সাক্ষাৎকারঃ মানসিক স্বাস্থ্যসুরক্ষার অধিকার এই আইনের হৃদয়

সাত বছর ধরে অনেক আলাপ-আলোচনার পরে মানসিক স্বাস্থ্যসুরক্ষা সংক্রান্ত বিলটি ২০১৩ সালে রাজ্য সভার ছাড়পত্র পায়। তারপর লোকসভায় তা পাশ হওয়ার পরে, ২০১৭ সালে বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে। এই আইনের বিভিন্ন  ধারা নিয়ে এখন অনেক বিতর্কের অবকাশ রয়েছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই বিষয়ক আইনের সঙ্গে আমাদের দেশের আইনের তুলনা টানাও অব্যাহত আছে। কিন্তু এই আইনটি যে ১৯৮৭ সালের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আইনের থেকে বেশ কিছুটা অগ্রবর্তী এবং ভারতে প্রযোজ্য ইউনাইটেড নেশন কনভেনশন অন রাইটস্‌ অফ পার্সনস্‌ উইথ ডিসএবিলিটিজ (সিআরপিডি) বিষয়ক আইনের সঙ্গে যে তার সাযুজ্য রয়েছে সে বিষয়ে কোনও যুক্তি বা সন্দেহ নেই। ২০১৭ সালের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার আইনটিকে কার্যকর করা হবে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে। আইন  কার্যকর করার পথে সম্ভাব্য বাধাগুলো এবং এই আইনের এগিয়ে চলার বিষয়ে হোয়াইট সোয়ান ফাউন্ডেশন-এর পক্ষ থেকে পবিত্রা জয়ারামন কথা বলেছিলেন পুনের ইন্ডিয়ান ল' সোসাইটির অর্ন্তগত সেন্টার ফর মেন্টাল হেলথ্‌ ল' অ্যান্ড পলিসি সংক্রান্ত বিভাগের ডাইরেক্টর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সৌমিত্র পাথারের সঙ্গে।

২০১৮-র জুলাই মাস থেকে মানসিক স্বাস্থ্যসুরক্ষা আইন বলবৎ হতে চলেছে। কীভাবে আপনি এই বিষয়টিকে দেখছেন?

এই আইন কার্যকর করার পিছনে অনেক ব্যাখ্যার অবকাশ রয়েছে এবং সেগুলো অধিকাংশই চিকিৎসাশাস্ত্রের অর্ন্তগত। আমার মতে এই আইনের প্রকৃত গুরুত্ব লুকিয়ে রয়েছে অধিকার সংক্রান্ত বিভাগের মধ্যে, বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যসুরক্ষা সংক্রান্ত অধিকার নামক অংশের মধ্যে। ভারতের মতো দেশে এই প্রথমবার স্বাস্থ্যসুরক্ষার অধিকারগুলোকে আমরা আইনের বিধিবদ্ধ রূপে দেখতে পাব। এটা একটা বিরাট পরিবর্তনের সূচনা করতে চলেছে। সেই সঙ্গে এই আইন বাস্তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় একটা বাধার সৃষ্টিও হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যসুরক্ষাজনিত কোনও ব্যবস্থা তেমনভাবে আমাদের ছিল না এবং কীভাবে বিষয়টির মোকাবিলা সম্ভব সেই সম্পর্কে দেশের সরকারেরও তেমন স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তাই মানসিক স্বাস্থ্যসুরক্ষার অধিকার বিষয়ক আইনটি এখন বাস্তবায়িত হতে চলেছে। তারপর একে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অঙ্গ হিসেবে বিধিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তাও দেখা দেবে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা ও দায়িত্বও রয়েছে যথেষ্ঠ। আমরা জানি আমাদের দেশে এমন অনেক আইন রয়েছে যার বাস্তব প্রয়োগ ঘটেনি, সেগুলো খাতায়-কলমেই রয়ে গিয়েছে। আবার একইসঙ্গে এমন অনেক আইন রয়েছে যেগুলোকে খুব ভালোভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এই আইনগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার অধিকার আইন বা আরটিই আইন (রাইট টু এডুকেশন) বা ক্রেতাসুরক্ষা আইন (কনজিউমার প্রোটেকশন আইন) প্রভৃতি। আসলে এগুলো কার্যকর করার পিছনে নাগরিক সমাজের তাগিদ ছিল। এই আইনের একটি বিশেষ অংশ যেমন- হাসপাতালে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর প্রভাব  অত্যন্ত অল্প সংখ্যক মানুষের উপরেই পড়তে দেখা গিয়েছে। আইনের অধিকার বিষয়ক অংশটিকেই আইনের হৃদপিণ্ড বলে বিবেচনা করা জরুরি।

