We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

ব্লগ লেখা কি একজন মানুষকে ভালো রাখতে সাহায্য করে?

একজন মানুষের ভালো থাকা, সুস্থ হওয়া এবং বিকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে লেখা ব্লগগুলির ভূমিকা সম্বন্ধে আলোচনা

মধ্য আমেরিকার গুয়াতেমালার বিভিন্ন গ্রামে হাতে তৈরি ছোট আকৃতির পুতুল, যেগুলি মূলত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বা উদ্বেগরত পুতুল হিসেবেই পরিচিত ছিল, সেগুলি হামেশাই বাচ্চাদের সামনে হাজির করা হত। আসলে যে সব শিশুদের ঘুমের সমস্যা ছিল বা যারা লাগাতার মানসিক উদ্বিগ্নতার মধ্য দিয়ে জীবন কাটাত, তাদের জন্য এই পুতুলগুলি ছিল এক ধরনের হাতিয়ার বা সাহায্যকারী বস্তু। কথিত আছে যে, প্রতিদিন রাত্রে ঘুমানোর আগে যখন বাচ্চারা বাবা-মাকে বিরক্ত বা জ্বালাতন করত, তখন তারা ওই পুতুলগুলির কানে-কানে ফিসফিস করে তাদের সমস্যার কথা বলত। আর অন্যদিকে পুতুলগুলিও বাচ্চাদের সব সমস্যা, বিরক্তি উধাও করে দিয়ে তাদের রাতের ঘুম নিশ্চিত করত।

আমরা যারা অত্যন্ত ব্যস্ত জীবনযাপনে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এহেন পুতুলগুলি ঘুমের দেবতা বা আশীর্বাদ রূপে বিবেচিত হতে পারে। আর ইন্টারনেট-নির্ভর পৃথিবীতে এই ধরনের চিন্তান্বিত পুতুলের তথ্য-বিনিময় যে কতখানি সহজ এবং উপযোগী, তা বলাই বাহুল্য। আজকের দুনিয়ায় এক বিশাল সংখ্যক মানুষ, যারা নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর মাধ্যম, যা 'ব্লগ' (যার পুরো নাম ‘ওয়েবলগ’) নামে পরিচিত, তা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে ব্যবহার করছে। এই ব্লগের ব্যবহারের মধ্য দিয়ে এখন মানুষ নিজেদের চিকিৎসা নিজেরাই করতে সক্ষম।

আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা নানান কার্যকলাপ, তা সে ডাক্তারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাই হোক বা বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা, কোনও পত্রিকায় ব্যক্তিগত কিছু লেখা অথবা কম্পিউটারের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-কৌশল 'ব্লগ'-এ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে লেখালিখি— সর্বত্রই আমাদের অনুভূতিগুলি অক্ষরবিন্যাসের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে এবং এহেন ঘটনার ফলাফল যে সুদূরপ্রসারী, সে সম্পর্কে মানুষের মনে জন্মেছে একপ্রকার দৃঢ় ও স্থির বিশ্বাস। যখন আমরা আমাদের সমস্যাগুলি অক্ষর ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকাশ করছি, তখন আমাদের যুক্তি-বুদ্ধির ব্যাপক বিকাশ, মস্তিষ্কের সমস্যা-সমাধানকারী অংশ প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের সক্রিয়তা এবং আমিগডালা অর্থাৎ মস্তিষ্কের যে অংশটিতে আমাদের অনুভূতিগুলি সচল, সেটি অপেক্ষাকৃত কম ক্রিয়াশীল হচ্ছে। এইভাবে সমস্যাগুলি নিয়ে আমরা আবেগপ্রবণ  না হয়ে, অনেক বেশি যুক্তিগ্রাহ্য হয়ে ওঠার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। মানুষের ভাবপ্রকাশের ক্ষেত্রে লিখিত মাধ্যম বিষয়টিকে নিয়ে ইতিমধ্যেই বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। অন্যদিকে এই মাধ্যমটিকে চিকিৎসার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করার রীতি চালু হয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, আমরা যখন লেখার মাধ্যমে আমাদের চিন্তা ও অনুভূতির প্রকাশ ঘটাই, তখন তা আমাদের মানসিক চাপ কমাতে এবং স্মৃতিশক্তির বিকাশে প্রভূত পরিমাণে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে সাধারণত, ডাক্তারের উপরে অতিরিক্ত নির্ভরতাও হ্রাস পায়। এই বিষয়টির সঙ্গে স্বভাবত আমেরিকান সোশ্যাল সাইকোলজিস্ট ডাক্তার জেমস পেন্নেবাকেরও সহমত পোষণ করেছেন। দুই যুগেরও বেশি আগে, ডাক্তার পেন্নেবাকের তাঁর পরীক্ষা শুরু  করেছিলেন। যেখানে পর-পর তিন-চারদিন ২০ মিনিট ধরে কোনোরকম বিঘ্ন না ঘটিয়ে মানুষকে একটি সহজ বিষয়ের উপর লিখতে দেওয়া হত। যারা সফলভাবে সেই কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে ফলাফল ইতিবাচক হয়েছিল। এমনকী তাদের রোগ প্রতিরোধের শক্তিও এর ফলে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এক্সপ্রেসিভ আর্ট থেরাপিস্ট এবং চেন্নাইয়ের ইস্ট ওয়েস্ট সেন্টার ফর কাউন্সেলিং-এর ডিরেক্টর ম্যাগডালেন জয়ারথনাম-ও তাঁর কাছে সাহায্যের জন্য আসা মানুষকে ভালো রাখতে দৈনন্দিন লেখালিখির কাজে উৎসাহ দান করেন। তিনি এ-ও লক্ষ্য করেছেন, যে কোনওরকমের সৃষ্টিশীল রচনা একজন মানুষের কার্যকলাপের ক্ষেত্রে খুবই উপযোগী। এক্ষেত্রে জয়ারথনামের সেন্টারে আসা ১৬ বছরের একজন কিশোরের লেখা একটি গল্প উল্লেখযোগ্য। গল্পটি একদল আদিবাসী মানুষের, যারা নিজের দেশ ছেড়ে অন্য একটি শহরে এসে বসবাস করতে শুরু করে এবং অত্যন্ত সামান্য একটি কাজে নিযুক্ত হয়। একজন স্থানীয় রাজনীতিবিদ এই উপজাতি সম্প্রদায়টিকে নানাভাবে ঠকাতে এবং নির্যাতন করতে শুরু করে। কিন্তু সহসাই গল্পটি একটা ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ওই রাজনীতিকের ছেলে সেই উপজাতির মানুষগুলিকে সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে তাদের জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনে। এই গল্পটির মাধ্যমে জয়ারথনাম তাঁর কাছে আসা ওই ১৬ বছরের কিশোরটির জীবনসংগ্রাম উপলব্ধি করেন এবং সেও যে অতি সম্প্রতি খুব ছোট শহর ছেড়ে চেন্নাইয়ে এসেছে, সে কথা  জয়ারথনাম বুঝতে পারেন। মানুষের আরোগ্য লাভে লিখিত অক্ষরের ক্ষমতা যে কত সুদূরপ্রসারী, তা এহেন ঘটনার দ্বারাই প্রমাণিত।

আজকের উন্নত প্রযুক্তির যুগেও মানুষের ভাবপ্রকাশের ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হল লেখা। কিন্তু হাতে লেখার থেকে ইদানীং মেশিনের সাহায্যে লেখা, যেমন কম্পিউটারের দ্বারা অনলাইন ব্লগ রচনা খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই দুই ধরনের মাধ্যমের সাহায্যেই মানুষের অনুভূতি এবং চিন্তা-ভাবনার প্রকাশ ঘটে। তবু, এই ক্ষেত্রে ব্লগ-লেখনী ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে।

ব্লগ লেখায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়াও, এর মাধ্যমে এমন একদল পাঠককুল এবং দর্শক গড়ে ওঠে, যারা বেশি করে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক মত বিনিময়ে সমর্থ হয়। এই পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গ্রুপ থেরাপির মিল রয়েছে। তবে পার্থক্য হল যে, এখানে কোনও থেরাপিস্টের সাহায্য দরকার পড়ে না। ব্লগ মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের পথকে সুদৃঢ় করে। এর মধ্য দিয়ে আমরা সবরকম ভয়, দ্বিধা, সংকোচ ত্যাগ করে চিন্তা-ভাবনার আদান-প্রদানে সক্ষম হই। অনের মতামত গ্রহণ করা এবং নিজের মতামত দান করা সহজসাধ্য হয়। এমনকী, পৃথিবীব্যাপী মানুষের অভিজ্ঞতার আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে নতুন কিছু শেখাও সম্ভব হয়।

