সাহায্য নেওয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়

দায়িত্বের বোঝা কমানোর জন্য পরিবারের ও বন্ধুবান্ধবদের সাহায্য গ্রহন করুন

পরিচর্যা করা একটি কঠিন দায়িত্ব যা আপনাকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে খুব ক্লান্ত করে তুলতে পারে। অন্য কারোর কাছ থেকে সাহায্য নেওয়া সবসময় সহজ কাজ নয়। বিশেষ করে তখন, যখন আপনি একজন মনোরোগীর যত্ন নিচ্ছেন। কারণ তাঁদেরকে নিয়ে সমাজে অনেক কুণ্ঠা ও বৈষম্য জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি একজন পরিচর্যাকারী অন্য কারোর কাছ থেকে সাহায্য নেন, তাহলে তাঁরা নিজেদের পরিচর্যা করার দায়িত্ব থেকে একটু বিশ্রাম পাবেন।

যে পরিচর্যাকারীরা একজন মানসিক রোগীর পরিবারের সদস্য, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হন। বাড়তে থাকা খরচ, সময়ের অভাব, বদলে যাওয়া সামাজিক সম্পর্ক হল এক ধরণের চাপ, আর একজন পরিচর্যাকারী যে ধরণের আবেগজনিত সমস্যার সম্মুখীন হন, সেটি আরেক ধরণের চাপ। নিমহ্যান্সের মনোরোগ বিভাগের, সহ-অধ্যাপিকা ডাঃ আরতি জগন্নাথনের মতে “পরিবার থাকা সত্তেও, সাধারণত একজন নির্দিষ্ট পরিচর্যাকারী রোগীর দেখাশুনা করেন।” স্কিতজোফ্রেনিয়া বা অ্যালঝাইমারস্ রোগের মতো দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে অনেক বেশি যত্ন নিতে হয় যেমন, তাঁকে স্নান করানো, পরিষ্কার করানো, সময় মতো ওষুধ খাওয়ানো, ইত্যাদি। এই ভাবে একজন রোগীর পরিচর্যা করা খুব কঠিন হয়ে উঠতে পারে।  

কিছু জিনিস যা মনে রাখা দরকার

যখন একজন পরিচর্যাকারীকে অন্য কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তখন তাঁর মনে কিছু প্রশ্ন জাগে, যেমন “আপনি কেন আমাকে সাহায্য করতে চান, পরিবর্তে আপনি কি কিছু আশা করেন?” এর থেকে তাঁদের মনে গ্লানিও জন্মাতে পারে। যদিও অনেকে যত্ন করার বদলে তাঁদের কাছ থেকে কিছু চান, কিন্তু অনেকেই স্বেচ্ছায় তাঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। সেই ক্ষেত্রে একজন পরিচর্যাকারী তাঁদের কাছে ঘরের অন্য কাজের জন্য সাহায্য চাইতে পারেন।

সামাজিক মেলামেশাতে ভয়

একজন পরিচর্যাকারী হয়তো ভাবতে পারেন যে সমাজে কেউ তাঁকে মেনে নিতে পারছেন না, কারণ সমাজে মানসিক অসুস্থতা নিয়ে প্রচুর কুণ্ঠা রয়েছে। তাছাড়া, পরিবারের সদস্যদের জন্যেও তাঁর উপর আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে:

  • অযথা পরিবারের লোকজন তাঁদের লজ্জার কারণ করে তুললে
  • যদি পরিবারের লোকজন ক্রমাগত তাঁদের সমালোচনা করে
  • অথবা তাঁদেরকে একাকীত্বের দিকে ঠেলে দিয়ে

একাকীত্ব কাটিয়ে উঠতে একজন পরিচর্যাকারীর প্রয়োজন পরিবারের লোক ও বন্ধুবান্ধবদেরকে মানসিক রোগ সম্পর্কে সচেতন করা। তাঁরা যদি যথেষ্ট সচেতন হন, তাহলে একজন পরিচর্যাকারী তাঁদের থেকে সহজেই সাহায্য চাইতে পারেন। ডঃ জগন্নাথনের মতে, “সমাজ যদি একজন পরিচর্যাকারীকে  নির্দ্বিধায় মেনে নিতে পারে, তাহলে পরিচর্যাকারী সহজেই নিজের মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে পারবেন।” একজন পরিচর্যাকারী নিজের রোগীর যত বেশি পরিচর্যা করবেন, তাঁর মধ্যে তত বেশি মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে। আশেপাশের মানুষজনের কাছ থেকে সাহায্য পেলে আপনিও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন এবং আরও ভাল করে নিজের প্রিয়জনের যত্ন নিতে পারবেন।

সূত্র
আরতি জগান্নাথন – ফ্যামিলি কেয়ারগিভিং ইন ইন্ডিয়া: ইম্পর্টেন্স অফ নিড-বেস্‌ড সাপোর্ট অ্যান্ড ইন্টার্ভেনশন ইন অ্যাকিউট কেয়ার সেটিংস - জে পোস্টগ্র্যাড মেড [সিরিয়াল অনলাইন] ২০১৪ [উদ্ধৃত ২০১৫ জুলাই ১৫];৬০:৩৫৫-৬