এই আইনের অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল একটি বিশেষ শ্রেণির বা গোষ্ঠীর বেঁচে থাকার অধিকার। অর্থাৎ, আমাদের সমাজে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের অর্ন্তভুক্তির অধিকারটিও এই আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। যখন থেকে এই আইনটি ভালোভাবে কার্যকর হবে তখন থেকে আমরা মানসিক হাসপাতালগুলোর অস্তিত্বকে মূল্যায়ন করতে সক্ষম হব, যেখানে মানুষের জীবনে বন্দিদশার সূচনা হয়। কারণ মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের পরিবারে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ থাকে। এই অধিকার সংক্রান্ত আইন কার্যকর হলে রাষ্ট্র মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্ব নেবে এবং মানসিক হাসপাতগুলোর উন্নতিসাধনে সচেষ্ট হবে।

এই আইনের অন্যান্য ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য বিমা। এই বিষয়টি কার্যকর হতে কতদিন সময় লাগবে বলে আপনার মনে হয়?

এই বিষয়টিকে এখনই কার্যকর করা জরুরি। বিমা সংস্থাগুলোকে শুধু তাদের নিয়মকানুন একটু অদলবদল করে মানসিক স্বাস্থ্য বিমাকে নিজেদের নীতিতে অর্ন্তভুক্ত করা প্রয়োজন। একবার এই আইন বলবৎ হলে বিমা সংস্থাগুলো যদি  মানসিক স্বাস্থ্যকে তাদের বিমা নীতির আওতায় না রাখে তাহলে তার বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এর ফলে বিমার আওতায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টির অর্ন্তভুক্ত করা বিমা সংস্থাগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে দৈহিক স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সামঞ্জস্যবিধান হতে পারে।

এই আইনে চিকিৎসার অঙ্গ হিসেবে আয়ুষ নামক চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়টির সঙ্গে কি আমরা অভ্যস্ত হতে পারব?

বিলটি যখন থেকে রচিত হচ্ছিল তখন থেকেই এই বিষয়ে আলোচনা চলছিল। সেক্ষেত্রে আয়ুষ মন্ত্রক জানিয়েছিল যে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মনোরোগ সংক্রান্ত বিষয়ে এমডি করার সুযোগ রয়েছে। তাই তারা বলতে চেয়েছিল যে এই বিষয়ে তাদের উপযুক্ত ডিগ্রিধারী বিশেষ ডাক্তার রয়েছে এবং সে কারণে বিষয়টাকে নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলতেই পারে। আয়ুষ পদ্ধতির সাহায্য নেওয়ার বিষয়টা সম্পূর্ণ মানুষের ইচ্ছাধীন। কারণ এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা পশ্চিমি চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে ওষুধপত্র খেতে চায় না। বরং তারা সনাতন চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ওষুধের উপর বেশি নির্ভর করে। তাই সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিকল্প সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতেই পারে। কিন্তু কেউ যদি সনাতন সুরক্ষা পদ্ধতি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক না থাকে তাহলে সে সেই চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্য নিতে এগিয়ে আসবে না। যেহেতু দেশের সরকারি নীতিতে এই আয়ুষ নামক চিকিৎসা পদ্ধতির বিষয়টা স্থান পেয়েছে সেহেতু এটি লিখিত আকারে আইনের মর্যাদা পেতেই পারে।

কিন্তু এই ব্যবস্থায় কি চাহিদা এবং যোগানের সমস্যা দেখা দেবে? সবার জন্য তো মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করার আশ্বাস দিতে পারবেন না।