যে মানুষটির সঙ্গে জীবনে হয়তো কখনও দেখাই হবে না, তেমন মানুষের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তোলা যায় এই ব্লগ লেখার মাধ্যমে। যদিও একটি ধারণা রয়েছে যে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া বন্ধুরা কখনোই প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। লেখক  এবং ব্লগার ভয়ারথ পুরিসুব্জি.ইন— এ স্পষ্টভাবে লিখেছেন যে, ''বন্ধুত্ব সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, এই বিষয়টি নৈকট্যের উপর নির্ভরশীল এবং প্রকৃত বন্ধু পেতে গেলে প্রয়োজন বহুদিনের চেনা-জানা কোনও সম্পর্ক। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, সাম্প্রতিক অতীতে আমি এমন কয়েকজন বন্ধুকে পেয়েছি, যাদের সঙ্গে আমার মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়নি। আসলে যে কোনও বন্ধুত্বের ভিত গড়ে ওঠে মানুষের পারস্পরিক মত এবং অনুভূতির আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই ক্ষেত্রে তারা কোথায় বসবাস করে, তা মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়।''

ব্লগিং মূলত মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উপযোগী, বিশেষত যারা সাধারণের থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রাখে তাদের জন্য এই মাধ্যম খুবই কার্যকরী। তবে এই ঘটনার সমর্থনে তেমন জোড়ালো কোনও  বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ২০১২ সালে, একদল ইসরায়েলি গবেষক প্রায় ১৬১ জন কিশোর-কিশোরীর উপর একটি পরীক্ষা চালান। এরা প্রত্যেকেই সমাজের কোনও না কোনও স্তরে মানসিক উদ্বেগ বা বিপর্যয়ের শিকার। এই অল্পবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের ৬টি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। প্রথম চারটি দলকে ব্লগ লেখার কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয় আর বাকি দুটি দলের মধ্যে কয়েকজন ছেলে-মেয়ে নিজের ডায়েরিতে কিছু লেখালিখি করত, আবার কয়েকজন কিছুই করত না। দশ সপ্তাহ ধরে এই পরীক্ষা চলার পর গবেষকরা লক্ষ্য করলেন যে, যাদের ব্লগ লেখার কাজে নিযুক্ত করা হয়েছিল, তাদের আত্মবিশ্বাস অন্যান্যদের চাইতে বহুলাংশে
বেড়ে গিয়েছে।

ব্লগের মাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতার আদান-প্রদানের দ্বারা মানসিক সমস্যার শিকার হওয়া কোনও ব্যক্তি শুধু অন্য একজনের সহযোগিতাই পায় না, বরং এহেন সমস্যার মোকাবিলার ক্ষেত্রে পারস্পরিক অনুপ্রেরণাও লাভ করে। পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং কোচ এবং ব্লগার বিজয় নাল্লাওয়ালার দৃষ্টান্ত এখানে উল্লেখ করা যথোপযুক্ত। ২০১২ সালে তিনি ব্লগের মাধ্যমে তাঁর বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা বাইপোলার বিকারজনিত সমস্যার অভিজ্ঞতা সর্বসমক্ষে প্রকাশ করেছিলেন। এর পর বহু মানুষের মন্তব্য এবং পরামর্শ ব্লগে ছেয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনার ইতিবাচক ফল লাভ করেছিলেন বিজয়। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, বাইপোলার বিকারজনিত সমস্যায় সে একাই আক্রান্ত নয় এবং এটি কোনও অভিনব বা নতুন বিষয় নয়। কিন্তু লেখার মধ্য দিয়ে তিনি বন্ধু এবং আত্মীয়দের কাছে তাঁর এহেন অসুবিধার কথা বলতে সক্ষম হন ও রোগটির বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য জানতে পারেন। এই অসুখের একটি সাধারণ লক্ষণ সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল হন। প্রকৃতপক্ষে এই রোগে আক্রান্তরা কেউই স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে পারে না এবং অনেকেই বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে অস্বীকার করে। অথবা কেউ চান সমস্যা এড়িয়ে যেতে। এইভাবে বিজয় এমন একটি মঞ্চ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন, যেখানে এই ধরনের সমস্যা নিয়ে মানুষ খোলাখুলিভাবে পারস্পরিক মত বিনিময় করতে পারে। আর এরই ফলে গড়ে ওঠে বিজয়ের তৈরি ওয়েবসাইট www.bipolarindia.com। এটি ভারতে বাইপোলার বিকারজনিত সমস্যা এবং তা থেকে উদ্ভূত মানসিক চাপ সংক্রান্ত বিষয়ের উপর গড়ে ওঠা প্রথম অনলাইন ব্যবস্থা, যেখানে এহেন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া বিজয়ের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ হয়েছে।

