহাসের সব কালেই উপস্থিত ছিল, কারণ গোষ্ঠীতে বসবাস করার জন্য কিছুটা পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। যদিও ডারখিমের ধারণার দার্শনিক গুরুত্ব অনেকটাই, উনি কখনো পরার্থপরতার পরিমাপ বা গবেষণার সাহায্যে এর ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেননি।

অনেক দশক পরে পরার্থপরতা সামাজিক বৈজ্ঞানিক আর সাধারণ উৎসাহের জগতে স্থান পায় পিটিরিম সোরোকিন-এর পাণ্ডিত্যপূর্ণ নিবন্ধগুলির জন্য। উনি একজন রাশিয়ান দেশান্তরী, যিনি ১৯২০ এবং ১৯৩০-এর দশকে মার্কিনী সমাজবিজ্ঞানের ভীত স্থাপন করেছিলেন, আর দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের ভয়াবহ মৃত্যু আর ধ্বংসের পরে তিনি পরার্থপরতার প্রতি অনুগত হয়ে পড়েন। ১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে সোরোকিন পরার্থপরতার উপর আমেরিকা এবং বিদেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণার পথ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য নিয়ে হার্ভার্ড রিসার্চ সেন্টার ফোর ক্রিয়েটিভ অল্ট্রুইস্ম স্থাপন করেন। ১৯৫০-এ তাঁর বই অল্ট্রুইস্টিক লাভ-এ বিশিষ্ট পরার্থবাদীদের জীবন এবং অভ্যাসের উপর আলোকপাত করা হয়, যাদের মধ্যে ছিলেন খ্রিস্টান সন্ত এবং আমেরিকান ভাল প্রতিবেশী উভয়ই।

সোরোকিন যাদের প্রভাবিত করেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাস্‌লো, যিনি ১৯৫৫ সালে রিসার্চ সেন্টার ফোর ক্রিয়েটিভ অল্ট্রুইস্মের সহ-প্রতিষ্ঠাতার আসন লাভ করেন। মাস্‌লো, যিনি সরাসরি চিকিৎসক আলফ্রেড এডলারের কাছ থেকে শিক্ষালাভ করেছিলেন ১৯৩০-এর দশকে, এডলারের সাথে একমত ছিলেন যে সহানুভূতি, বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতা সুস্থ মানুষের ব্যক্তিত্বের মৌলিক দিক – এবং খুবই উৎসাহী ছিলেন এই ধারণাটিকে প্রমাণ করার জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণাতে। দুর্ভাগ্য এই যে খুবই তাড়াতাড়ি মাস্‌লো আবিষ্কার করেন যে সোরোকিনের সংস্থার সঞ্চালনা ভালো ভাবে হচ্ছিল না এবং এটি ভালভাবে কাজ করতে পারছিলো না। ১৯৭০ সাল অবধি সোরোকিন এবং মাস্‌লো দুজনেই মারা গিয়েছিলেন, এবং পরার্থপরতার বিষয়ে মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণা পরের কুড়ি বছর স্তব্ধ হয়ে থাকে।

১৯৮০-এর দশকের শেষের দিক থেকে ১৯৯০-এর দশকে পরার্থপরতার উপর বৈজ্ঞানিক গবেষণা আবার চালু হয় দুটি বিশিষ্ট ধারার জন্য – প্রথমটি ‘হিরো’ খোঁজার জন্য যার কেন্দ্রে ছিলেন এমন ধরণের সাহসী ব্যক্তিরা যারা পরার্থপরতার নিদর্শন রেখে গিয়েছেন, যেমন যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর থেকে ইউরোপীয় ইহুদীদের রক্ষা করেছিলেন, এবং অত্যন্ত বিখ্যাত অসামান্য পরার্থবাদীদের নিয়ে যেমন মহাত্মা গান্ধী এবং মাদার টেরেসা। এই ধরনের গবেষণা মূলত কাহিনী ভিত্তিক ছিল এবং এর খুব সামান্য বৈজ্ঞানিক মূল ছিল। শুধুমাত্র একটি সুসংগত খোঁজের ভিত্তি ছিল মূল পরিমাপ, এবং সেটা ছিল যে পরার্থবাদী ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষেরা অন্যদের তুলনায় বেশী নাম্বার পেয়েছেন সমানুভূতি এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয় ধারাটি এসেছে বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের ক্রমবর্ধমান উপ-ক্ষেত্র থেকে, যেহেতু এই ধারায় বিশ্বাসীদের যুক্তি যে মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ভাব এবং দয়ালু আচরণ মানুষের দলের বেঁচে থাকার জন্য প্রাকৃতিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা বহন করে। উদাহরণের জন্য, গবেষকদের মতে, যে মা তার সন্তানদের বাঁচানোর জন্য নিজের প্রাণ ত্যাগ করে সে হয়তো জিনগত অভিযোজিত আচরণ করছে – যেহেতু শুধু সে বেঁচে থাকার তুলনায় তার জিনের প্রতিরূপ অনেকটা সময় ধরে তার সন্তানদের মধ্যে দিয়ে বেঁচে থাকবে এবং বেশী শক্তিশালী জিনগত সুস্থতায় সহযোগী হবে।

