Others

একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

হোয়াইট সোয়ান ফাউন্ডেশন

Q

আমার ছেলের ২৪ বছর বয়স এবং বিগত চার বছর ধরে সে স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় ভুগছে। এখন সে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থাও এখন আগের থেকে অনেকটাই স্থিতিশীল। তাই আমরা এখন তার বিয়ে দিতে ইচ্ছুক। ভবিষ্যতে ছেলের বিবাহিত জীবনে তার অসুস্থতা কোনও সমস্যার সৃষ্টি করবে কি? কী উপায়ে সেই সমস্যা কাটিয়ে আমরা তাঁকে জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারি?

A

কোনও মানুষের মানসিক অক্ষমতা দূর করতে দরকার পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বিশ্বাস। প্রধাণত, দুটি কারণে বিয়ের আগে জীবনসঙ্গীকে সব কথা খুলে বলা উচিত। প্রথমত, দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য খোলাখুলি কথাবার্তা প্রয়োজন। কারণ স্ত্রী যদি তার স্বামীর মানসিক অসুস্থতার কথা আগে থেকে জেনে রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে দরকার পড়লে সে তার স্বামীকে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, বিয়ের পর আইনি জটিলতা বা ঝামেলা এড়াতে সব তথ্য একে অপরকে জানানো একান্ত জরুরি। নাহলে তথ্য গোপন করার দায়ে স্বামীকে প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করা সহজসাধ্য হবে। এমনকী, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারা এবং ২০০৫ সালে গার্হস্থ্য হিংসার বিরুদ্ধে মেয়েদের আইনি সাহায্যের জন্য যে ব্যবস্থা প্রচলিত হয়েছে, তার মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থা একটি বিবাহকে ভেঙে দিতে পারে বা স্ত্রীকে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে স্বামী ও তার পরিবারকে আরও কঠোর শাস্তি দান করতে পারে।

বর্তমানে ভারতের আইন অনুযায়ী, বিয়ে নথিভুক্ত হওয়ার সময়ে যদি আপনার ছেলের কোনোরকম মানসিক সমস্যা না থাকে, তাহলে সেই নথিভুক্তকরণ সম্পূর্ণ বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন রোগ যা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে, তা যদি বিয়ের আগে জানিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে বিয়ে ভাঙার ক্ষেত্রে এটি কোনও গুরুতর কারণ হিসেবে গণ্য হবে না। কিন্তু সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি দাবি করে যে, সে তার স্বামীর সঙ্গে আর কোনোভাবেই বিবাহিত জীবন কাটাতে পারছে না, সেই পরিস্থিতিতে অন্যরকম কিছু সমস্যা ঘটতে পারে। তাই রোগ নির্ধারণ, তা অতীতে বা বর্তমানে যখনই হয়ে থাকুক না কেন, সেটি বিবাহবিচ্ছেদের জন্য খুব শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।

যাইহোক, কঠিন আইনের বাধা অতিক্রম করা কখনোই কোনও সম্পর্কের সফলতার ক্ষেত্রে কার্যকরী মাধ্যম নয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উপায় হল পারস্পরিক সততা বজায় রেখে বিয়ের জন্য আলাপ-আলোচনা করা। এমনকী, এই বিষয়ে সুষ্ঠভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য চিকিৎসক, বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। এই মুহূর্তে ভারতীয় আইনে প্রাতিষ্ঠানিকতা এবং বলবৎ যোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি খুবই আলোচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই দিক থেকে দেখলে একজন অসুস্থ ব্যক্তি এবং তার পরিবার সবরকম আইনি সাহায্য পাওয়ার জন্য যোগ্য।

অম্বা সালেলকার চেন্নাইয়ের একজন আইনজীবী। আইনব্যবস্থা এবং বিভিন্ন নিয়মকানুনের দুর্বলতার দিকটি চিহ্নিত করার ব্যাপারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।     

 

 

হোয়াইট সোয়ান ফাউন্ডেশন
bengali.whiteswanfoundation.org