এই বিষয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই যে, ব্লগিং মানুষের ভাব-প্রকাশের এবং যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ও কার্যকরী মাধ্যম। যাইহোক, অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমগুলির মতো এর সাহায্যেও মানুষকে বিপর্যয়ের থেকে বাঁচানোর জন্য সতর্ক করা যায়। ব্লগ লেখার ক্ষেত্রে কয়েকটি মূল বিষয় মনে
রাখা জরুরি—

  • ইন্টারনেটের কার্যাবলী মনে রাখার মতো ব্লগিং-এর নিয়মও মাথায় রাখতে হবে। একটি লেখা প্রকাশের আগে দু'বার ভাবতে হবে। একবার লেখায় ভুল হলে তা সংশোধন করা সম্ভব ঠিকই। কিন্তু বহু সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ইন্টারনেটে কারও লেখার অবশিষ্টাংশ বজায় থাকে।
  • যদি কেউ তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য ব্লগের মাধ্যমে আদান-প্রদান করতে চান, তাহলে ছদ্মনাম ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। অথবা কোনও কোনও ব্লগার এক্ষেত্রে নিজস্ব পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশ করতে পারেন। এখানে ভয়ারথের চিন্তা-ভাবনা যথার্থ। কারণ অধিকাংশ সময়েই তাঁর লেখাটি ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত। সেখানে কোনও পত্রিকায় নিজের গভীর চিন্তার প্রকাশ যথাযথ হয়। তাঁর কাছে যে কোনও রকমের লেখার ক্ষেত্রেই প্রকাশভঙ্গিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই কতখানি লিখব এবং কার সঙ্গে তা আদান-প্রদান করব, সেই বিষয়ে নিজের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি।
  • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, যদি কারও মানসিক অসুস্থতা ধরা পড়ে, তাহলে একটি ব্লগের মাধ্যমে সে তার চিন্তার ক্ষেত্রে স্পষ্ট ধারণা পাবে এবং তাকে সহায়তা করার মতোও একটি হাতিয়ার তার কাছে থাকবে। কিন্তু একথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, এই মাধ্যম কখনোই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শদানের বিকল্প ব্যবস্থা নয়। এটি অসুখ সারানোর ক্ষেত্রে একপ্রকার পরিপূরক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে মাত্র।

ব্লগিং-এর বিভিন্ন ক্ষেত্র--

যদি কেউ নিজস্ব ব্লগ তৈরি করতে চান, তাহলে তিন ধরনের উপায় অবলম্বন
করা যায়—

  1. www.blogger.com
  2. www.wordpress.com
  3. www.tumblr.com

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ

যদি কেউ এই ধরনের ব্লগগুলির উপর নির্ভর করতে চান, তাহলে তিনটি দেশীয় ব্লগে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে—

  1. https://autismindianblog.blogspot.com-- এই ব্লগে একজন ভারতীয় বাবা তাঁর অটিস্টিক ছেলের সমস্যা এবং উদ্ভূত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বার্তাটি খুব স্পষ্ট। তাঁর মতে অটিজম রোগটি সারানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাই সর্বোত্তম উপায়। আর যদি কেউ তাঁর অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন, তাহলে তা অন্যদের পক্ষে উপযোগী হবে।
  2. https://indianhomemaker.wordpress.com-- এটি মূলত ভারতের নগরকেন্দ্রিক সভ্যতায় দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত বিষয়ের উপর নির্মিত ব্লগ। এখানে একজন তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে গার্হস্থ্য হিংসা, সংসার জীবনের সুখ-দুঃখ, লিঙ্গ বৈষম্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলির পারস্পরিক অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান করতে পারেন।
  3. https://swapnawrites.wordpress.com-- স্বপ্না নামের একটি মেয়ের মা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। স্বপ্না মায়ের পরিচর্যার অভিজ্ঞতা, কাজের ক্ষেত্রে ভুল-ভ্রান্তি এবং শিক্ষণীয় বিষয়গুলি ব্লগ লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করা শুরু করেছিল। এইভাবে একদিকে সে অন্যান্য পরিচর্যকারীদের সাহায্য করা আরম্ভ করল, আর অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রোগটি সম্বন্ধে তার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলির আদান-প্রদানেও উৎসাহী হয়ে উঠেছিল। এমনকী, তার মায়ের মৃত্যুর পরেও সে এই ব্লগে ডিমেনশিয়া সংক্রান্ত নানা লেখালিখি চালিয়ে গিয়েছিল।

এই সমগ্র রচনাটির সূত্রাবলী হল—

https://www.utexas.edu/features/archive/2005/writing.html

http://healthland.time.com/2012/01/06/blogging-helps-socially-awkward-teens/