স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীর সাথে কথা বলা

স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীর সাথে কথা বলা আপাত দৃষ্টিতে কঠিন মনে হলেও তা নয়

অনেক সময় এইরকম পরিস্থিতিতে ‘কি বলব’ মনে হতে পারে। কী বললে রোগী আঘাত পাবেন না। মানসিক রোগ সম্পর্কে আমাদের মনে অনেক রকমের ভয় কাজ করে। তাঁরা কী তাঁদের সমস্যা বুঝতে পারবেন? আমি চাই না তাঁদের মন খারাপ হোক। আমি যদি তাঁকে সামলাতে না পারি? এইসব ভয় থেকেই আমরা উলটে আরও বাড়াবাড়ি করে ফেলি।

মনে রাখবেন স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে যত্ন নেবার জন্য স্বাভাবিক ভাবে কথা বার্তা বলা প্রয়োজন। 

স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীর সাথে কথা বলা জরুরি কেন?

একজন স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীর মানসিক সহায়তার অত্যন্ত প্রয়োজন। এবং সেটার জন্য এই রোগ সম্পর্কে জানাটা খুব জরুরি।

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে আস্তে আস্তে সবার থেকে গুটিয়ে নিতে থাকেন। নিজের সমস্যাটা বুঝে ওঠাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এইক্ষেত্রে তাঁকে বোঝানোর জন্য সঠিক লোকের একান্ত প্রয়োজন।

সবার সাথে স্বাভাবিক কথা বলা এবং সম্পর্ক বজায় রাখা এই একলা হয়ে যাবার মানসিকতা কাটাতে অত্যন্ত সাহায্য করে। নানা কারণে এঁরা সেইসব এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করতে পারেন। তাঁরা মানসিক দোটানার মধ্যে কাটান। কিন্তু এই সময় কেউ ভালবেসে তাঁদের দিকে হাত বাড়ালে তাঁরা ঠিকই সাড়া দেন। এইরকম লোক তাঁদের পাশে থাকাটাও দরকার যাকে বিপদে পড়লে এঁরা ডাকবেন।

 

আমি কীভাবে পাশে দাঁড়াব?

রোগীকে বুঝতে দিন যে আপনি তাঁর পাশে আছেন। তাঁকে বলুন, “আমি জানি তুমি অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছ। শুধু এইটুকুই বলব আমি তোমায় ভালবাসি এবং আমি তোমায় সাহায্য করতে চাই।”

আমি কী প্রতিক্রিয়া আশা করব?

তাঁরা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া নাও দিতে পারেন। চুপ থাকতে পারেন, হুঁ-হাঁ করে এড়িয়ে যেতে পারেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাঁরা মুখে আগ্রহ প্রকাশ করলেও হাবে ভাবে অন্য কিছু মনে হতে পারে।

মনে রাখবেন তাঁদের এই অস্বাভিক প্রতিক্রিয়া অসুখের জন্যেই হচ্ছে। ঠাণ্ডা মাথায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাবার চেষ্টা চালিয়ে যান।

আপনার ভেতরে অস্বস্তি, উত্তেজনা বা ভয় কোনও মতেই রোগীর সাথে কথা বলার সময় প্রকাশ করবেন না।

মনে রাখবেন আবেগের বা ভাবের বহিঃপ্রকাশ এই রোগ আটকে দেয়, তার মানে এই নয় যে তাঁদের সেইসমস্ত অনুভূতি বা বক্তব্য নেই।

বরফ গলতে দিন

তাঁরা অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দিতেই পারেন। আপনি স্বাভাবিক ভাবে কথা বলুন। এদিক সেদিকের নানান কথাবার্তা বলুন। খেয়াল রাখবেন কথা যেন চলতে থাকে। হুট করে শারীরিক সমস্যার কথা জিজ্ঞেস করবেন না।

