শিক্ষা

আমি কি ভাবে সাহায্য করতে পারি?

হোয়াইট সোয়ান ফাউন্ডেশন

একজন প্রকৃত শিক্ষককে নানা ভূমিকা পালন করতে হয়। ছাত্রদের পড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের সিলেবাসভুক্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে পরিকল্পনা, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া, বিভিন্ন মিটিং-এ যোগদান করা, লেখাপড়ার সঙ্গে যুক্ত নানা কর্মশালার আয়োজন বা পরিচালনা করা প্রভৃতি অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয় একজন শিকক্ষকে। এত ব্যস্ততার মধ্যে কীভাবে একজন শিক্ষক একটি ছাত্রের মানসিক সুস্থতার দিকে নজর রাখেন, তা ভেবে সত্যিই অবাক হতে হয়।

এর পিছনে দু'টি কারণ রয়েছে। প্রথমত, একজন শিক্ষককে দিনের বেশিরভাগ সময় ছাত্রদের সঙ্গেই কাটাতে হয়। এর ফলে ছাত্রদের মেজাজ বা মর্জির পরিবর্তন এবং তাদের আচরণের অস্বাভাবিকতা, যা সচরাচর চোখে পড়ে না, তা লক্ষ্য করার সুযোগ একজন শিক্ষকের অন্য সবার চেয়ে অনেক বেশি। কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের অস্বাভাবিকতা গুরুতর সমস্যা বা মানসিক অসুস্থতা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। এহেন আচমকা ঘটা অস্বাভাবিক বদলের প্রতি সচেতনতার জন্য একজন শিক্ষক প্রাথমিকভাবে ছাত্রদের এই ধরনের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারেন। দ্বিতীয়ত, মানসিক সুস্থতা ছাত্রদের শেখা-জানা-বোঝার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। যে ছাত্র মানসিকভাবে সুস্থ-সবল হয়, সে তার জীবনের লক্ষ্যের প্রতিও অনেক বেশি অবিচল থাকে। এর ফলে সে তার লেখাপড়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করতে সক্ষম হয় এবং তার ভবিষ্যৎও আর পাঁচজনের তুলনায় সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠে।

যখন কেউ শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন, তখন তাঁকে আরও একটি  বিষয়ও বেছে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে এক ধরনের শিক্ষক থাকেন যাঁরা শুধু ছাত্রদের লেখাপড়ার দিকেই মন দেন। এঁদের পরিচালনাকারী শিক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা  যায়।  আবার আরেক ধরনের শিক্ষকরা ছাত্রদের শুধু শিক্ষাদানই করেন না, তাদের বন্ধু, পথপ্রদর্শক এবং ছাত্রদের জীবন-দর্শন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। এঁরা রূপান্তরকারী বা পরিবর্তনকারী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।

  • পরিচালনাকারী শিক্ষকরা পড়াশোনার বিষয়বস্তু ছাত্রদের সামনে আলোচনা করেন, নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে পরিকল্পনা নেন, কার্যকরী শিক্ষাদান করেন, নম্বর দেন এবং এইসব কাজের জন্য শিক্ষকরা নির্দিষ্ট বেতনও পান।
  • অন্যদিকে পরিবর্তনকারী বা রূপান্তরকারী শিক্ষকরা শুধু ছাত্রদের বই-পড়া শিক্ষাই দান করেন না। জীবনের সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের সঠিক পথ দেখান, ছাত্রদের কথা, তাদের অনুভূতিগুলি বোঝার চেষ্টা করেন, ছাত্রদের উৎসাহ দান করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এহেন শিক্ষকরা তাঁদের মূল্যবান সময় ছাত্রদের জন্য ব্যয় করে থাকেন তাদের জানার, বোঝার এবং অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য। আর ছাত্রদের ভবিষ্যৎ জীবনেও এর প্রতিফলন ঘটে। তারা স্বাধীনভাবে চিন্তাভাবনা করার সুযোগ পায়।

পরিবর্তনকারী শিক্ষকরা তাদের এহেন মহান কাজের জন্য কোনও বাধাধরা বেতন পান না। আসলে সমাজে এই শিক্ষকদের অবদানকে টাকার বিনিময়ে বিচার করা যায় না। আরও অনেক বৃহত্তর ক্ষেত্রে এঁদের কাজের সার্থকতা সন্ধান করা বাঞ্ছনীয়। এহেন শিক্ষকদের মহানুভবতা ছাত্রদের জীবনে পাকাপাকি আসন করে নেয়।

এইভাবে একজন শিক্ষক, তিনি পরিবর্তনকারী বা পরিচালনাকারী যেভাবেই দায়িত্ব পালন করুন না কেন, ছাত্রদের মধ্যে ভালো-মন্দের পার্থক্যবোধ গড়ে তুলতে বা তাদের ঠিক-ভুল বেছে নিতে সাহায্য করে থাকেন।     

হোয়াইট সোয়ান ফাউন্ডেশন
bengali.whiteswanfoundation.org