আমার মনে হয় সাড়ে চার হাজার মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যাটা নেহাতই অপ্রাসঙ্গিক। যেমন- আমরা কি বলতে পারি যে দেশে মাত্র ১০০০জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বা কার্ডিওলজিস্ট রয়েছেন, তাই আমরা হাইপারটেনশন-এর চিকিৎসা করব না। সেরকম বিরাট সংখ্যাগোরিষ্ঠ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন পড়বে না- সে কথাও আমরা বলতে পারি না। কারণ মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সবসময়েই গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছেন। তাঁদের ছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসাই সম্ভব নয়। কিন্তু আবার একইসঙ্গে শুধুমাত্র মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আছে বলেই দেশে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ব্যবস্থার দরকার নেই- সেকথাও বলা যাবে না। যদি সেটাই সত্য হত তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ৩৫ হাজার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে কোনও ফাঁক গড়ে উঠত না। সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ বা তার কিছু কম-বেশি ফাঁক রয়েছে।

আমাদের নিজেদের দেশের জন্য কিছু উদ্ভাবনী ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা ও পরীক্ষা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার সবটাই ডাক্তারদের দ্বারা গড়ে তোলা যায় না। এজন্য আমাদের প্রয়োজন গোষ্ঠী-নির্ভর একদল কর্মী, নার্স, মনোবিদ এবং কাউন্সেলর বা মনোসমীক্ষকের। এদের খুব সহজেই, তাড়াতাড়ি ও কম খরচে  প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। যদি দ্রুত মনোবিদের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হয় তাহলে এই নীতি গ্রহণ করা যেতে পারে। এজন্যই আমি হাইপারটেনশনের সঙ্গে  কার্ডিওলজিস্ট-এর সম্পর্কটা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছি। কারণ অ্যাঞ্জিওগ্রাম বা অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির জন্য কার্ডিওলজিস্ট এবং শল্য চিকিৎসকের প্রয়োজন পড়লেও, হাইপারটেনশন-এর জন্য একজন কার্ডিওলজিস্ট ততটা জরুরি না-ও হতে পারে।

এই নীতি বাস্তবায়নের একটা বড় অংশ কি এখন রাজ্য সরকারগুলোর উপর নির্ভরশীল?

একদম ঠিক। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্প রূপায়ণের জন্য বরাদ্দ অর্থের যোগান দিলেও তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজ্য সরকারগুলোর উপরেই বর্তায় এবং সেখানে কোনও বড় সমস্যা থাকারও কথা নয়। যেমন- এমন অনেক মানসিক হাসপাতাল রয়েছে যেগুলো পুরোপুরি রাজ্য সরকারের অর্থ সাহায্যেই চলে। তাই এখন তাদের অর্থ খরচের পরিমাণটা শুধু বাড়ানোর প্রয়োজন। কিন্তু এক্ষেত্রে টাকা নেই বলে তারা কোনওরকম অজুহাত দেখাতে পারবে না। কারণ এই পরিবর্তনটা এখন আইনসিদ্ধ হতে চলেছে।

এই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এবং তার উদ্দেশ্য রূপায়ণের দিক থেকে সবচেয়ে বড় বাধা কী কী হতে পারে?

আমার মতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল প্রত্যেকেই এই আইনটির ব্যাপারে প্রথমে খুব আশাবাদী হবে এবং তারপর সবাই আবার চুপচাপ হয়ে যাবে। এই আইনটির বাস্তবায়নে আমরা খুবই আনন্দিত। এই ব্যবস্থার সঙ্গে নাগরিক সমাজ এবং আইন প্রক্রিয়ার যুক্ত হওয়ার ঘটনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটা বিষয়। এখন প্রশ্ন হল, এই  পরিস্থিতিতে কেন স্টেট মেন্টাল হেলথ্‌ অথরিটি (এসএমএইচএ) এতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।  

এই আইনের দ্বারা এসএমএইচএ-র সম্পূর্ণ গঠনের বদল ঘটবে এবং পরিচর্যাকারী, ব্যবহারকারী এবং সংগঠনের দিক থেকে এর মধ্যে অনেক নীতি অর্ন্তভুক্ত করা হবে। এই অবস্থায় মানুষের কাছে এই ব্যবস্থা প্রকৃতপক্ষে আইনের সুবিধা দেবে। সরকার ও নাগরিক সমাজের ক্ষেত্রে এই আইন পেশাদারিত্বের চেয়েও অত্যন্ত প্রগতিশীল হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই এই আইন বাস্তবায়িত হওয়ার ক্ষেত্রে এই আইনের ইতিবাচক দিকগুলোর প্রয়োগ খুবই সাহায্যদায়ক হয়ে উঠবে।

এসএমএইচএ বা স্টেট মেন্টাল হেলথ্‌ অথরিটির ভূমিকা কী হতে পারে?

আইনটিকে বাস্তবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে এর দায়িত্ব রয়েছে। তাই এই ব্যবস্থাটিকে  নিয়ে অনেক প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। এর কার্যকলাপ কীভাবে অন্যদের থেকে আলাদা, তা নিয়েও অনেক আলোচনা রয়েছে। এর ভূমিকা এখন অনেকটা চিফ এগজিকিউটিভ অফিসারের মতো। এই আইনের ধারা রচনার জন্য সিনিয়র সরকারি অফিসার ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ইনিই হবেন এই কাজের প্রধান, যিনি এখনও পর্যন্ত পূর্ণ সময়ের জন্য সদস্য হয়ে উঠতে পারেননি। কিন্তু শেষমেশ একজন নিশ্চয়ই এই কাজে বহাল হবেন। তবে আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে এসএমএইচএ সত্যিই পথপ্রদর্শকের কাজ করবে। এখন রাজ্যগুলোর  উচিত এই এসএমএইচএ-র ধারণার বিস্তার ঘটানো।

আবার মেন্টাল হেলথ্‌ রিভিউ কমিশন এবং বোর্ডের অস্তিত্বও রয়েছে এই আইনে। এই ব্যবস্থার গোড়াপত্তনেও রাজ্যের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন...

হ্যাঁ, এক্ষেত্রে তো তাদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেউ মনে করে যে আইন ভঙ্গ হচ্ছে বা আইনের কোনও ধারা সঠিক নয় তাহলে এখানেই প্রথম দরবার করা  যাবে। একমাসের মধ্যে যে কোনও আবেদনের পর্যালোচনা করবে রিভিউ বোর্ড। এই রিভিউ বোর্ড-এর সুফল পরিচর্যাকারী এবং ব্যবহারকারীরাও ভোগ করতে পারবে। এবং এতে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে কালেক্টর অফিসের কর্তা বা জেলা জজ্‌ বা বিচারকের মতো কোনও গণ্যমান্য একজন মানুষ। তাই এটি একপ্রকার ট্রাইবুনাল হিসেবে কাজ করবে এবং রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এর অস্তিত্ব থাকবে। সেই সঙ্গে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে এই আইনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। রিভিউ বোর্ডের কর্তাব্যক্তিকে নিয়োগ করবে এসএমএইচএ। তাই প্রথম ধাপ হিসেবে এসএমএইচএ-র নিয়োগই সবার আগে জরুরি।

এই আইন আমাদের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট হবে না এবং এই আইনের অনেক ধারা নিয়ে  যথেষ্ঠ বির্তকের অবকাশ রয়েছে, যেমন আমাদের সংসদে হয়ে থাকে। এগুলোর সংশোধন বা পর্যালোচনা কি খুব তাড়াতাড়ি আমরা দেখতে পাব?

কোনও সরকারই কোনও আইন কার্যকর করার আগে তার পর্যালোচনা করে না। আইন বলবৎ হওয়ার পরে ৪ থেকে ৫ বছর সেই আইন চালু থাকে। তারপর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেই আইনের সংশোধন করা হয়ে থাকে। কোনও আইন পাশ হওয়ার দিন থেকে শুরু করে সেই আইন নিখুঁত কিনা, তা নিয়ে সাত বছর ধরে বিতর্ক, আলাপ-আলোচনা চলতে পারে। যদি দেখা যায় যে প্রচলিত আইনের  কোনও সুফল সমাজে দেখা যাচ্ছে না তাহলে সেই আইন পরিবর্তন করা জরুরি হয়ে ওঠে।