আপনার উদ্দেশ্য তাঁদেরকে বুঝতে দিন কিন্তু যতক্ষণ না তাঁরা নিজে থেকে আপনাকে কিছু বলছেন, গায়ে পড়ে খোঁচাবেন না। ওনার বৃহত্তর সমস্যার সমাধান দেবার যোগ্যতা আপনার নাও থাকতে পারে।

অদৃশ্য গলার আওয়াজ শুনে আপনার কেমন লাগে? কী বলে আপনাকে সেই সব গলা?” অসুখ সম্পর্কে বেশী কৌতুহলি প্রশ্ন করবেন না।

 

পরামর্শ দেওয়া

অনেক সময়ই আমরা ব্যক্তির সাহায্যার্থে তাঁকে অনেক পরামর্শ দেবার চেষ্টা করি। মনে রাখবেন তাঁদের কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচারের ক্ষমতা আপাতত নেই, ফলে আপনার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও তাতে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনা বেশী। উনি আপনার কাছে সাহায্য চাইলে, ভেবে চিন্তে কথা বলুন। উদাহরণ স্বরূপ একজন রোগী যিনি ওষুধ খেতে আপত্তি করছেন, তাঁর সামনে যদি আপনি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আলোচনা করেন, তিনি হয়ত আর ওষুধ খাবেনই না। 

ওষুধ পত্র সংক্রান্ত আলোচনা একমাত্র ডাক্তারের সাথেই করার পরামর্শ দিন।

একই রকম ব্যক্তিগত কোনও সমস্যার কথা আপনাকে বললেও, পুরো পরিস্থিতি না জানলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলাই শ্রেয়।

 

বিশ্বাসভঙ্গ করা

একজন স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগী যদি আপনাকে বিশ্বাস করে সব কথা বলেন, এবং আপনার মনে হয় যে তা ডাক্তারকে জানানো উচিত, আপনি কী করবেন?

যদি সেই ব্যক্তি কাউকে খুন করার বা আত্মহত্যা করার কথা বলেন, তবে অবিলম্বে তাঁর খেয়াল রাখছেন এইরকম কাউকে জানান।

সবকিছু বলে তাকেও ভয় দেখানোর দরকার নেই। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই বলুন।

রোগীকেও বোঝান যে এইসমস্ত কথাবার্তা হাল্কা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। তাঁর পরিবারের লোকরা এই ব্যাপারে জানলে তাঁর সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাঁকে বলুন, “দেখো আমার তোমাকে নিয়ে চিন্তা হয়। আমার মনে হয় বাড়িতে এই বিষয়ে জানালে তাঁরা তোমার সমস্যার সমাধান করতে পারেন।” এইভাবে চললে বিশ্বাসভঙ্গের কোনও যায়গা আসে না।

মনে রাখবেন সমস্ত উপসর্গ একজন স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগীর মধ্যে থাকে না। আপনার আশেপাশের লোকজনের চালচলন সেই রোগীর চেয়ে খুব একটাও আলাদা না। রোগ সম্বন্ধে জেনে ঠাণ্ডা মাথায় স্বাভাবিক কথা বললে আপনারই সুবিধা হবে।

 

কীরকম প্রতিক্রিয়া আশা করতে পারেন?

  • উনি কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ না করলেও আপনি কথা চালিয়ে যান। যতক্ষণ না উনি আপত্তি প্রকাশ করছেন আপনি কথা বলে যেতে পারেন। 
  • অস্বাভাবিক ব্যবহার বা কথাবার্তা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলবেন না। নিজের কথা বলা চালিয়ে যান।
  • অস্বস্তিজনক বা অপমানজনক ব্যবহার পেলে ক্ষণিকের জন্য চুপ থাকুন। সুযোগ বুঝে আবার কথা বলার চেষ্টা করুন।
  • আপনার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে উনি রেগে যেতে পারেন। সেইক্ষেত্রে অন্য প্রসঙ্গে কথা বলুন। তাঁকে বোঝান যে আপনি তাঁর মঙ্গল চান।  







Was this helpful for you?