স্কিৎজোফ্রেনিয়াঃ ভুল ধারনা এবং বাস্তব

ভুল ধারনাঃ স্কিৎজোফ্রেনিয়ার রোগীদের বহু ব্যক্তিত্ব থাকে বা মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিস্‌অর্ডার আর এই রোগ একই।
বাস্তবঃ
বহু ব্যক্তিত্ব বিকারে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের প্রকাশ দেখা যায়। অর্থাৎ তাঁরা ক্ষেত্র বিশেষে অন্য ব্যক্তির ন্যায় আচরণ করে থাকেন। কিন্তু স্কিৎজোফ্রেনিয়াতে রোগী আলাদা আলাদা এবং অস্বাভাবিক ব্যবহার করেন একই ব্যক্তিত্ব হিসেবে। উদাহরন স্বরূপ দুঃখের কথা বলতে বলতে হেসে ফেলা।

ভুল ধারনাঃ  স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীরা বিপজ্জনক।
বাস্তবঃ 
এই রোগের ফলে কখনও কখনও রোগী হিংস্র আচার আচরণ দেখালেও, সঠিক চিকিৎসায় তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। মনোবিদ ডাঃ কল্যানসুন্দরমের মতে, “আমার ৪৪ বছরের চিকিৎসা জীবনে আজ পর্যন্ত কোনও রোগী আমার সাথে দূর্ব্যাবহার করেননি। অকারণে উত্যক্ত করা হলে যেকোন মানুষই রেগে যাবেন। কিন্তু যেহেতু তাঁরা অসুস্থ তাই অন্যায় ভাবে এটাকে একসাথে জড়ানো হয়।।”

ভুল ধারনাঃ ছোটবেলায় বাবা-মায়ের দূর্ব্যাবহারের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্কিৎজোফ্রেনিয়া হয়ে থাকে।
বাস্তবঃ
স্কিৎজোফ্রেনিয়া হবার পেছনে এই রকম কোনও কারণ নেই। জিনগত কিছু কারণ, মানসিক টানাপোড়েন, সামাজিক সমস্যা এবং মস্তিষ্কের গঠনগত বিকৃতির কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। এইগুলো ছাড়াও যদি উপরোক্ত কারণ যোগ হয় তবে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

ভুল ধারনাঃ স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীদেরকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করতে হয়।
বাস্তবঃ
সঠিক মনোবিদের সাহায্যে একজন স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীর বাড়িতেই চিকিৎসা করা সম্ভব।