বৃদ্ধ

কোভিড-১৯ এর প্রসঙ্গে বৃদ্ধদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন

হোয়াইট সোয়ান ফাউন্ডেশন

সাম্প্রতিক কালে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব প্রতিটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে লক্ষণীয় প্রভাব বিস্তার করেছে। করোনা ভাইরাস অতিমারি হয়ে বিস্তীর্ণ রূপে ছড়িয়ে পড়ার ফলে বয়স্ক মানুষেরা, বিশেষকরে যাদের হাই ব্লাড প্রেসার, হাঁপানি, হৃদরোগ অথবা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে।বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে ভাইরাসটি বাস্তবিক ভাবে বিপদের মাত্রা বাড়িয়ে দেবার ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে লক্ষণীয় প্রভাব পড়তে পারে। 

কোভিড-১৯ এর প্রসঙ্গে বয়স্ক মানুষদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিচর্যার বিষয়ে আমরা তানভি মাল্য’স এলডার কেয়ার সার্ভিসের নিউরোসাইকোলজিস্ট তানভি মাল্য-র থেকে কিছু প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করেছি।

বর্তমান পরিস্থিতির ফলে বৃদ্ধরা যে ধরনের উদ্বেগে ভুগছেন সেই বিষয়ে আমরা তাদের কীভাবে সাহায্য করতে পারি?

বেশীরভাগ বয়স্ক মানুষই জানেন যে কোভিড-১৯ এ তারাই সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত হতে পারেন এবং সারাক্ষণ খবর দেখার ফলে তাদের উদ্বেগ বেড়ে যেতে পারে। এই অতিমারির সাথে কোনোভাবে যোগাযোগ নেই এমন ধরনের ইতিবাচক বিষয় নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করা উপযোগী হতে পারে।যদি তাদের সাথে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত কথা বলেন অথবা যদি তারা খুব বেশী মানসিক চাপ অনুভব করেন তাহলে তাদের আশ্বস্ত করা যাবে এমন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করতে পারেন।   

আমার বাড়িতে বয়স্ক অভিভাবকরা রয়েছেন যারা নিজেদের সমবয়সী দলের সাথেই সারাক্ষণ মেতে থাকেন। এই লকডাউন-র কারণে সেই মনের মানুষগুলির থেকে দূরে হয়ে গিয়ে তারা দিশাহারা বোধ করছেন। এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে আমি কীভাবে তাদের সাহায্য করতে পারি?

এই সময় বয়স্ক মানুষদের সাহায্য করার একটা উপায় হল তাদের সামাজিক ক্রিয়াকলাপগুলিকে যতটা সম্ভব অনলাইন নিয়ে যাওয়া। আমাদের প্রতিদিনকার জীবনকে আমরা যতটা সহজে অনলাইন নিয়ে যেতে পারি তাদের ক্ষেত্রে সেটা হয়না। তাদের জীবনের বিভিন্ন দিকগুলিকে অনলাইনের সাথে জুড়ে দিলে হয়তো এই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া তাদের পক্ষে কিছুটা সহজ হয়ে উঠবে। যেমন- যদি প্রতিদিন কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে তারা তাদের বন্ধুদের সাথে দেখা করে থাকেন, তাহলে এখন দেখা করার পরিবর্তে তাদের সাথে ফোনে কথা বলতে পারেন বা ভিডিও কল করতে পারেন। যোগা বা কগ্নিটিভ থেরাপি যদি দৈনিক জীবনের অঙ্গ হয় তাহলে সেটা অনলাইনে করার পথ খুঁজে বার করা যেতে পারে। তারা যে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নন সেটা সুনিশ্চিত করার জন্য আপনি এবং আপনার পরিবারের অন্য সদস্যরা পালা করে তাদের ফোন বা ভিডিও কল করতে পারেন।

এইরকম একটা পরিস্থিতিতে বয়স্করা নিজেদের যত্ন কীভাবে নিতে পারেন?

  • প্রাত্যহিক জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক মনে হবে যদি বেশীরভাগটা অনলাইন নিয়ে যাওয়া হয়।  
  • রোজ যাদের সাথে দেখা হত সেইসব বন্ধু ও পরিবারের লোকজনকে ফোন করে কথা বলা।
  • সারাক্ষণ খবর পড়ার বা দেখার বদলে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে কিছুক্ষণের জন্য খবর দেখা। এই মুহুর্তের খবরে হয়তো আতিশয্য থাকতে পারে এবং তাতে উদ্বেগ বাড়তে পারে।
  • বাড়ির কাজকর্মের নিজেকে ব্যস্ত রাখা।
  • তাদের অন্যান্য আগ্রহের বিষয়গুলি যেমন, শিল্পকলা, সঙ্গীত, বইপড়ার মাধ্যমে সময় কাটানো অথবা নতুন কোন টেকনোলজির বিষয়ে জানা।

অনেক বয়স্ক মানুষ আছেন যারা একা থাকেন। এই একাকিত্ত্বের সময়ে তাদের পাশে কীভাবে দাঁড়ানো যেতে পারে?

  • পরিবার এবং বন্ধুদের পালা করে তাদের সাথে ঘনঘন ফোনে কথা বলা উচিত।
  • প্রতিটি ফোন কল যেন অন্তত পক্ষে ৩০-৬০ মিনিটের হয়।
  • তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলুন- যেমন তাদের ছোটবেলার কথা অথবা তাদের পরিচিত কোনও রান্নার পদ নিয়ে আলোচনা করা।
  • সবাই একসাথেই আছি এই বোধকে জাগিয়ে রাখার জন্য আপনার পরিবারের অন্যান্যদের সাথে একটি ভিডিও গ্রুপ তৈরি করতে পারেন এবং একসাথে রান্না বা ছবি আঁকার মত কাজকর্ম করতে পারেন।

অনেকের বাড়িতেই কাজের লোক আসছে না। পরিচর্যাকারীদের বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করতে হচ্ছে, বয়স্ক লোকেদের পরিচর্যা করতে হচ্ছে এবং সংসারের কাজ সামলাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় তারা নিজের যত্ন কীভাবে নেবে?

এই ধরনের পরিস্থিতিতে এটা বোঝা জরুরি যে পরিচর্যার কাজটিতে শুধুমাত্র কায়িক পরিশ্রম জড়িত নয়, বরং এর সাথে মানসিক এবং আবেগযুক্ত শ্রমও জড়িত। তাই এটি খুবই ক্লান্তিকর হতে পারে।

  • যদি স্থানের বাধ্যবাধকতা থাকে, তাহলে নিজের জন্য সময় বের করে নেবার জন্য পরিচর্যাকারী বয়স্ক ব্যক্তিকে টিভিতে সিনেমা দেখতে অথবা অন্য কোন এমন কাজ করার জন্য উৎসাহিত করতে পারেন যেটা তিনি উপভোগ করেন।
  • এই ‘নিঃসঙ্গ সময়’টি ব্যায়াম করে অথবা ছবি আঁকার মতো কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রেখে নিজের যত্ন নেওয়া যেতে পারে।
  • প্রতিদিনের কাজকর্মের জন্য টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং প্ল্যানিং করতে হবে।
  • সাহায্যের জন্য থেরাপিষ্ট বা বন্ধুর সাথে কথা বলা যেতে পারে।
হোয়াইট সোয়ান ফাউন্ডেশন
bengali.whiteswanfoundation.org