We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

চিকিৎসা বাবদ খরচ করা কি অহেতুক?

চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি হতে পারে এবং সুস্থতার কোনও প্রতিশ্রুতি হয় না। তবু এর পিছনে কেন খরচা করবেন?

কথা বলা বা পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে একজন চিকিৎসক রোগীর ভাব, ধারণা, আচরণের বিষয়ে জানতে পারেন এবং সেগুলি হওয়ার কারণও জানতে পারেন। যখন সে বিষয়ে অনেক কিছু জানা হয়ে যায়, তখন চিকিৎসক রোগীকে তাড়াতাড়ি নতুন কাজকর্ম শিখিয়ে তাকে সেরে উঠতে সাহায্য করেন।

বেশির ভাগ চিকিৎসাই সমস্যা সমাধান ও বিশেষ কিছু উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে হয়। সেগুলি একজন রোগীর মানসিক সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে। চিকিৎসার উদ্দেশ্যগুলি ছোট ছোট করে ভাগ করে দেওয়া হয়, যার জন্য এর সাফল্য মাপতেও সুবিধা হয়। এখানে চিকিৎসকের ভুমিকা হল রোগীকে লক্ষ্যগুলো পূর্ণ করতে সাহায্য করা তাঁর মানসিক অবস্থায় পরিবর্তন আনা।

এত কিছু সুবিধা থাকা সত্তেও অনেকে চিকিৎসা করাতে ভয় পান কারণ তাঁদের ধারণা এর পেছনে অনেক টাকা-পয়সা খরচ হবে। তাঁরা অনেক সময়েই বলেন:

  • এত টাকা-পয়সা খরচ করার সামর্থ্য আমার নেই।
  • আমি একজনকে আমার কথা শোনার জন্য কেন পয়সা দেব?
  • আমি যেমন আছি, দিব্যি আছি।  

তাছাড়া একজন চিকিৎসক আপনাকে সম্পূর্ণ সেরে ওঠার ব্যাপারে কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী ও তাঁর চিকিৎসকের মধ্যে একটি সম্পর্ক তৈরি হয়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক ভাল ভাবে গড়ে ওঠে না। এর ফলে সেরে উঠতে অনেক সময় লাগে, বা সেরে ওঠার কোন লক্ষণই দেখা যায় না, কারণ রোগী অন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে শুরু করেন। কিছু ক্ষেত্রে, বেশ কিছু জায়গা ঘুরে রোগী শেষমেশ একজন চিকিৎসকেরই দ্বারস্থ হন। তাহলে যদি কোনও লাভই না হয়, তাহলে কেন আপনি আলাদা আলাদা চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

গবেষণা বলছে যে যারা যারা একজন চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন, তাঁদের সেরে উঠতে অনেক কম সময় লেগেছে। কিছু কারণ যার জন্য সব সময় একজন চিকিৎসকের কাছেই যাওয়া উচিৎ:

  • উপযোগিতা:অনেক সময় ওষুধপত্রের চেয়ে থেরাপিতে বেশি কাজ দেয়।
  • খরচ:মানুষের মনে একটি ধারণা আছে, যে চিকিৎসা করালে প্রচুর টাকা খরচ হবে। এটি পুরোপুরি সত্যি কথা নয়, অনেক এমন চিকিৎসক রয়েছেন যারা নিজেদের কাজ শুরু করেন অনেক কম পারিশ্রমিকে। কিছু কিছু চিকিৎসকের পারিশ্রমিক তাঁদের ক্লায়েন্টের অর্থনৈতিক অবস্থা অনুযায়ীও নির্ভর করে।
  • ট্রায়াল পর্যায়ঃঅনেক চিকিৎসকই বিনামূল্যে একটি ট্রায়াল পর্যায়ের ব্যাবস্থা করেন। এটি একজন ক্লায়েন্ট ব্যাবহার করে দেখতে পারেন। যদি কাজ না দেয় তাহলে ক্লায়েন্টের কোনও আর্থিক ক্ষতি হবে না।
  • মানসিক বা শারীরিক সমস্যা এড়ানো:মানুষের মধ্যে বাড়তে থাকা চাপের ব্যাপারে আমরা সবাই সচেতন। বেশি চাপের কারণে শারীরিক অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেগুলিকে সারিয়ে তুলতে খরচ অনেক বাড়তে পারে, তাই আগে থেকে চিকিৎসা করানোই কাম্য।
  • জীবনযাত্রায় উন্নতি:যারা অ্যাংজাইটি, হতাশা এবং অন্যান্য মানসিক সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জীবনযাত্রা খুব খারাপ হয়। তাঁরা নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে পারেন না, ফলে তাঁরা মানসিক চাপে জর্জরিত হয়ে পড়েন। আশেপাশের মানুষ তাঁদেরকে এড়িয়ে চলেন যার ফলে তাঁদের মধ্যে আরও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।

সব কিছু যাচাই করার পর বলা যেতে পারে, চিকিৎসা করলে যথেষ্ট সুবিধা লাভ করা যেতে পারে এবং মানসিক চাপ থেকেও মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। দেখাতে হবে মানুষটির নিজের যেন সুস্থ হয়ে ওঠার ইচ্ছা থাকে। উপরে ব্যাক্ত করা সমস্ত সুবিধা টাকায় মাপা যায় না, এক একজনের কাছে খরচের ভার এক এক রকম হতে পারে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের অপকারের চেয়ে উপকারই হয় বেশী।