যদিও পরার্থপরতা নিয়ে মনোবিজ্ঞান আবার উৎসাহী হয়েছে, বেশিরভাগ গবেষণামূলক পরীক্ষার ফোকাস ল্যাবে পরীক্ষামূলকভাবে সহায়তা করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়। সাধারণত, এই ধরনের গবেষণায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তিদের একবার হওয়া সাক্ষাৎ পরীক্ষা করে দেখা হয়। অন্যান্য গবেষণায় বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যক্তিদের মধ্যে যেমন- মন্ত্রী, নার্স এবং কলেজের ছাত্রদের আত্ম-বিবরণ সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে এই ধরণের গবেষণা থেকে কিছু ফলাফল পাওয়া যায়, কিন্তু এই তথ্যের ভিত্তিতে ‘বাস্তব জীবনে’ পরার্থপরতার পরিমাপ করা খুব বেশী সম্ভব নয়।

পরার্থপরতা অনুভব করার উপকারিতা

বিগত দুবছর ধরে আমি একটি আন্তর্জাতিক দলের সঞ্চালনা করছি যা অপ্রত্যাশিত পরার্থপরতার মানসিক উপকারিতা যাচাই করে দেখছে। কারণ যদিও মনোবিজ্ঞানীরা ‘সহযোগীর উত্তাল’ – মানে, সহানুভূতি বা উদারতা সম্পন্ন কোনও কাজ করে যে মানসিক উত্তাপ অনুভব হয় - নিয়ে অনেকটা গবেষণা ভিত্তিক তথ্য একত্র করতে পেরেছেন, বৈজ্ঞানিক ভাবে খুবই কম জ্ঞান রয়েছে পরার্থপরতা কীভাবে এর প্রাপকদের প্রভাবিত করে তা নিয়ে। আমার সহকর্মী এবং আমি এমন অভিজ্ঞতার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করার জন্য ভেনেজুয়েলাকে বেছে নিই – এমন একটি দেশ যার অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং যেখানে বিশ্বের সর্বোচ্চ হত্যা হার, এবং এর সঙ্গে মিলিত হয়েছে বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলির ব্যাপক পতন। ১৫০ জন মতো ব্যক্তি আমাদের অনলাইন প্রশ্নাবলীর উত্তর পাঠান (যার মধ্যে আঠজন ভেনেজুয়েলার অধিবাসী)। ওদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে ওরা কি কখনো অপ্রত্যাশিত পরার্থপরতা পেয়েছেন, এবং এর উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে এটা তাঁদের জীবনকে পরবর্তীকালে কীভাবে প্রভাবিত করেছে। ওদের আরও বিস্তারিত ভাবে এর প্রভাবের বর্ণনা দিতে বলা হয় দশটি মানসিক ভাবের উপর - মানুষের প্রকৃতি সম্পর্কে আশা, সামাজিক সম্পর্কে ভরসা, জীবনের প্রতি সমাদর, কৃতজ্ঞতাবোধ, আত্ম-মর্যাদা, অন্যদের কাছে মূল্যবান হওয়ার অনুভূতি, অন্যদের প্রতি সমানুভূতি, অন্যদের সাহায্য করার অনুপ্রেরণা, সাধারণভাবে শক্তি এবং উৎসাহ, এবং ধার্মিক বিশ্বাস।

চমকপ্রদ ফলাফল হল এই যে তিন ভাগের মধ্যে দুই ভাগ অংশগ্রহণকারীরা, যাদের এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে, জানিয়েছেন যে এর সাংঘাতিক প্রভাব তারা অনুভব করেছেন। ৩০% জানিয়েছেন যে এই অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণভাবে তাদের জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছে। অনেকেই বিশিষ্টভাবে কৃতজ্ঞতা অনুভব করার শক্তিশালী অনুভবের কথা জানিয়েছেন। যেমন, একজন ৩০-এর মাঝামাঝি বয়স্ক মহিলা জানিয়েছেন যে, “কিছু বছর আগে আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি আর আমার ছোট বোন আমার এবং আমার বাচ্চাদের দেখাশুনা করে। এক মাস ধরে সে আমাদের সাথে থাকে এবং রান্না থেকে শুরু করে ঘর পরিষ্কার করা অবধি সবকিছুর দায়িত্ব সে নেয়। ওর কাছে আমি খুবই কৃতজ্ঞ।” আরও নাটকীয়ভাবে বছর কুড়ির এক ছেলে জানিয়েছে যে, “গত বছর আমি রাতে বাড়ি ফিরছিলাম এবং গুণ্ডারা আমাকে গুলি করে আহত করে দেয়। আমার প্রতিবেশীর ছেলে যে ডাক্তারি পড়ছিল, রান্নাঘরের সরঞ্জাম ব্যবহার করে আমার গুলি বার করে এবং আঘাত সেলাই করে দেয়। পরের দিন সকালে সে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে নিয়ে যায় যেখানে ও পড়াশুনা করছিল, এবং তারা আমার চিকিৎসা পূর্ণ করে। ওর সাহসের জন্যই আমি আজ বেঁচে আছি, এবং ওর কাছে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।” বছর ৫০-এর একজন মহিলা জানিয়েছেন – “ছয় বছর আগে আমার মেয়ে একটা খোলা জায়গায় দৌড়াদৌড়ি খেলতে গিয়ে পড়ে যায় এবং ওর মাথা ফেটে যায়। প্রথম যিনি আমার সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন তিনি ছিলেন আমারই বয়সী একজন মহিলা যিনি আমাকে শান্ত করেন, ট্যাক্সি ডেকে আনেন, আর ড্রাইভারকে ভাড়া মিতিয়ে দেন। উনি আমার জন্য সব করেন যার বদলে উনি আমার কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা ছাড়া কিছুই পাননি।”

মানুষের অভিজ্ঞতা যত গভীর হয়, তার প্রভাব এই দশটি ভাবের উপর তত বেশী পড়ে – কৃতজ্ঞতাকে বাদ দিয়ে (কারণ এর ফলাফল পরিসংখ্যান দ্বারা প্রভাবিত হয়)। অন্যভাবে বললে, অপ্রত্যাশিত পরার্থপরতার অনুভবের ফলে বিশিষ্ট মানসিক লাভ সম্ভব, যা ভালো থাকার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন ধারা এবং মনভাবের উপর জোরালো প্রভাব ফেলে। মানবিকতার প্রতি বিদ্রূপপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে দয়াময় দৃষ্টিভঙ্গির উপর করা গবেষণার স্বাস্থ্যের উপর প্রভাবের ফলাফল থেকে বলতে পারি যে আমি এমন অন্য খুব অল্পসংখ্যক পারস্পরিক অভিজ্ঞতার কথা ভাবতে পারি, যা আবেগ, মনোভাব, এমনকি শারীরিকভাবে ভালথাকার উপর এইরকম জোরালো প্রভাব ফেলতে পারে।

সত্তর বছরেরও বেশী সময় আগে মাস্‌লো প্রথম জানিয়েছিলেন একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গির তার ব্যবহারকে কীভাবে প্রভাবিত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি স্বৈরাচারী দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত ব্যক্তি, যারা “উদারতা কে দুর্বলতা” মনে করেন এবং অন্যদের উপর রাজত্ব করার চেষ্টা করেন, তাদের তীব্র পার্থক্যের কথা জানিয়েছিলেন এমন ব্যক্তিদের তুলনায় যাদের দৃষ্টিভঙ্গি সাম্যবাদী এবং যারা মনোনিবেশ করেন “সামাজিক সমস্যা, অধ্যাত্মিক সমস্যা [এবং] পৃথিবীর বাস্তবিক সমস্যাগুলির উপর।” আজকে একটি সম্পূর্ণভাবে ভিন্ন বৈশ্বিক যুগে বসবাসরত সংশ্লিষ্ট পুরুষ ও নারীদের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল একে অপরকে আরও সদয় ভাবে দেখতে শিখতে সাহায্য করা। পরার্থপরতার বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই লক্ষ্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

 

ডাঃ এডওয়ার্ড হফ্‌ম্যান নিউ ইয়র্কে ইয়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যক্ষ। তাছাড়া উনি একজন অনুমতিপ্রাপ্ত মনোচিকিৎসক। মনোবিজ্ঞান জগতে ওঁনার সম্পাদিত এবং লেখা ২৫টিরও বেশী বই আছে। সম্প্রতি ডাঃ উইলিয়াম কম্পটন রচিত পজিটিভ সাইকোলজি: দ্য সায়েন্স অফ্‌ হ্যাপিনেস অ্যান্ড ফ্লারিশিং বইটিতে সহ লেখকের ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া উনি ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ্‌ পজিটিভ সাইকোলজি এবং জার্নাল অফ্‌ হিউম্যানিস্টক সাইকোলজি’র সম্পাদক মণ্ডলীর অন্তর্গত। আপনাদের কোন বক্তব্য বা জিজ্ঞাস্য থাকলে তাঁকে columns@whiteswanfoundation.org তে লিখে জানাতে পারেন।