নিজের মানসিক অবসাদের কথা আমি কীভাবে আমার অফিসের বস্‌কে জানালাম

যখন আমি এখনকার এই কাজটা করতে শুরু করেছিলাম তখন আমার মনে নানারকম আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল আমার মানসিক অসুস্থতাজনিত সমস্যা। আমি এই কাজে যোগ দেওয়ার এক বছর পরেও কারোর কাছে আমার মানসিক অসুস্থতার কথা খোলাখুলি বলতে পারিনি। আমি আমার  বস্‌-এর কাছে অন্যান্য সহকর্মীর কাজকর্ম নিয়ে নানা কথা বলেছিলাম, যা আমার মানসিক উদ্বেগের অন্যতম কারণ ছিল। আমি জানতাম যে আমার অফিসের ওপরওয়ালারও (বস্‌) মানসিক অবসাদ রয়েছে এবং তা যথেষ্ঠ ভয়েরও বিষয় ছিল।

আমার ভাবনা হত যে আমার বস্‌ আমার সমস্যাকে কতটা বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করবেন, বা তাঁর বিচার-বিবেচনা আমার কাজকর্মের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলবে এবং কীভাবে সেই ঘটনাটা আমি সামলাব; সেই সঙ্গে চিন্তা হত যে কী করে আমরা ওই সমস্যার মোকাবিলা করব। কিন্তু যখন থেকে আমার সহকর্মীরা আমার সমস্যার কথা জেনেছে তখন থেকেই তারা আমার প্রতি সহানুভূতিশীল ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

আমার কাজ আমাকে এমন অনেক স্বাধীনতা ও শিথিলতা দিয়েছিল, যা আমাকে অনেক সাহায্য করেছিল। কোনও বাঁধাধরা রুটিন না থাকার ফলে আমি মাঝেমাঝে  সৃষ্টিশীল কাজ করতে পারতাম। যেদিন আমার মধ্যে তেমন সৃষ্টিশীল কাজ করার অনুভূতি জাগত না সেদিন আমি একটা বাঁধাধরা রুটিন মেনে কাজকর্ম, যেমন- তথ্যের আদান-প্রদানে মন দিতাম। যখন আমার মন ভালো লাগত না এবং সাহায্যের দরকার হত তখন আমি তা ভাষায় প্রকাশ করতে সক্ষম হতাম। তবে আমি আমার অফিসের কর্তৃপক্ষের কাছে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আমি যা করতে চেয়েছিলাম তাই করতে পেরেছিলাম কারণ অফিসের কর্তৃপক্ষ সেই বিষয়ে আমাকে অনেক সাহায্য করেছিল।

আমি বিশ্বাস করি যে, সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ, সাহায্য এবং সততা একজন  মানুষকে মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। এগুলোর পারিপার্শ্বিক প্রভাব ও ভূমিকা একজন মানসিক অবসাদগ্রস্ত মানুষকে সুস্থ হতে অনেক সাহায্য করে।

লেখিকা অরুণা রামন একজন সমাজ-সংস্কারক এবং বিশিষ্ট শিক্ষক।

(লেখাটি ইংরাজি থেকে অনুবাদ করা হয়েছে)