We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

কীভাবে একজন শিক্ষক ছাত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবেন

  • যে কোনও সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ভিত্তি হল পারস্পরিক কথোপকথন। ছাত্রদের সঙ্গে শিক্ষকের ইতিবাচক ব্যবহার দুজনের সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করতে সাহায্য করে। এই সম্পর্কের শুরু একজন শিক্ষক করতে পারেন তাঁর ছাত্রদের প্রতিভা, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা দিয়ে। একজন ছাত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং আগ্রহকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ছাত্রদের কেরিয়ার সম্পর্কিত কোনও বিষয়, যা একজন শিক্ষক খবরের কাগজ বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, তা নিয়ে তিনি ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। এর ফলে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যেকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
  • স্বভাবে বিনয়ী, অথচ দৃঢ় বা প্রত্যয়ী হতে হবে— একজন ছাত্রের প্রতি এটিই হল শিক্ষকের দেওয়া প্রাথমিক শিক্ষা। বছরের শুরুতেই একজন শিক্ষক তাঁর ক্লাসের ছাত্রদের কাছ থেকে কী আশা করছেন, তা যেন স্পষ্টভাবে বলে দেন। যেমন — লেখাপড়ার ক্ষেত্রে কোনও একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য সঠিক সময় নির্ধারণ করা, স্কুলে উপস্থিতির হার মেনে চলা, স্কুলের ভিতরে সেলফোন ব্যবহারের নিয়মকানুন প্রভৃতি বিষয়গুলি একজন শিক্ষক যেন ছাত্রদের সামনে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর সঙ্গে শিক্ষকের উচিত তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা ক্লাসের ছাত্রদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। এইভাবে ছাত্র-শিক্ষকের যোগাযোগ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই ক্ষেত্রে কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি।
  • ক্লাসরুমের ভিতরে যাতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্মান বজায় থাকে, সে দিকে ছাত্রদের যত্নশীল করে তোলা শিক্ষকের দায়িত্ব। শিক্ষকের পক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে, ক্লাসের সমস্ত ছাত্রের প্রতি নিরপেক্ষ থাকা। যদি একজন ছাত্র দেখে যে শিক্ষকের সব ছাত্রের প্রতিই সমান মনোভাব রয়েছে, তাহলে খুব স্বাভাবিকভাবেই সেই শিক্ষকের প্রতি ছাত্রদের শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস গড়ে উঠবে।
  • একজন শিক্ষকের উপর একটি ছাত্রের বিশ্বাস জন্মানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকের আচরণ, তাঁর কাজকর্ম সবকিছুই যুক্ত রয়েছে। একজন শিক্ষক যখন ছাত্রদের উৎসাহ বা প্রেরণা দেন, তখন ছাত্ররাও তাদের জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে বদ্ধপরিকর হয়। আবার শিক্ষকের রূঢ় মন্তব্য ছাত্রদের আত্মবিশ্বাস এবং আত্মনির্ভরতাকে একেবারে নষ্ট করে দেয়। তাই যতটা সম্ভব ইতিবাচক মনোভাব এবং যথার্থ ভাষা ব্যবহার করা একজন শিক্ষকের কাছে একান্ত জরুরি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।