ফোবিয়া বা আতঙ্ক

ফোবিয়া কি?

ভয় আমাদের সবার একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কোনও কারণে আমাদের বিপদের আশঙ্কা থাকলে সহজাত ভাবেই আমাদের ভয় করে। অনেকেই অন্ধকারে বা সাপ দেখে বা প্লেনে চড়তে ভয় পান। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের এই ভয় বা ফোবিয়া অযৌক্তিক হয় এবং তাঁর ফলে ব্যক্তি সাংঘাতিক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। উদাহরণস্বরূপ, উচ্চতায় ভয় পান এহেন ব্যক্তি হয়ত উঁচু বাড়ি দেখেই ভয় পেয়ে গেলেন বা সাপে ভীতি থাকার দরুন টিভিতে সাপ দেখে ভয় পেয়ে গেলেন। 

ফোবিয়ার উপসর্গ কি?

  • সঙ্গত কারণ না থাকা সত্ত্বেও বিশেষ কিছু পরিস্থিতি বা জিনিষের থেকে অযৌক্তিক ভয় পাওয়া
  • ভয়ের জন্য সেই সমস্ত পরিস্থিতি এবং জিনিষ এড়িয়ে চলা
  • এইরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে পরে অসুস্থ-বোধ যেমন রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া, মাথা ঘোরানো বা ঘামে ভিজে যাওয়ার মত সমস্যা

ফোবিয়া কেন হয়?

  • শিশুবস্থায় ঘটা কোনও দুর্ঘটনাঃ ছোটবেলায় কেউ কুকুরের কামড় খেলে পরবর্তীকালে কুকুর নিয়ে ভয় তৈরি হওয়া
  • পারিবারিক ইতিহাসঃ বাবা-মায়ের বিশেষ কিছুতে ভয় থাকলে সন্তানেরও তাই নিয়ে ভীতি তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ

ফোবিয়া কত রকমের হয়?

  • পশু, পাখি, সরীসৃপ বা পোকামাকড়ে ভয়
  • প্রাকৃতিক পরিবেশকে ভয় পাওয়া যেমন অন্ধকার, উচ্চতা বা জল
  • বিশেষ পরিস্থিতিতে ভয় যেমন লিফটে বা প্লেনে চড়তে আতঙ্ক
  • চোট পাওয়া, রক্ত, অপারেশন বা ইনজেকশনে আতঙ্ক

ফোবিয়ার চিকিৎসা

সাধারণত কোনও ফোবিয়া থাকলে সেটাকে এড়িয়ে যাওয়াটাই আমাদের অভ্যাস। যেহেতু দৈনন্দিন জীবনে এর কোনও প্রভাব থাকে না তাই আমরা এই সমস্ত জিনিষ বা পরিস্থিতি এড়িয়ে চলাটাই পছন্দ করি। কিন্তু এই অভ্যাস এর সমাধান নয়। মনোবিদের সহায়তায় নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে ভয়ের সম্মুখীন হলে এবং সঠিক ওষুধের সেবনে ফোবিয়ার সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।

রোগীর যত্ন নেওয়া

কখনো তাঁদের সাথে জোর করবেন না বা ভয় নিয়ে মজা করবেন না। মনে রাখবেন ওই পরিস্থিতি বা জিনিসগুলি তাঁদের কাছে সাংঘাতিক আতঙ্কের। বরং তাঁকে সঠিক চিকিৎসা নিতে উৎসাহ নিন এবং সেইমত সাহায্য করুন।

ভয়ের সাথে মকাবিলা

আতঙ্কিত হবেন না। মাথা ঠাণ্ডা রেখে পুরো পরিস্থিতি বিচার করুন। বিভিন্ন লোকের সাথে এই নিয়ে কথা বললে দেখবেন ভয় সম্বন্ধে প্রকৃত যৌক্তিকতা তৈরি হবে। কিন্তু সবার আগে সঠিক মনোবিদের সাথে যোগাযোগ করুন।