We use cookies to help you find the right information on mental health on our website. If you continue to use this site, you consent to our use of cookies.

বাচ্চাদের এবং কিশোরদের মানসিক রোগের ওষুধের বিষয়ে আপনার যা জানা উচিত

ভয়, লজ্জা, কুন্ঠা, ভ্রান্তি, দিশেহারা ভাব, অবিশ্বাস – এই সবই অভিভাবকরা অনুভব করতে পারেন যখন তাদের সন্তানের মানসিক রোগ ধরা পড়ে। রোগ নির্ধারণের পাশাপাশি যখন ওষুধের প্রেসক্রিপশন হাতে আসে তখন বাবা-মায়েদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগতে পারেঃ

  • আমার বাচ্চাকে কি আজীবন ওষুধ খেতে হবে?

  • ওষুধের কি কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে?

  • ওষুধের কি কোনও দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে মস্তিষ্ক বা শরীরের উপর?

  • আমি কীভাবে বুঝব যে ওষুধ কাজ করছে?

  • আমি কীভাবে বুঝব যে ওষুধ কাজ করছে না?

বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতা, অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার এবং অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি)-এর মতো বিকারে নানা ধরনের ব্যবহার সংক্রান্ত সমস্যা থেরাপির সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত করা যায়। অন্যদিকে, গুরুতর অবসাদ বা আর্লি সাইকসিসের মতো মানসিক রোগে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে সমস্যা নিয়ন্ত্রিত করার জন্য ওষুধের প্রয়োজন পড়ে।

মনোবিদ ডাঃ ইশা শর্মার মতে – “এমন বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যারা এমনিতে ভালো আছে অথচ তাদের মধ্যে ব্যবহার সংক্রান্ত কোন ধরনের সমস্যা রয়েছে – যেমন আক্রমণাত্মক ব্যবহার করা – সেইসব ক্ষেত্রে ওষুধ আমাদের প্রথম সারির চিকিৎসা পদ্ধতি নাও হতে পারে। আমরা এমন ব্যবহারের উৎস বোঝার চেষ্টা করি – কখন সে আক্রমণাত্মক ব্যবহার করে, কত ঘন-ঘন এমন করে, কোন পরিস্থিতিতে এবং কার সাথে এমন করে।এইসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে আমরা বোঝার চেষ্টা করি যে পরিবেশ বা কথাবার্তার ধরনে পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনও তফাত আনা সম্ভব কী না। কিন্তু নির্ধারিত মানসিক রোগ, যেমন আর্লি অনসেট সাইকোসিস বা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে আক্রমণাত্মক ব্যবহার বিকারের একটি লক্ষণ এবং সেইসব ক্ষেত্রে ওষুধ চিকিৎসা পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।”

শিশুদের এবং ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মানসিক রোগ এবং স্নায়বিক উন্নতিগত সমস্যা (নিউরোডোভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার) নির্ধারণের জন্য আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা রয়েছে – প্র্যাকটিস প্যারামিটার্‌জ এবং ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস গাইডলাইন্স ফর এসেস্মেন্ট অফ চিলড্রেন অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্টস

এতে বলা হয়েছে যে ব্যবহার সংক্রান্ত সমস্যার জন্য মনোবিদদের বাচ্চাদের ওষুধ দেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। আরও বলা হয়েছে যে শুধুমাত্র সাইকিয়াট্রিক ওষুধ না দিয়ে নির্ধারিত রোগের উপর ভিত্তি করে বাচ্চাটির জন্য একটি সামগ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত যাতে ওষুধ কেবলমাত্র সেই অবস্থাতেই দেওয়া হবে যদি তাতে বাচ্চার দৈনন্দিন ক্রিয়াকালাপে উন্নতি ঘটে।

কিছু প্রশ্ন যা অভিভাবক এবং চিকিৎসকের আলোচনা করা উচিতঃ

  • মূল্যায়নের পরিণাম এবং কোন রোগ নির্ধারিত হয়েছে?

  • কোন লক্ষণের জন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে?

  • ওষুধ না খেলে কী ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে?

  • ওষুধের থেকে কী সুফল আশা করা যেতে পারে?

  • ওষুধের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং/বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?

প্রত্যেকটি বাচ্চার উপর ওষুধের প্রভাব আলাদা হয় এবং যে কোনও ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ে মনোবিদের সাথে আলোচনা করা উচিত যাতে তিনি ওষুধ পাল্টে দিতে পারেন বা ওষুধের ডোজ নিয়ন্ত্রিত করতে পারেন।

আপনি কি ওষুধ বন্ধ করতে পারবেন?

সাইকোসিসের মতো গুরুতর মানসিক রোগের ক্ষেত্রে সমস্যার লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাচ্চাকে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠা অবধি ওষুধ খেতে হতে পারে। হঠাৎ করে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বাচ্চা বা অভিভাবকদের নেওয়া উচিত নয়। এতে লক্ষণের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিস্থিতিতে মস্তিষ্কের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে।

স্নায়বিক উন্নতিগত বিকার যেমন এডিএইচডির ক্ষেত্রে বাবা-মা মনোবিদের সাথে অলোচনা করে জেনে নিতে পারেন যে কখন তারা ওষুধের ডোজ কমাতে পারবেন বা পুরোপুরি ভাবে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা যেতে পারে। এটা জেনে রাখা দরকার যে এডিএইচডির মতো স্নায়বিক উন্নতিগত বিকারে আক্রান্ত বাচ্চাদের সমস্যাগত লক্ষণ কমে যেতে পারে মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটার সাথে সাথে। মনোবিদরা শৈশব এবং কৈশোরে বারবার মূল্যায়ন করতে থাকেন যাতে ওষুধের ডোজ কমানো যেতে পারে বা ওষুধ পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করা যেতে পারে।

ডাঃ ইশা শর্মা, সহকারী অধ্যাপক, শিশু ও কিশোর মনোরোগ বিভাগ, নিমহ্যান্স, ব্যাঙ্গালোর-এর থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে।