We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

মানসিক রোগের চিকিৎসা

সঠিক সহায়তা এবং চিকিৎসা পেলে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব।

মানসিক রোগের চিকিৎসা বলতে আমরা কী বুঝি?

যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব একজন মনোবিদের পরামর্শ নিলে মানসিক রোগের চিকিৎসা খুব ভালভাবে সম্ভব। ঠিক যেমন শারীরিক অসুস্থতার নির্দিষ্ট চিকিৎসা হয় ঠিক তেমনই মানসিক রোগের বিজ্ঞানসম্মত এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসা আছে।

আসুন আগে আমরা বুঝে নেই যে মানসিক রোগের চিকিৎসা বলতে কী বোঝায়। শারীরিক অসুস্থতা যেমন জ্বর, ডায়াবিটিস, থাইয়েডের সমস্যা বা হৃদরোগের ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসা বা ওষুধের সাহায্যে চিকিৎসা সম্ভব। কিন্তু অন্যদিকে মানসিক রোগের ক্ষেত্রে অন্যরকমের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে ওষুধেরও দরকার পড়ে (নির্ভর করছে ব্যাক্তির অসুখের মাত্রা এবং তাঁর শারীরিক ও মানসিক সাস্থের অবস্থার ওপর)।

গুরুত্বপুর্ণ: মানসিক রোগের উপস্থিতির মানে এই নয় যে রোগী অসহায় বা অন্যের ওপর নির্ভরশীল। এর অর্থ একটাই যে সেই ব্যাক্তি আবেগের বশে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত এবং কিছু সময় পর্যন্ত তাঁর সাহায্যের প্রয়োজন। সামান্য সহায়তা ও সঠিক চিকিৎসার সাহায্যে তাঁর পক্ষে সহজেই আগের মত সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব।

কেন চিকিৎসা প্রয়োজন?

যেকোন চিকিৎসার উদ্দেশ্যই হল আক্রান্ত ব্যক্তিকে রোগমুক্ত করে তাঁর সুস্থ-সবল জীবন ফিরিয়ে দেওয়া। ডায়াবিটিসের মত রোগের চিকিৎসায় যেখানে সামান্য ওষুধ সেবন এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হয় সেখানে ক্যানসার, এইচআইভি বা এইড্‌সের মত মারণ রোগে চিকিৎসার সাহায্যে তুলনামূলক সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব হয়।

শারীরিক সমস্যার তুলনায় মানসিক সমস্যার চিকিৎসা অনেক বেশী জটিল। এতে একইসঙ্গে ওষুধ এবং নানারকম চিকিৎসাপদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসার পদ্ধতি অনেকটাই নির্ভর করে রোগের মাত্রা এবং চিকিৎসায় রোগী কতটা সাড়া দিচ্ছেন তার ওপর। যেকোন চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নেবার আগে একজন মনোবিদ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে নেবেন।

হাসপাতালে ভর্তি

অসুখের মাত্রা যদি প্রচণ্ড বেশী হয়, সেই ক্ষেত্রে টানা চিকিৎসকদের উপস্থিতি প্রয়োজন। কাজেই এইরকম পরিস্থিতে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ রোগী যদি নিজের কোন রকম ক্ষতিসাধন করতে প্রবৃত্ত হন সেইক্ষেত্রে সাময়িক অথবা লম্বা সময়ের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা যেতে পারে।

রিহ্যাবিলিটেশণ

রিহ্যাবিলিটেশণ সেন্টারে, সাময়িক ভাবে রোগীরা থেকে যাতে চিকিৎসা পরিসেবা গ্রহণ করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হয়। দৈনন্দিন জীবনে চলতে এবং সমাজে মিশতে শেখানোই রিহ্যাব গঠনের উদ্দেশ্য। এর ফলে রোগী ধীরে ধীরে স্বাধীন জীবন কাটাতে সক্ষম হন।

মনোবিদ, নার্স, মানসিক রোগের চিকিৎসক, সমাজসেবী, ফিজিওথেরাপিস্ট এবং অক্যুপেশনাল থেরাপিস্টের একটি দল মিলে রিহ্যাব সেন্টারগুলিতে হাজির থাকেন।

বাইপোলার বা স্কিৎজোফ্রেনিয়ার মত দীর্ঘস্থায়ী রোগের ক্ষেত্রেও রিহ্যাবে দৈনন্দিন জীবনে স্বাধীনভাবে চলা শেখানো সম্ভব। বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে বা নেশাগ্রস্থ মানুষদের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে।